০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
‘কে আমায় বাবা বলে ডাকবে?

সন্তানাদিসহ পরিবারের ১০৩ সদস্য হারিয়ে পিতার আর্তনাদ

◉ নিহতদের মধ্যে ছিল ৯৮ বছরের প্রবীণ, মাত্র ৯ দিন বয়সি শিশুও
◉ দূতাবাসের সামনে শরীরে আগুন দেওয়া সেই মার্কিন সেনার মৃত্যু
◉ রমজানে গাজায় হামলা করবে না ইসরায়েল : বাইডেন
◉ গাজায় ‘পুরো বিশৃঙ্খল’ পরিস্থিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী

‘কে আমায় বাবা বলে ডাকবে? কে বলবে প্রিয়তম? গাজায় আমার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে, কার জন্য সেখানে ফিরে যাব?’ এমন জিজ্ঞাসা ফিলিস্তিনের গাজা নগরীর বাসিন্দা আহমাদ আল-ঘুফরির। গত ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় মা, স্ত্রী, সন্তানাদিসহ ১০৩ জন স্বজনের মৃত্যু হয়েছে তার। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৮ বছরের প্রবীণ থেকে মাত্র ৯ দিন বয়সি শিশুও ছিল। ওই সময় সেখান থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজে ছিলেন আহমাদ। সন্তানদের ছবি দেখলেই মুষড়ে পড়েন আহমাদ। কিছুতেই তিনি শোক সামাল দিতে পারেন না। মর্ম-যাতনা থেকে বাঁচতে তিনি সন্তানদের ছবি মুঠোফোন ও ল্যাপটপের পর্দা থেকে সরিয়ে ফেলেছেন। এর পরও স্ত্রী-সন্তান-স্বজন হারানোর শোক তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
আহমাদ জানান, গত ৭ অক্টোবর গাজায় হামলা শুরুর পর থেকে তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতেন। তবে ঠিকঠাক নেটওয়ার্ক না পাওয়ায় অনেক সময় কথা বলা সম্ভব হতো না। ঘটনার সন্ধ্যায় আমার চাচার চারতলা বাড়ির ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান চক্কর দিতে থাকে। আমি তখন মুঠোফোনে স্ত্রী শিরিনের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তখন শিরিন ক্ষমা চেয়ে বলে, কোনো ভুল করে থাকলে ক্ষমা করে দিয়ো। আমরা নিশ্চিত মারা যাব। জবাবে তাকে বলেছি, ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এটাই ছিল আমাদের শেষ কথোপকথন। আমার মেয়েরা ছিল ছোট্ট পাখির মতো। আমার এখনো মনে হয়, আমি একটি দুঃস্বপ্ন দেখছি। জীবনে যা ঘটে গেল, তা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না।

ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ যাওয়া ১০৩ জন স্বজনের মধ্যে আহমাদের স্ত্রী শিরিন ও ছোট তিন মেয়েÑ তালা, লানা ও নাজলা রয়েছে। স্ত্রী-সন্তান-স্বজনদের মরদেহ দেখতে পারেননি আহমাদ। এর কারণ, ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীর অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল। জেরিকো থেকে গাজা নগরীতে যেতে পারেননি আহমাদ। তিনি এখনো জেরিকোতেই আছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ আহমাদের এক দাদি। তার বয়স ৯৮ বছর। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরো আছেন আহমাদের মা, চার ভাই ও তাদের স্ত্রী-সন্তানেরা, ফুফু, চাচা ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও।
হামলা থেকে বেঁচে গেছেন আহমাদের স্বজন হামিদ আল-ঘুফরি। তিনি বলেন, হামলার ঘটনার দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এখনো অনেক স্বজনের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে। সবশেষ হামলার ৭৫ দিনের মাথায় চারজন স্বজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যখন বিমান হামলা শুরু হয়, তখন যারা পাহাড়ের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যান, তারা প্রাণে বেঁচে গেছেন। যারা ভবনের ভেতর আশ্রয় নিয়েছিলেন, তারা সবাই মারা গেছেন। বিমান হামলা চালিয়ে সেখানকার চারটি বহুতল ভবন ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১০ মিনিট পরপর ভবন ৪টিতে বিমান হামলা চালানো হয়।

দূতাবাসের সামনে শরীরে আগুন দেওয়া সেই মার্কিন সেনার মৃত্যুইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে মারা গেছেন ২৫ বছর বয়সি অ্যারন বুশনেল নামের যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর এক সদস্য। টেক্সাসের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। মার্কিন বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং টুইচে ক্লান্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তিনি আর গণহত্যার মতো অপরাধে নিজেকে জড়াতে চান না। এরপরই তিনি নিজের শরীরে তরলজাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরান। আগুন দেওয়ার সময় তাকে ‘ফ্রি ফিলিস্তিন বা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’ স্লোগান দিতে শোনা গেছে। গত রোববার স্থানীয় সময় বিকালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই সেনাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেখানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গতকাল সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ। এর আগে ইসরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, ওই ব্যক্তি শরীরে আগুন দেওয়ার সময় দূতাবাসের কেউ আহত হননি।

রমজানে গাজায় হামলা করবে না ইসরায়েল :
মুসলিমদের পবিত্র মাস রমজানে গাজায় সামরিক হামলা চালাবে না ইসরায়েল, এমনটাই দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে গাজায়, এর ফলে বৈশ্বিক সমর্থন হারাতে পারে ইসরায়েল। আগামী সোমবার নাগাদ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা আছে। এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র পাবেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রচার হওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তবে এর আগে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রসঙ্গ উঠলে তা নাকচ করে দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।

এরই মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে হামাসের কাছে, এবং তারা এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। বন্দি বিনিময় এবং যুদ্ধবিরতি ছাড়াও গাজায় হাসপাতাল এবং বেকারি মেরামতের সুযোগ দেওয়া হবে এবং প্রতিদিন গাজায় ত্রাণ নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে ৫০০টি ট্রাক। যুদ্ধবিরতির সাম্প্রতিক এ প্রস্তাবনায় বলা হয়, প্রতি ১০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তির বিপরীতে একজন ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তি দেওয়া হবে। নারী, শিশু, পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রবীণ, এবং অসুস্থ ৪০ জন জিম্মির মুক্তি দেবে হামাস, অন্যদিকে ইসরায়েল ৪০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্ত করবে এবং তাদের পুনরায় গ্রেপ্তার করবে না।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় ‘পুরো বিশৃঙ্খল’ : সাবেক ইসরায়েলি মেজর জেনারেল ইতজাক ব্রিক বলেছেন, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘পুরো বিশৃঙ্খল’ পরিস্থিতিতে রয়েছে। সেখানে যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও লজিস্টিক পরিষেবার ভেঙে পড়েছে। আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, রসদ, খাবার এবং সবকিছুই কাজ করছে না। কারণ সেনাবাহিনী সবকিছু প্রাইভেট কোম্পানির কাছে অর্পণ করেছে। এতে পুরো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ট্যাঙ্কগুলো মেরামতের কেউ নেই। গাজা উপত্যকায় কয়েক ডজন ট্যাঙ্ক প্রত্যাহারের অপেক্ষায় আটকে আছে। অবশ্যই মিডিয়া এই বিষয়ে কথা বলে না। তবে সরঞ্জামগুলো কাজ করছে না। তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘কে আমায় বাবা বলে ডাকবে?

সন্তানাদিসহ পরিবারের ১০৩ সদস্য হারিয়ে পিতার আর্তনাদ

আপডেট সময় : ০৭:১৩:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

◉ নিহতদের মধ্যে ছিল ৯৮ বছরের প্রবীণ, মাত্র ৯ দিন বয়সি শিশুও
◉ দূতাবাসের সামনে শরীরে আগুন দেওয়া সেই মার্কিন সেনার মৃত্যু
◉ রমজানে গাজায় হামলা করবে না ইসরায়েল : বাইডেন
◉ গাজায় ‘পুরো বিশৃঙ্খল’ পরিস্থিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী

‘কে আমায় বাবা বলে ডাকবে? কে বলবে প্রিয়তম? গাজায় আমার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে, কার জন্য সেখানে ফিরে যাব?’ এমন জিজ্ঞাসা ফিলিস্তিনের গাজা নগরীর বাসিন্দা আহমাদ আল-ঘুফরির। গত ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় মা, স্ত্রী, সন্তানাদিসহ ১০৩ জন স্বজনের মৃত্যু হয়েছে তার। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৮ বছরের প্রবীণ থেকে মাত্র ৯ দিন বয়সি শিশুও ছিল। ওই সময় সেখান থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজে ছিলেন আহমাদ। সন্তানদের ছবি দেখলেই মুষড়ে পড়েন আহমাদ। কিছুতেই তিনি শোক সামাল দিতে পারেন না। মর্ম-যাতনা থেকে বাঁচতে তিনি সন্তানদের ছবি মুঠোফোন ও ল্যাপটপের পর্দা থেকে সরিয়ে ফেলেছেন। এর পরও স্ত্রী-সন্তান-স্বজন হারানোর শোক তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
আহমাদ জানান, গত ৭ অক্টোবর গাজায় হামলা শুরুর পর থেকে তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতেন। তবে ঠিকঠাক নেটওয়ার্ক না পাওয়ায় অনেক সময় কথা বলা সম্ভব হতো না। ঘটনার সন্ধ্যায় আমার চাচার চারতলা বাড়ির ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান চক্কর দিতে থাকে। আমি তখন মুঠোফোনে স্ত্রী শিরিনের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তখন শিরিন ক্ষমা চেয়ে বলে, কোনো ভুল করে থাকলে ক্ষমা করে দিয়ো। আমরা নিশ্চিত মারা যাব। জবাবে তাকে বলেছি, ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এটাই ছিল আমাদের শেষ কথোপকথন। আমার মেয়েরা ছিল ছোট্ট পাখির মতো। আমার এখনো মনে হয়, আমি একটি দুঃস্বপ্ন দেখছি। জীবনে যা ঘটে গেল, তা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না।

ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ যাওয়া ১০৩ জন স্বজনের মধ্যে আহমাদের স্ত্রী শিরিন ও ছোট তিন মেয়েÑ তালা, লানা ও নাজলা রয়েছে। স্ত্রী-সন্তান-স্বজনদের মরদেহ দেখতে পারেননি আহমাদ। এর কারণ, ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীর অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল। জেরিকো থেকে গাজা নগরীতে যেতে পারেননি আহমাদ। তিনি এখনো জেরিকোতেই আছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ আহমাদের এক দাদি। তার বয়স ৯৮ বছর। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরো আছেন আহমাদের মা, চার ভাই ও তাদের স্ত্রী-সন্তানেরা, ফুফু, চাচা ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও।
হামলা থেকে বেঁচে গেছেন আহমাদের স্বজন হামিদ আল-ঘুফরি। তিনি বলেন, হামলার ঘটনার দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এখনো অনেক স্বজনের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে। সবশেষ হামলার ৭৫ দিনের মাথায় চারজন স্বজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যখন বিমান হামলা শুরু হয়, তখন যারা পাহাড়ের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যান, তারা প্রাণে বেঁচে গেছেন। যারা ভবনের ভেতর আশ্রয় নিয়েছিলেন, তারা সবাই মারা গেছেন। বিমান হামলা চালিয়ে সেখানকার চারটি বহুতল ভবন ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১০ মিনিট পরপর ভবন ৪টিতে বিমান হামলা চালানো হয়।

দূতাবাসের সামনে শরীরে আগুন দেওয়া সেই মার্কিন সেনার মৃত্যুইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে মারা গেছেন ২৫ বছর বয়সি অ্যারন বুশনেল নামের যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর এক সদস্য। টেক্সাসের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। মার্কিন বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং টুইচে ক্লান্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তিনি আর গণহত্যার মতো অপরাধে নিজেকে জড়াতে চান না। এরপরই তিনি নিজের শরীরে তরলজাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরান। আগুন দেওয়ার সময় তাকে ‘ফ্রি ফিলিস্তিন বা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’ স্লোগান দিতে শোনা গেছে। গত রোববার স্থানীয় সময় বিকালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই সেনাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেখানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গতকাল সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ। এর আগে ইসরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, ওই ব্যক্তি শরীরে আগুন দেওয়ার সময় দূতাবাসের কেউ আহত হননি।

রমজানে গাজায় হামলা করবে না ইসরায়েল :
মুসলিমদের পবিত্র মাস রমজানে গাজায় সামরিক হামলা চালাবে না ইসরায়েল, এমনটাই দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে গাজায়, এর ফলে বৈশ্বিক সমর্থন হারাতে পারে ইসরায়েল। আগামী সোমবার নাগাদ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা আছে। এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র পাবেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রচার হওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তবে এর আগে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রসঙ্গ উঠলে তা নাকচ করে দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।

এরই মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে হামাসের কাছে, এবং তারা এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। বন্দি বিনিময় এবং যুদ্ধবিরতি ছাড়াও গাজায় হাসপাতাল এবং বেকারি মেরামতের সুযোগ দেওয়া হবে এবং প্রতিদিন গাজায় ত্রাণ নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে ৫০০টি ট্রাক। যুদ্ধবিরতির সাম্প্রতিক এ প্রস্তাবনায় বলা হয়, প্রতি ১০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তির বিপরীতে একজন ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তি দেওয়া হবে। নারী, শিশু, পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রবীণ, এবং অসুস্থ ৪০ জন জিম্মির মুক্তি দেবে হামাস, অন্যদিকে ইসরায়েল ৪০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্ত করবে এবং তাদের পুনরায় গ্রেপ্তার করবে না।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় ‘পুরো বিশৃঙ্খল’ : সাবেক ইসরায়েলি মেজর জেনারেল ইতজাক ব্রিক বলেছেন, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘পুরো বিশৃঙ্খল’ পরিস্থিতিতে রয়েছে। সেখানে যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও লজিস্টিক পরিষেবার ভেঙে পড়েছে। আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, রসদ, খাবার এবং সবকিছুই কাজ করছে না। কারণ সেনাবাহিনী সবকিছু প্রাইভেট কোম্পানির কাছে অর্পণ করেছে। এতে পুরো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ট্যাঙ্কগুলো মেরামতের কেউ নেই। গাজা উপত্যকায় কয়েক ডজন ট্যাঙ্ক প্রত্যাহারের অপেক্ষায় আটকে আছে। অবশ্যই মিডিয়া এই বিষয়ে কথা বলে না। তবে সরঞ্জামগুলো কাজ করছে না। তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানান।