রংপুর অঞ্চলে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ রোববার (১৭ মে) সকালে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনি নামে ৯ মাস বয়সী এক শিশু মারা যায়। শিশুটির বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলা শহরে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে হাসপাতালের দুটি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৪২ জন শিশু ও কিশোর চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার রোগীর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই দুই জেলায় সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থেকে আসা মোফাজ্জল হোসেন জানান, তার ১০ মাস বয়সী ছেলে আশফাক প্রথমে পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হয়। পরে নিউমোনিয়া শনাক্ত হয় এবং শরীরে র্যাশ দেখা দিলে অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে রংপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও থেকে আসা মমতাজ বেগমের এক বছর বয়সী মেয়ে আসমা সুলতানার অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা শিশুটিকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও হাসপাতালের সব আইসিইউ শয্যা পূর্ণ থাকায় তাকে সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ২০টি। কিন্তু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় একটি শয্যাতেই দুই থেকে তিনজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচালক জানান, এ পর্যন্ত ২৮২ জন হাম আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪২ জন। তিনি বলেন, শিশুদের জ্বর, নিউমোনিয়া বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত আলাদা রাখতে হবে, যাতে অন্য সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এবার শুধু শিশুই নয়, কিশোর ও বয়স্করাও হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। বর্তমানে এ ধরনের ছয়জন রোগী আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী আসছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রংপুর ব্যুরো: 





















