দেশে ও বিদেশে সঠিক, পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য তথ্যের অভাবে বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে তার প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অবৈধ অর্থপ্রবাহ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জিডিপির ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয়ের ১১ দশমিক ২ শতাংশের সমান।
১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা চিহ্নিত
অর্থমন্ত্রী জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসব মামলার মধ্যে রয়েছে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার, নাবিল গ্রুপ, এইচবিএম ইকবাল এবং সামিট গ্রুপ।
৭৬ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ
তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে গঠিত যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রমের মাধ্যমে চলতি বছরের মে পর্যন্ত দেশে ও বিদেশে প্রায় ৭৬ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আদালতের মাধ্যমে সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে এখন পর্যন্ত ১৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি মামলার চার্জশিট দাখিল এবং ছয়টি মামলার রায় হয়েছে।
বিশেষায়িত সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা
অর্থমন্ত্রী জানান, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অধীনে স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আদলে একটি বিশেষায়িত সংস্থা গঠনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে
তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘের স্টার ইনিশিয়েটিভ, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কার্যকর তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশ গ্লোবই নেটওয়ার্ক ও এরিন-এপি’র সদস্যপদ অর্জন করেছে।
‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আইনজীবী নিয়োগ
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি দেওয়ানি পদ্ধতিতেও অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে নয়টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রথম ধাপে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শু/সবা
নিজস্ব প্রতিবেদক: 






















