দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর একটি ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। রোববার (২৮ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।
বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জৌন শহরে অবস্থিত ৬৫৬ ফুট দীর্ঘ একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, সুড়ঙ্গটি হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং অস্ত্রের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চালিয়ে ওই সুড়ঙ্গ থেকে শত শত আগ্নেয়াস্ত্র ও রকেট লঞ্চার জব্দ করা হয়েছে।
এর মাত্র একদিন আগে, ২৭ জুন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অন্যতম শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তের লেবানন অংশ থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।
তবে চুক্তিতে আরও উল্লেখ ছিল, সীমান্তের কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। সেই প্রেক্ষাপটেই রোববার গভীর রাতে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আইডিএফ।
এদিকে সোমবার ভোরে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এ অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির দাবি, মাজদাল জৌনে আইডিএফের অভিযান ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’।
হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম সীমান্ত নিরাপত্তা চুক্তিকে ‘আত্মসমর্পণের চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে বলেন,
“মাতৃভূমি লেবানন এবং লেবাননের জনগণকে রক্ষার অধিকার হিজবুল্লাহর আছে এবং হিজবুল্লাহ পিছু হটবে না।”
চুক্তি সত্ত্বেও সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
শু/সবা
সবুজ বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















