জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। তাই আন্দোলনের লড়াইও শেষ হয়নি।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই সনদ, গণভোট ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তিনি বলেন, আছিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩০ দিনের মধ্যে এবং পরে ৯০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকরের কথা বলা হলেও ছয় মাস পার হয়ে গেলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
তিনি বিএনপি ও তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা একসময় তাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু তারা যদি ছাত্রলীগ-যুবলীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় রাজনৈতিক আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের পরিণতি আরও খারাপ হবে।
সারজিস আলম বলেন, আগামীর বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন করতে দেয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরে যদি তারা পিছিয়ে যান বা কথা বলা বন্ধ করে দেন, তাহলে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা শক্তিগুলো আরও বড় স্বৈরাচারে পরিণত হবে। সেই সুযোগ আর কাউকে দেয়া যাবে না।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, বিএনপি দীর্ঘদিন পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের দাবি করলেও এখন বিচার বিভাগকে দলীয়করণের চেষ্টা করছে। সুপ্রিম কোর্টকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পৃথক সচিবালয়সংক্রান্ত আইন বাতিল করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, নতুন করে সহানুভূতির রাজনীতি ও কার্ড গেমে দেশের মানুষকে আর ফেলা যাবে না।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, হত্যাকারীরা ভারতে গ্রেপ্তার হলেও এখনো দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হয়নি। এ বিষয়ে তিনি সরকারের কাছে জবাব দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর এবং বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে বিএনপি দায় এড়াতে পারবে না।
শেষে তিনি বলেন, রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে এবং এনসিপি তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
শু/সবা
সবুজ বাংলা ডিজিটাল রিপোর্ট 





















