১১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

 নওগাঁর রাণীনগরে সরকারি ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ইট ভাটা

নওগাঁর রাণীনগরে বছরের পর বছর সরকারী অনুমতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ইট ভাটা। অনেক ভাটার চিমনি ছোট হওয়ার কারণে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে অপরদিকে ভাটার কারণে চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ফসলী জমি। দ্রুত সকল অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছে সচেতন মহল।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ২০৪টি ইট ভাটা রয়েছে যার মধ্যে ২১টি ভাটার সকল বৈধ কাগপত্রাদি রয়েছে। বাকি কোন ভাটারই বৈধ কাগজপত্রাদি নেই। এর মধ্যে রাণীনগর উপজেলায় রয়েছে ১১টি ভাটা যার একটিরও কোন বৈধ কাগজপত্রাদি নেই। ভাটাগুলো রাণীনগর-আত্রাই সড়কের পাশে জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে অবস্থিত। আনুমানিক প্রতি এক কিলোমিটারের মধ্যে দুটি করে ভাটা অবস্থিত। ফলে ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ভাটার আশেপাশের জমিতে ফসলের উৎপাদন যেমন কমেছে তেমনি ভাবে বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ের প্রার্দুভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে যে সকল ভাটার চিমনি ছোট সেই ভাটার দ্বারা পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
উপজেলার চকমনু গ্রামের রইচ উদ্দিন বলেন আমাদের গ্রামের আশেপাশে দুটি ইট ভাটা রয়েছে। যে ভাটাগুলোর বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে বছরের পর বছর আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। ভাটার ধোঁয়ার কারণে বিভিন্ন ফলজগাছের ফলন কমেছে। জমিতে ফসলের উৎপাদন কমেছে। এছাড়া মানুষসহ অন্যান্য গবাদিপশুর বিভিন্ন রোগ-বালাই লেগেই আছে। আবার ভাটার বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দিলে ভাটার আশেপাশে থাকা জমির সকল ফসল পুড়ে যায়। প্রতিবাদ করেও কোন লাভ হয়নি।
উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের আরিফ হোসেন বলেন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভাটার কারণে আমরা সব সময় ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে দিনে ও রাতে ভাটার মাটি বহনের ট্রাক্টরের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। এছাড়া প্রতিদিনই ভাটার পেটে যাচ্ছে ফসলী জমির মাটি। মাটি খেকোদের পাল্লায় পড়ে তিন ফসলী জমিগুলো টপ সয়েল হারিয়ে চাষাবাদের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে। দ্রুত পরিবেশের ক্ষতিকারক এই সকল অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিবেশবান্ধব ভাটা স্থাপন কিংবা রূপান্তর করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
উপজেলার দ্বীপ ভাটার মালিক আব্দুস ছাত্তার শাহ বলেন আমি ভাটা ব্যবসায় নতুন মানুষ। এই জগতে এসে দেখছি যে ভাটার কাগজপত্রাদি করা খুবই জটিল কাজ। বিভিন্ন অফিসে গেলে হয়রানীর শেষ থাকে না। তবুও আমি আমার ভাটার বৈধ কাগজপত্রাদি করার প্রসেস অব্যাহত রেখেছি।
উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিডিসিও ইটভাটার মালিক সাইদুর রহমান বলেন ভাটার ছাড়পত্র নিতে নানা জটিলতার সম্মুখিন হতে হয়। তাই গত ২০১৭সালের পর থেকে কোন ভাটারই কাগজপত্রাদি নতুন করে নবায়ন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আবার অনেকেই নবায়ন করার আবেদনও দিয়ে রেখেছে। তবে আমরা নিয়মিত সরকারকে ভ্যাট দিয়ে আসছি। সমিতির পক্ষ থেকে সকল ভাটা মালিককে বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করার জন্য তাগাদা প্রদান করা হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. মলিন মিয়া বলেন ইতিমধ্যেই আমরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় স্থাপিত অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে সেই অবৈধ ভাটাগুলো গুড়িয়ে দিয়েছি। পাশাপাশি মালিকদের অর্থদন্ডও প্রদান করা হয়েছে। যে ভাটাগুলোর বৈধ কাগজপত্রাদি নেই সেই সকল ভাটার বিরুদ্ধে আবারো অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এই ধরণের অভিযান সব সময় অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

আপিল শুনানির অষ্টম দিনে ৪৫ আবেদন মঞ্জুর করল ইসি

 নওগাঁর রাণীনগরে সরকারি ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ইট ভাটা

আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪
নওগাঁর রাণীনগরে বছরের পর বছর সরকারী অনুমতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ইট ভাটা। অনেক ভাটার চিমনি ছোট হওয়ার কারণে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে অপরদিকে ভাটার কারণে চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ফসলী জমি। দ্রুত সকল অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছে সচেতন মহল।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ২০৪টি ইট ভাটা রয়েছে যার মধ্যে ২১টি ভাটার সকল বৈধ কাগপত্রাদি রয়েছে। বাকি কোন ভাটারই বৈধ কাগজপত্রাদি নেই। এর মধ্যে রাণীনগর উপজেলায় রয়েছে ১১টি ভাটা যার একটিরও কোন বৈধ কাগজপত্রাদি নেই। ভাটাগুলো রাণীনগর-আত্রাই সড়কের পাশে জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে অবস্থিত। আনুমানিক প্রতি এক কিলোমিটারের মধ্যে দুটি করে ভাটা অবস্থিত। ফলে ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ভাটার আশেপাশের জমিতে ফসলের উৎপাদন যেমন কমেছে তেমনি ভাবে বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ের প্রার্দুভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে যে সকল ভাটার চিমনি ছোট সেই ভাটার দ্বারা পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
উপজেলার চকমনু গ্রামের রইচ উদ্দিন বলেন আমাদের গ্রামের আশেপাশে দুটি ইট ভাটা রয়েছে। যে ভাটাগুলোর বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে বছরের পর বছর আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। ভাটার ধোঁয়ার কারণে বিভিন্ন ফলজগাছের ফলন কমেছে। জমিতে ফসলের উৎপাদন কমেছে। এছাড়া মানুষসহ অন্যান্য গবাদিপশুর বিভিন্ন রোগ-বালাই লেগেই আছে। আবার ভাটার বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দিলে ভাটার আশেপাশে থাকা জমির সকল ফসল পুড়ে যায়। প্রতিবাদ করেও কোন লাভ হয়নি।
উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের আরিফ হোসেন বলেন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভাটার কারণে আমরা সব সময় ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে দিনে ও রাতে ভাটার মাটি বহনের ট্রাক্টরের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। এছাড়া প্রতিদিনই ভাটার পেটে যাচ্ছে ফসলী জমির মাটি। মাটি খেকোদের পাল্লায় পড়ে তিন ফসলী জমিগুলো টপ সয়েল হারিয়ে চাষাবাদের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে। দ্রুত পরিবেশের ক্ষতিকারক এই সকল অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিবেশবান্ধব ভাটা স্থাপন কিংবা রূপান্তর করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
উপজেলার দ্বীপ ভাটার মালিক আব্দুস ছাত্তার শাহ বলেন আমি ভাটা ব্যবসায় নতুন মানুষ। এই জগতে এসে দেখছি যে ভাটার কাগজপত্রাদি করা খুবই জটিল কাজ। বিভিন্ন অফিসে গেলে হয়রানীর শেষ থাকে না। তবুও আমি আমার ভাটার বৈধ কাগজপত্রাদি করার প্রসেস অব্যাহত রেখেছি।
উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিডিসিও ইটভাটার মালিক সাইদুর রহমান বলেন ভাটার ছাড়পত্র নিতে নানা জটিলতার সম্মুখিন হতে হয়। তাই গত ২০১৭সালের পর থেকে কোন ভাটারই কাগজপত্রাদি নতুন করে নবায়ন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আবার অনেকেই নবায়ন করার আবেদনও দিয়ে রেখেছে। তবে আমরা নিয়মিত সরকারকে ভ্যাট দিয়ে আসছি। সমিতির পক্ষ থেকে সকল ভাটা মালিককে বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করার জন্য তাগাদা প্রদান করা হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. মলিন মিয়া বলেন ইতিমধ্যেই আমরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় স্থাপিত অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে সেই অবৈধ ভাটাগুলো গুড়িয়ে দিয়েছি। পাশাপাশি মালিকদের অর্থদন্ডও প্রদান করা হয়েছে। যে ভাটাগুলোর বৈধ কাগজপত্রাদি নেই সেই সকল ভাটার বিরুদ্ধে আবারো অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এই ধরণের অভিযান সব সময় অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি জানান।