12:48 am, Monday, 18 May 2026

অপহরণ ও লুটের টাকা উদ্ধার ঠেকাতে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার- অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের 

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের তেচ্ছিপুল মুন্সিপাড়ায় ঘটে যাওয়া আলোচিত অপহরণ ও ৩২ লাখ টাকা চুরির ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে।
গত ২ এপ্রিল নিজ বাড়ি থেকে ৩২ লাখ টাকাসহ অপহরণ করা হয় ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের জাফর আলমের ছেলে আনছারুল করিম নিশান নামের এক কিশোরকে।
এঘটনার পর জাফর আলম বাদী হয়ে রামু থানায় একটি মামলা করেন।
মাদ্রাসা পড়ুয়া দশম শ্রেণীর ছাত্র নিশানকে অপহরণ এবং বসতঘর থেকে নগদ ৩২ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় থানায় এজাহার দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ প্রধান অভিযুক্ত আরিফ উল্লাহকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ার যাতে ভুক্তভোগী পরিবারের লুট হওয়া বাকি টাকা উদ্ধার অভিযানে অনীহা প্রকাশ করেন, তার জন্যই এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানান জাফর আলমের স্ত্রী পারভিন আকতার।
বাদী জাফর আলম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আরিফ উল্লাহ, রাবেয়া বশরী, তৈয়ব উল্লাহ, তাহেরা বেগমসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে আনছারুল করিম নিশানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিবারের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতো। তাদের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বাদীর ভাষ্যমতে, জমি কেনার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রীর বড় বোন ইয়াছমিন আক্তার ৩২ লাখ টাকা তাদের বাড়িতে রাখেন। ওই টাকা বসতঘরের স্টিলের আলমারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
জাফর আলম জানান, গত ২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে। সে সময় বাড়িতে একা থাকা তার ছেলে আনছারুল করিম নিশানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাদী জাফর আলমের স্ত্রী পারভিন অভিযোগ তুলে বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে তারা দেখতে পান স্টিলের আলমারির তালা ভাঙা এবং ভিতরে রাখা নগদ ৩২ লাখ টাকা নেই। তার দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।”
ভিকটিম আনছারুল করিম নিশান জানান, তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে অভিযুক্তরা তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। পরে তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে একটি সাজানো ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করে সে।
এদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত আরিফ উল্লাহকে ভিকটিমের বড় ভাইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।
তবে গ্রেফতারের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করছে বলে জানান স্থানীয়রা। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে রামু থানার অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ‘মামলার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

eight + twenty =

About Author Information

Popular Post

মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুরক্ষা ও অভিবাসন সহযোগিতা নিয়ে আইওএম–বাংলাদেশ হাইকমিশনের বৈঠক

অপহরণ ও লুটের টাকা উদ্ধার ঠেকাতে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার- অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের 

Update Time : ০৯:৩৪:২২ pm, Sunday, ১৭ মে ২০২৬
কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের তেচ্ছিপুল মুন্সিপাড়ায় ঘটে যাওয়া আলোচিত অপহরণ ও ৩২ লাখ টাকা চুরির ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে।
গত ২ এপ্রিল নিজ বাড়ি থেকে ৩২ লাখ টাকাসহ অপহরণ করা হয় ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের জাফর আলমের ছেলে আনছারুল করিম নিশান নামের এক কিশোরকে।
এঘটনার পর জাফর আলম বাদী হয়ে রামু থানায় একটি মামলা করেন।
মাদ্রাসা পড়ুয়া দশম শ্রেণীর ছাত্র নিশানকে অপহরণ এবং বসতঘর থেকে নগদ ৩২ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় থানায় এজাহার দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ প্রধান অভিযুক্ত আরিফ উল্লাহকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ার যাতে ভুক্তভোগী পরিবারের লুট হওয়া বাকি টাকা উদ্ধার অভিযানে অনীহা প্রকাশ করেন, তার জন্যই এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানান জাফর আলমের স্ত্রী পারভিন আকতার।
বাদী জাফর আলম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আরিফ উল্লাহ, রাবেয়া বশরী, তৈয়ব উল্লাহ, তাহেরা বেগমসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে আনছারুল করিম নিশানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিবারের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতো। তাদের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বাদীর ভাষ্যমতে, জমি কেনার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রীর বড় বোন ইয়াছমিন আক্তার ৩২ লাখ টাকা তাদের বাড়িতে রাখেন। ওই টাকা বসতঘরের স্টিলের আলমারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
জাফর আলম জানান, গত ২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে। সে সময় বাড়িতে একা থাকা তার ছেলে আনছারুল করিম নিশানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাদী জাফর আলমের স্ত্রী পারভিন অভিযোগ তুলে বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে তারা দেখতে পান স্টিলের আলমারির তালা ভাঙা এবং ভিতরে রাখা নগদ ৩২ লাখ টাকা নেই। তার দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।”
ভিকটিম আনছারুল করিম নিশান জানান, তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে অভিযুক্তরা তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। পরে তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে একটি সাজানো ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করে সে।
এদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত আরিফ উল্লাহকে ভিকটিমের বড় ভাইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।
তবে গ্রেফতারের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করছে বলে জানান স্থানীয়রা। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে রামু থানার অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ‘মামলার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শু/সবা