8:16 pm, Wednesday, 20 May 2026

রাতের আঁধারে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার হাট অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীগর্ভে বিলীনের শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আনন্দবাজার হাট শুধু একটি বাণিজ্যকেন্দ্র নয়, এটি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবিকার অন্যতম প্রধান অংশ। মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শতবর্ষী এই হাটের পাশ থেকে একটি মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। যার কারনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে তীব্র নদী ভাঙনের কবলে পড়ে যেকোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে ঐতিহাসিক এই হাট।

স্থানীয়দের দাবি, আনন্দবাজার হাট শুধু একটি বাণিজ্যকেন্দ্র নয়, এটি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবিকার অন্যতম প্রধান অংশ। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে কয়েক হাজার মানুষ এই হাটে কেনাবেচা করার জন্য আসা-যাওয়া করেন। বহু বছরের পুরোনো এই হাটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মানুষের জীবিকা।

তারা দাবি করেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতা ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানার নেতৃত্বে সোনারগাঁ ও মেঘনা উপজেলার নলচর গ্রামের রবিউল্লাহ রবিসহ শতাধিক মানুষের সিন্ডিকেট প্রতিদিন রাতের আঁধারে এই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে হবে। নদী ড্রেজিং করার জন্য দিনের বেলায় নদী বন্দরের কাটিং ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার নিয়ম। কিন্তু রাতের বেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন করতে আসলে এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করতে হবে।

আনন্দবাজার এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, নদীর তীরের খুব কাছ থেকে বালু উত্তোলন করা হলে মাটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিতে পারে। এতে হাটের দোকানপাট, সড়ক ও আশপাশের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী আরও জানান, ইতোমধ্যে নদীর পাড়ের কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কয়েক বছরের মধ্যেই আনন্দবাজার হাটের অস্তিত্ব হারিয়ে যেতে পারে। সরকার যদি নদীর বালু কাটার অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে দিনের বেলা বালু উত্তোলন করবে। রাতের আঁধারে কেন বালু কাটা হচ্ছে, এতে করে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে মুন্সিগঞ্জের চাকদা ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রাইভেট) লিমিটেড মেঘনা নদী খননের কাজ পায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সোনারগাঁয়ের মোমেন সিকদারের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদী ড্রেজিংয়ের নামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন রাতের আঁধারে ১০ থেকে ১২টি শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে আনন্দবাজার, ছনপাড়া, টেকপাড়া, খামারগাঁও ও পূর্ব দামোদরদী এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদী ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনসূত্রে জানা যায়, বিআইডব্লিউটিএ থেকে উপজেলার মেঘনা নদীর খনন কাজের ইজারা পান ব্যবসায়ী মোমেন সিকদার। পরবর্তীতে তাঁর কাছ থেকে খননের কাজটি নেন উপজেলার যুবদল নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানা। তিনি উপজেলার প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদী খননের নামে অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলন করছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও রয়েছে নীরব ভূমিকায়।

অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে মোমেন সিকদারের ছোট ভাই মামুন বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়ম অনুযায়ী ইজারাদার নদী খননের কাজ করছে। আমার বড় ভাই শুধু কাজটি দেখভাল করছেন। যদি কেউ রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু কাটে, তার দায়ভার আমাদের নয়। পারলে নিউজ করে ব্যবস্থা নেন আপনারা সাংবাদিকরা।

এ ব্যাপারে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে কাউকে পাওয়া যায় নি। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ।

এ বিষয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও যুবদল নেতা মাসুদ রানা বলেন, আমি নদী থেকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নই। সেখানে বালু কাটার জন্য আমার ড্রেজার ভাড়া দেয়া হয়েছে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাতকে ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 × 4 =

About Author Information

Popular Post

রাতের আঁধারে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন

Update Time : ০৭:৪২:৪৬ pm, Wednesday, ২০ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার হাট অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীগর্ভে বিলীনের শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আনন্দবাজার হাট শুধু একটি বাণিজ্যকেন্দ্র নয়, এটি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবিকার অন্যতম প্রধান অংশ। মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শতবর্ষী এই হাটের পাশ থেকে একটি মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। যার কারনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে তীব্র নদী ভাঙনের কবলে পড়ে যেকোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে ঐতিহাসিক এই হাট।

স্থানীয়দের দাবি, আনন্দবাজার হাট শুধু একটি বাণিজ্যকেন্দ্র নয়, এটি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবিকার অন্যতম প্রধান অংশ। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে কয়েক হাজার মানুষ এই হাটে কেনাবেচা করার জন্য আসা-যাওয়া করেন। বহু বছরের পুরোনো এই হাটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মানুষের জীবিকা।

তারা দাবি করেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতা ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানার নেতৃত্বে সোনারগাঁ ও মেঘনা উপজেলার নলচর গ্রামের রবিউল্লাহ রবিসহ শতাধিক মানুষের সিন্ডিকেট প্রতিদিন রাতের আঁধারে এই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে হবে। নদী ড্রেজিং করার জন্য দিনের বেলায় নদী বন্দরের কাটিং ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার নিয়ম। কিন্তু রাতের বেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন করতে আসলে এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করতে হবে।

আনন্দবাজার এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, নদীর তীরের খুব কাছ থেকে বালু উত্তোলন করা হলে মাটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিতে পারে। এতে হাটের দোকানপাট, সড়ক ও আশপাশের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী আরও জানান, ইতোমধ্যে নদীর পাড়ের কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কয়েক বছরের মধ্যেই আনন্দবাজার হাটের অস্তিত্ব হারিয়ে যেতে পারে। সরকার যদি নদীর বালু কাটার অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে দিনের বেলা বালু উত্তোলন করবে। রাতের আঁধারে কেন বালু কাটা হচ্ছে, এতে করে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে মুন্সিগঞ্জের চাকদা ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রাইভেট) লিমিটেড মেঘনা নদী খননের কাজ পায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সোনারগাঁয়ের মোমেন সিকদারের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদী ড্রেজিংয়ের নামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন রাতের আঁধারে ১০ থেকে ১২টি শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে আনন্দবাজার, ছনপাড়া, টেকপাড়া, খামারগাঁও ও পূর্ব দামোদরদী এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদী ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনসূত্রে জানা যায়, বিআইডব্লিউটিএ থেকে উপজেলার মেঘনা নদীর খনন কাজের ইজারা পান ব্যবসায়ী মোমেন সিকদার। পরবর্তীতে তাঁর কাছ থেকে খননের কাজটি নেন উপজেলার যুবদল নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানা। তিনি উপজেলার প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদী খননের নামে অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলন করছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও রয়েছে নীরব ভূমিকায়।

অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে মোমেন সিকদারের ছোট ভাই মামুন বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়ম অনুযায়ী ইজারাদার নদী খননের কাজ করছে। আমার বড় ভাই শুধু কাজটি দেখভাল করছেন। যদি কেউ রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু কাটে, তার দায়ভার আমাদের নয়। পারলে নিউজ করে ব্যবস্থা নেন আপনারা সাংবাদিকরা।

এ ব্যাপারে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে কাউকে পাওয়া যায় নি। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ।

এ বিষয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও যুবদল নেতা মাসুদ রানা বলেন, আমি নদী থেকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নই। সেখানে বালু কাটার জন্য আমার ড্রেজার ভাড়া দেয়া হয়েছে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাতকে ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শু/সবা