9:37 pm, Tuesday, 7 July 2026

১৭ জেলায় বন্যার শঙ্কা, এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে যা জানালেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক

দেশজুড়ে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের চার বিভাগের ১৭টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হবে কি না, তা নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যা বা যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু বলেন, পরীক্ষা পরিচালনার জন্য বোর্ডের বিশেষ প্রস্তুতি রয়েছে। তবে পরীক্ষা স্থগিত বা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশনা দেবেন, বোর্ড সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বা অন্য কোনো অঞ্চলে পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের সংলগ্ন উজান এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

অন্যদিকে, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানিও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী কয়েক দিনে আবারও পানি বাড়তে পারে। তবে আপাতত এসব নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

eighteen − 11 =

About Author Information

Popular Post

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে ন্যাটোর হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি ঘোষণা

১৭ জেলায় বন্যার শঙ্কা, এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে যা জানালেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক

Update Time : ০৫:৪৯:০৫ pm, Tuesday, ৭ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের চার বিভাগের ১৭টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হবে কি না, তা নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যা বা যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু বলেন, পরীক্ষা পরিচালনার জন্য বোর্ডের বিশেষ প্রস্তুতি রয়েছে। তবে পরীক্ষা স্থগিত বা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশনা দেবেন, বোর্ড সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বা অন্য কোনো অঞ্চলে পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের সংলগ্ন উজান এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

অন্যদিকে, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানিও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী কয়েক দিনে আবারও পানি বাড়তে পারে। তবে আপাতত এসব নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।