কদিন আগেই মিয়ানমারে এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের সফল অভিযান সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ নারী দল। নতুন ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। সেই দলের অনেকেই এবার খেলবেন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে। তবে কোচ পিটার বাটলারের জন্য এটা নতুন ঋতুপর্ণা খোঁজার মঞ্চ। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে সাধারণত জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের খুব একটা দেখা যায় না। সেখানে বাংলাদেশ দলে খেলবেন সদ্য জাতীয় দলে খেলা ৭ জন খেলোয়াড়। এরমধ্যে রয়েছেন খোদ অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারও। তাই এই টুর্নামেন্ট নতুনদের যাচাই করার সুযোগ খুব একটা থাকছে না। তবে কোচ বাটলার বললেন ভিন্ন কথা। গতকাল গণমাধ্যমে বলেন, ‘এই ধরনের টুর্নামেন্টগুলো দারুণ। আফ্রিকাতেও আমি এই ধরনের টুর্নামেন্ট খেলেছি-কোসাফা। যা অনেকটা সাফের মতোই। আগেও বলেছি এই টুর্নামেন্টগুলো নিজের নাম তৈরি করার সুযোগ দেয়। এখান থেকেই আপনি পরবর্তী ঋতুপর্ণা চাকমা ও মনিকা চাকমা পাবেন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ফুটবলের বিকাশ ও উন্নতির জন্য যা খুবই মূল্যবান। খেলোয়াড়েরা এখানে আত্মবিশ্বাস ও ম্যাচ টাইম পায় যা জাতীয় দলে পায় না। যেমনটা আগেও বলেছি তরুণদের খেলানোর ঝুঁকির ব্যাপারে কোচ হিসেবে আপনি কতটা সাহসী সেটার ওপর নির্ভর করছে সবকিছু,’-যোগ করেন এই ইংলিশ কোচ।
তবে ঠিক কাকে পরবর্তী ঋতুপর্ণার মতো দেখছেন তা উল্লেখ করেননি এই কোচ, ‘আমি নির্দিষ্ট কাউকে নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি না। আমাদের দলে সত্যিই বেশ কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। যারা কি না উন্নতির যাত্রা শুরু করেছে। আমি নিশ্চিত নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাও একই পরিস্থিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তারা আসলে এখানে উন্নতি করতে এসেছে।’
এই আসরে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন বাটলার, ‘যেকোনো মূল্যে জিততে হবে- আমি এমনটা বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি এবং আমি নিশ্চিত, এখানে থাকা অন্য কোচরাও একমত হবেন, এই টুর্নামেন্ট তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশ এবং তাদের গেমটাইম দেওয়ার জন্য। যেন তারা পরবর্তীতে সিনিয়র জাতীয় দলে খেলার পথে এগিয়ে যেতে পারে।’
জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় থাকলেও এই আসরে নতুনদের ভালো সুযোগ দিবেন তার ইঙ্গিত দিয়ে এই কোচ আরও বলেন, ‘আমার চোখে খেলোয়াড় গড়ে তোলার জন্য এটি দারুণ একটি টুর্নামেন্ট, তরুণ খেলোয়াড়দের জাত চেনানোর দারুণ এক সুযোগ। তাই আমি মুখিয়ে আছি তারা কী করতে পারে এটা দেখতে।’
আফঈদা খন্দকারকে জিঙ্গাসা করা হয় এই দলের কোন খেলোয়াড় ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনাময়। পরিপক্ক উত্তরই দিলেন, ‘এই দলের ২৩ জনই প্রতিভাবান।’ রাউন্ড অব রবিন লিগ হওয়ায় তিনি প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্ব সহকারে খেলবেন। বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করাই অধিনায়কের লক্ষ্যে।
ভুটানের কোচ থানকা মায়া ঘালি সম্মেলনের শুরুতে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান এশিয়া কাপে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়ায়। লঙ্কান কোচ শ্রীনাথা কুমারা সরাসরি বাংলাদেশকে এই টুর্নামেন্টের ফেভারিট ও শিরোপার দাবিদার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সফরকারী তিন দলের মধ্যে নেপালই শুধু শিরোপার আশা ব্যক্ত করলেও বাংলাদেশের প্রতি সমীহ প্রকাশ করেছেন কোচ ইয়াম প্রসাদ গুরুং। নেপাল এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে দুর্দান্ত লড়াই করেছে। টাইব্রেকারে তারা হেরে যাওয়ায় এশিয়ান কাপে খেলতে পারছে না। নেপাল সিনিয়র দলে খেলা কাউকে অনূর্ধ্ব-২০ স্কোয়াডে রাখেনি। নেপালের কোচ প্রসাদ গুরুং বলেন, ‘আমাদের এই দলে সিনিয়র দলের কেউ নেই। এখান থেকে খেলে খেলোয়াড়রা প্রস্তুত হয়ে জাতীয় দলে যাবে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলবে বলে জানান কোচ শ্রীনাথা, ‘সত্যিকার অর্থে আমাদের বাংলাদেশের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক খেলার সামর্থ্য নেই। আমাদের দলের অনেক খেলোয়াড় অ-১৮ বয়সী। অভিজ্ঞতার জন্যই আমাদের এই টুর্নামেন্টে আসা।’ লঙ্কান পুরুষ ফুটবল দলে প্রবাসী ফুটবলার রয়েছেন অনেকে। নারী ফুটবল দলে সেরকম কেউ নেই অবশ্য।
উল্লেখ্য, আজ থেকে শুরু হচ্ছে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের এই আসর। চলবে ২১ জুলাই পর্যন্ত। বাংলাদেশ ছাড়া এই আসরে খেলবে নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। ডাবল রাউন্ড লিগ পদ্ধতিতে হবে এই আসর। যেখানে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।


























