10:44 pm, Wednesday, 24 June 2026

খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার আরও এক শিশু, গ্রেপ্তার মসজিদের ইমাম

ময়মনসিংহের ত্রিশালে মসজিদের ইমামের জন্য খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে ১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইমাম মো. ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তিন দিনের ব্যবধানে একই উপজেলায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দ্বিতীয়বার কোনো মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিপাড়া (পাঁচ রাস্তার মোড়) এলাকার খালেক মণ্ডল জামে মসজিদ থেকে অভিযুক্ত ইমাম মো. ইব্রাহিমকে আটক করেন স্থানীয়রা।  আটকের পর উপস্থিত লোকজনের প্রশ্নের মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তি মূলক বক্তব্য দেন। যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় অভিযুক্ত ইমাম ঐ শিশুকে একদিন ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করছে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে থানা হেফাজতে নেয়। তাঁর বাড়ি উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হরিরামপুর বাজার এলাকায়।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি নিয়মিত ইমামের জন্য নির্ধারিত খাবার পৌঁছে দিত। গত শুক্রবার(১৯ জুন) খাবার দিতে গিয়ে মসজিদেই সে ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ভয় ও লজ্জায় বিষয়টি কাউকে না জানালেও পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে খুলে বলে। এরপর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা অভিযুক্ত ইমামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ইমামকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে।
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রেজাউল করিম শান্ত বলেন, “গণপিটুনির শিকার এক ব্যক্তিকে ত্রিশাল থানা-পুলিশ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ বলেন, “ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, শিশুটি ইমামের জন্য নির্ধারিত খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

three × three =

About Author Information

সবচেয়ে বড় বাজেট নয়, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট: নাজিবুর রহমান

খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার আরও এক শিশু, গ্রেপ্তার মসজিদের ইমাম

Update Time : ০৭:৫১:৩৪ pm, Tuesday, ২৩ জুন ২০২৬
ময়মনসিংহের ত্রিশালে মসজিদের ইমামের জন্য খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে ১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইমাম মো. ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তিন দিনের ব্যবধানে একই উপজেলায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দ্বিতীয়বার কোনো মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিপাড়া (পাঁচ রাস্তার মোড়) এলাকার খালেক মণ্ডল জামে মসজিদ থেকে অভিযুক্ত ইমাম মো. ইব্রাহিমকে আটক করেন স্থানীয়রা।  আটকের পর উপস্থিত লোকজনের প্রশ্নের মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তি মূলক বক্তব্য দেন। যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় অভিযুক্ত ইমাম ঐ শিশুকে একদিন ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করছে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে থানা হেফাজতে নেয়। তাঁর বাড়ি উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হরিরামপুর বাজার এলাকায়।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি নিয়মিত ইমামের জন্য নির্ধারিত খাবার পৌঁছে দিত। গত শুক্রবার(১৯ জুন) খাবার দিতে গিয়ে মসজিদেই সে ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ভয় ও লজ্জায় বিষয়টি কাউকে না জানালেও পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে খুলে বলে। এরপর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা অভিযুক্ত ইমামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ইমামকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে।
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রেজাউল করিম শান্ত বলেন, “গণপিটুনির শিকার এক ব্যক্তিকে ত্রিশাল থানা-পুলিশ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ বলেন, “ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, শিশুটি ইমামের জন্য নির্ধারিত খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে।
শু/সবা