7:59 pm, Wednesday, 3 June 2026

বালুচরে বারি তিল চাষে বদলাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা ধূ-ধূ বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। শুষ্ক মৌসুমে যে চরে একসময় শুধু বালুর রাজত্ব ছিল, সেখানে এখন বাতাসে দুলছে উন্নত জাতের ‘বারি তিল-৪’ ও ‘বারি তিল-৬’-এর সবুজ ক্ষেত।

চরাঞ্চলের কৃষকরা ভুট্টা ঘরে তোলার পর সেই জমিতেই তিল চাষ করে পেয়েছেন বাম্পার ফলন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) সরেজমিন গবেষণা বিভাগের সহায়তায় উন্নত জাতের বারি তিল-৪ ও বারি তিল-৬ চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে সাঘাটা উপজেলার কুমারপাড়া, কালুরপাড়া, কানাইপাড়া, বেড়া, বুগারপটল ও হাটবাড়ি চরের বিস্তীর্ণ জমিতে বারি তিল-৪ ও বারি তিল-৬ জাতের তিল চাষ করা হয়েছে। এর আগে ভুট্টা তোলার পর এসব জমি পতিত পড়ে থাকত।

চলতি বছর ‘পার্টনার প্রোগ্রাম-বারি অঙ্গ’-এর আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ ও সহায়তার মাধ্যমে প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিল চাষ করা হয়, যা সফল হয়েছে। চরের বুকে তিলের এমন ফলনে আনন্দিত কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আগে ভুট্টা তোলার পর বালুচরে কীভাবে তিল চাষ করতে হয়, তা তাদের জানা ছিল না। ফলে জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকত। এবার কৃষি গবেষণা বিভাগের কাছ থেকে উন্নত জাতের বীজ ও সঠিক পরামর্শ পাওয়ায় তারা তিল চাষে আগ্রহী হয়েছেন। ফলনও হয়েছে আশাতীত ভালো।

সরেজমিন গবেষণা বিভাগের মাঠকর্মীরা জানান, গাইবান্ধা বিএআরআইয়ের তত্ত্বাবধানে ৬০০ বিঘা জমিতে বারি তিল-৪ ও বারি তিল-৬ চাষের প্রকল্প সফল হয়েছে। কৃষকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় আগামী মৌসুমে তিল চাষের পরিধি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চরাঞ্চলের পতিত জমিতে বারি তিল-৪ ও বারি তিল-৬ চাষে সার, সেচ ও কীটনাশক খুব কম লাগে। খরচ নামমাত্র হলেও সাধারণ তিলের তুলনায় ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও মাটির অনুকূল অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে তিল চাষের এই সাফল্য চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

 

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

two × 2 =

About Author Information

গুরুতর অসুস্থ ছোটপর্দার অভিনেতা আব্দুল হান্নান শেলী

বালুচরে বারি তিল চাষে বদলাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য

Update Time : ০৫:০৫:৩৮ pm, Wednesday, ৩ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা ধূ-ধূ বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। শুষ্ক মৌসুমে যে চরে একসময় শুধু বালুর রাজত্ব ছিল, সেখানে এখন বাতাসে দুলছে উন্নত জাতের ‘বারি তিল-৪’ ও ‘বারি তিল-৬’-এর সবুজ ক্ষেত।

চরাঞ্চলের কৃষকরা ভুট্টা ঘরে তোলার পর সেই জমিতেই তিল চাষ করে পেয়েছেন বাম্পার ফলন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) সরেজমিন গবেষণা বিভাগের সহায়তায় উন্নত জাতের বারি তিল-৪ ও বারি তিল-৬ চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে সাঘাটা উপজেলার কুমারপাড়া, কালুরপাড়া, কানাইপাড়া, বেড়া, বুগারপটল ও হাটবাড়ি চরের বিস্তীর্ণ জমিতে বারি তিল-৪ ও বারি তিল-৬ জাতের তিল চাষ করা হয়েছে। এর আগে ভুট্টা তোলার পর এসব জমি পতিত পড়ে থাকত।

চলতি বছর ‘পার্টনার প্রোগ্রাম-বারি অঙ্গ’-এর আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ ও সহায়তার মাধ্যমে প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিল চাষ করা হয়, যা সফল হয়েছে। চরের বুকে তিলের এমন ফলনে আনন্দিত কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আগে ভুট্টা তোলার পর বালুচরে কীভাবে তিল চাষ করতে হয়, তা তাদের জানা ছিল না। ফলে জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকত। এবার কৃষি গবেষণা বিভাগের কাছ থেকে উন্নত জাতের বীজ ও সঠিক পরামর্শ পাওয়ায় তারা তিল চাষে আগ্রহী হয়েছেন। ফলনও হয়েছে আশাতীত ভালো।

সরেজমিন গবেষণা বিভাগের মাঠকর্মীরা জানান, গাইবান্ধা বিএআরআইয়ের তত্ত্বাবধানে ৬০০ বিঘা জমিতে বারি তিল-৪ ও বারি তিল-৬ চাষের প্রকল্প সফল হয়েছে। কৃষকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় আগামী মৌসুমে তিল চাষের পরিধি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চরাঞ্চলের পতিত জমিতে বারি তিল-৪ ও বারি তিল-৬ চাষে সার, সেচ ও কীটনাশক খুব কম লাগে। খরচ নামমাত্র হলেও সাধারণ তিলের তুলনায় ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও মাটির অনুকূল অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে তিল চাষের এই সাফল্য চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

 

শু/সবা