7:15 pm, Wednesday, 3 June 2026

ডিসি-এসপি পরিচয়ে প্রতারণা, ৩৮ সিমসহ গ্রেপ্তার যুবক

নিজেকে কখনো জেলা প্রশাসক (ডিসি), কখনো পুলিশ সুপার (এসপি), আবার কখনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নাইম হোসেন (২৮) নামের এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৩৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত নাইম হোসেন বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার নামা পোওতা গ্রামের বাসিন্দা।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে এক হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন নাইম। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যবসায়ীর ওষুধ সেবনের ফলে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা এড়াতে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে।
মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখানো হলে আতঙ্কিত ব্যবসায়ী নগদ অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। একই কৌশলে গত ৩০ মে তিনি নিজেকে সিআইডির এক পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে অপর এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ তুলে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নজরে এলে তিনি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশ সুপারের আইসিটি শাখাকে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে সান্তাহার এলাকা থেকে নাইম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, তিনটি সচল সিমসহ মোট ৩৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। এসব সিম ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণা করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে নাইম দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সাথে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
শু/মবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

five × 5 =

About Author Information

গুরুতর অসুস্থ ছোটপর্দার অভিনেতা আব্দুল হান্নান শেলী

ডিসি-এসপি পরিচয়ে প্রতারণা, ৩৮ সিমসহ গ্রেপ্তার যুবক

Update Time : ০৬:৪৪:৫১ pm, Wednesday, ৩ জুন ২০২৬
নিজেকে কখনো জেলা প্রশাসক (ডিসি), কখনো পুলিশ সুপার (এসপি), আবার কখনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নাইম হোসেন (২৮) নামের এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৩৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত নাইম হোসেন বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার নামা পোওতা গ্রামের বাসিন্দা।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে এক হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন নাইম। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যবসায়ীর ওষুধ সেবনের ফলে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা এড়াতে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে।
মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখানো হলে আতঙ্কিত ব্যবসায়ী নগদ অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। একই কৌশলে গত ৩০ মে তিনি নিজেকে সিআইডির এক পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে অপর এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ তুলে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নজরে এলে তিনি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশ সুপারের আইসিটি শাখাকে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে সান্তাহার এলাকা থেকে নাইম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, তিনটি সচল সিমসহ মোট ৩৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। এসব সিম ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণা করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে নাইম দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সাথে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
শু/মবা