০২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে পিআইসি প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি-লক্ষ্মীপুরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) নামে লুটপাটের সন্ধান পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের সদর
উপজেলা পরিষদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে অস্তীত্বহীন ১৪৮ টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্ধ করা ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার অধিকাংশই ভাগাভাগি
করে হাতিয়ে নেয় সংশিষ্টরা। সদ্য বিদায়ী লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এমরান হোসেনের পিসি (কমিশন) বানিজ্য এবং নিয়মবহির্ভুত
বরাদ্ধ সহ চলতি বছরের গত জুনের আগেই তড়িগড়ি করে কাজ ছাড়াই ওই প্রকল্পের টাকা ছাড় দেয়া হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোন প্রকার পরিদর্শন
ছাড়াই এবং কাজের তদারকি দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যাক্তিদের যোগসাজশে প্রকল্পের কাজ বুজে না নিয়েই লুটপাটে জড়িতদের টাকা হস্তান্তর করায়
তারা নিজেরা ইচ্ছেমতো ভাগভাটোয়ারা করার সুযোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। গেল সপ্তাহে সদর উপজেলা পরিষদের সংশিষ্ট দফতর থেকে প্রকল্পের
তালিকা ফাঁস এবং ইউনিয়নগুলোতে সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে অস্তীত্বহীন এই প্রকল্পের লুটপাট নিয়ে ব্যাপক হৈচৈ পড়ে যায়। স্থানীদের
দাবী, এই ভাবে গত কয়েকবছর বা প্রায় ৯ যাবত পিআইসি প্রকল্পের নামে নীরব লুটপাটের কারণে এলাকার উন্নয়নের পরিবর্তে দায়িত্বে থাকা উপজেলা
পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউএনও সহ নামসর্বস্ব কয়েকজনের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। এতে সরকারের কেবল রাজস্ব বেহাত হওয়া ছাড়াও লুটেরাদের কারণে
ভাবমুর্তি চরম ভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে কাজ না করা প্রকল্প এলাকায় সাধারন মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা গেছে।
লুটপাটে জড়িতদের অবিলম্ভে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর আসনের ১২টি এবং লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনের ৯ টি ইউনিয়ন সহ মোট ২১ টি ইউনিয়ন মিলে সদর উপজেলা
পরিষদের কার্যক্রম চলে আসছে। কাগজ-কলমানুযায়ী গত আগষ্ট/২২ এর উপজেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্তনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরের উন্নয়ন
তহবিলের জন্য ৫শ ১৫ টি প্রকল্প হাতে নেয় কর্তৃপক্ষ। বিপরীতে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে ৯ কোটি টাকার অনুমোদন করা হয়। এরই আলোকে রাজস্ব
উদ্বৃত্ত,হাটবাজার ইজারা ফান্ড ও এডিপির বরাদ্ধের ৩০% কোটা হিসাবে পিআইসির ১৪৮ প্রকল্পের বিপরীতে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়।
বাকী ৩৬৭ প্রকল্পের জন্য ৬ কোটি ৩০লাখ টাকা টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। নিয়মানুসারে জনসংখ্যা এবং এলাকার আয়তন

অনুসারে সমভাবে বরাদ্ধ দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের কর্ত্তৃত্ব ও ক্ষমতার অপব্যাবহার করে পিআইসি প্রকল্পগুলো বিশেষ সুবিধায় আদায়ে সরকারি সম্পূর্ন নীতিমালা ভঙ্গ এমনকি এসবের তোয়াক্কা না করেই
উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্যগুলোকে বঞ্চিত করে মাত্র ১০ টি ইউনিয়নের পিআইসির ১৪৮টি প্রকল্প অনুমোদন করে। এর মধ্যে ১নং
হামছাদী ইউনিয়নের ২৭টি প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪৫ লাখ, ২ নং হামছাদীর ১৩ প্রকল্পের ২৬ লাখ,দালাবাজার ইউনিয়নের ১০ প্রকল্পের প্রায় ১১ লাখ, চররুহিতা
ইউনিয়নের ৪৩টি প্রকল্পের ৭৮ লাখ, বশিকপুর ইউনিয়নের ৫ প্রকল্পের ৮লাখ, উত্তর জয়পুরের ৯টি প্রকল্পে ১৮ লাখ, চন্দ্রগঞ্জের ১ টি প্রকল্পের ২ লাখ,শাকচরের ৯ টি প্রকল্পের ১৪ লাখ, তেয়ারীগঞ্জের ২৯ প্রকল্পের ৪৫ লাখ,এবং চর রমনীমোহন ইউনিয়নের ১২টি প্রকল্পের জন্য ২৪ লাখ সহ মোট ২ কোটি ৭০ লাখ বরাদ্ধ দেয়া হয়। নিয়মানুযায়ী বরাদ্ধকৃত টাকা ও প্রকল্প সংশিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও উপজেলা পরিষদের ইউএনও এবং চেয়ারম্যান ২০-৩০% মোটা অংকের পিসি বানিজ্য করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মনগড়া গুটি কয়েকজনের মাঝে প্রকল্পগুলো ভাগাভাগি করে দেন। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সংশিষ্ট চেয়ারম্যানরা-মেম্বাররা। তারা অনেকেই এ বিষয়ে কেউই কিছু জানেন না বলে অভিযোগ করেন। ফলে এ সুযোগে প্রকল্প কমিটি প্রাক্কলন মোতাবেক কাজতো দুরের কথা তদারকি ও বিল পরিশোধের দায়িত্বে থাকা সংশিষ্টদের ম্যানেজ করে অধিকাংশ জায়গায় কোন কাজ না করে প্রকল্পের পুরে টাকাই আত্নসাৎ ও ভাগাভাগি, লুটপাট করে নেয়। অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, ১৯ নং তেয়ারগঞ্জের কিছু প্রকল্প
ছাড়া উপজেলা ৪ নং চররুহিতা, ১নং উত্তর ও ২ দক্ষিন হামছাদী, ৩ নং দালালবাজার, ২০ নং চররমনী মোহন, ৯ নং উত্তর জয়পুর, ১৬ নং শাকচর এবং ৭ নং বশিকপুরে সবচেয়ে বেশী পিআইসির বরাদ্ধ এবং প্রকল্প দেয়া হলেও তাতে কাজের বাস্তবায়নের পরিবর্তে যেন লুটপাটের এক মহোৎসব চালিয়েছে
তারা। এদিকে ৬ কোটি ৩০লাখ টাকা ব্যায়ে ৩৬৭ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সদর উপজেলা প্রকৌশলী দফতর থেকে প্রাক্কলন তৈরী এবং ৫২
গ্র“প করে ৩ দফা পৃথক টেন্ডার আহব্বান করা হয়। দেখা গেছে, কার্যাদেশ ও সিডিউলনুযায়ী ঠিকাদাররা ঠিকমতো কাজ করলেও বিল নিতে এসে
অনেকেই নানা বিড়ম্ভনা, হয়রানির শিকার হতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কর্তাব্যাক্তিদের ( সাভেয়ার, এসও, ইঞ্জিনিয়ার)
চেকিংয়ের নামে প্রকারভেদে গাড়িভাড়া ও পকেট খরচের দিতে হয়। এ ছাড়া বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে একাউন্টেট সহ অফিস খরচের জন্য পিসি হিসাবে
২% এসও ২%, ইঞ্জিনিয়ারের ২%, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের জন্য ২%, উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য ৫ % সহ ১৩-১৫% কমিশন গুনতে গিয়ে ঘাটে
ঘাটে হয়রানি এবং একধরনের দিঘম্ভরের শিকার হতে হয়। অন্যদিকে প্রকল্প গ্রহনের সময় শুরুতেই লাখে ১৫-২০% টাকা আদায় এবং উন্নয়ন তহবিলের
৩০% কোটায় পিআইসিকে প্রকল্প প্রদানের সময় আরো ২০% টাকা আদায় সহ ৩ দফাই প্রকল্প বিক্রী করে অন্তসার শুন্য করা হয় বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে

নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব প্রকল্প বিক্রি করে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী অফিসার প্রতিবছর তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও
ঠিকাদারদের কাছ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এমন কোন খাত নেই যা থেকে প্রশাসনিক হয়রানি থেকে কারো কোনো নিস্তার
রয়েছে। ফলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিমাহীন দুর্নীতি অনিয়মে অতিষ্ঠ প্রায়ই সকলে। এতে টেকসই উন্নয়নতো দুরের
কথা নানামুখী ভোগান্তিতে আতংকে রয়েছে সুফলভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে দীর্ঘ গত কয়েকবছর ( ৯ বৎসর) যাবত পিআইসি সহ
বিভিন্ন প্রকল্পের নামে নীরব লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও এমন অবস্থা যেন এসব দেখা কেউই নেই। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এসব নিয়ে ব্যাপক বলাবলি
এবং অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা বলে হলে ও দেখা গেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নীরব।
এ ব্যাপারে সদ্য যোগদান কৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান জানান, আমি নতুন। তবে পিআইসি প্রকল্পের কোন বিল আপাতত
পরিশোধের বাকি নেই। কাজ না করে টাকা উত্তোলন ও আত্নসাতের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। পিসি নিয়ে হয়রানি এবং এক প্রকল্পে তিন দফা বিক্রি এ বিষয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সালাউদ্দিন টিপুর কাছে জানতে ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে পিআইসি প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট

আপডেট সময় : ০৫:৪০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৩

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি-লক্ষ্মীপুরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) নামে লুটপাটের সন্ধান পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের সদর
উপজেলা পরিষদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে অস্তীত্বহীন ১৪৮ টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্ধ করা ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার অধিকাংশই ভাগাভাগি
করে হাতিয়ে নেয় সংশিষ্টরা। সদ্য বিদায়ী লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এমরান হোসেনের পিসি (কমিশন) বানিজ্য এবং নিয়মবহির্ভুত
বরাদ্ধ সহ চলতি বছরের গত জুনের আগেই তড়িগড়ি করে কাজ ছাড়াই ওই প্রকল্পের টাকা ছাড় দেয়া হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোন প্রকার পরিদর্শন
ছাড়াই এবং কাজের তদারকি দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যাক্তিদের যোগসাজশে প্রকল্পের কাজ বুজে না নিয়েই লুটপাটে জড়িতদের টাকা হস্তান্তর করায়
তারা নিজেরা ইচ্ছেমতো ভাগভাটোয়ারা করার সুযোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। গেল সপ্তাহে সদর উপজেলা পরিষদের সংশিষ্ট দফতর থেকে প্রকল্পের
তালিকা ফাঁস এবং ইউনিয়নগুলোতে সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে অস্তীত্বহীন এই প্রকল্পের লুটপাট নিয়ে ব্যাপক হৈচৈ পড়ে যায়। স্থানীদের
দাবী, এই ভাবে গত কয়েকবছর বা প্রায় ৯ যাবত পিআইসি প্রকল্পের নামে নীরব লুটপাটের কারণে এলাকার উন্নয়নের পরিবর্তে দায়িত্বে থাকা উপজেলা
পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউএনও সহ নামসর্বস্ব কয়েকজনের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। এতে সরকারের কেবল রাজস্ব বেহাত হওয়া ছাড়াও লুটেরাদের কারণে
ভাবমুর্তি চরম ভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে কাজ না করা প্রকল্প এলাকায় সাধারন মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা গেছে।
লুটপাটে জড়িতদের অবিলম্ভে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর আসনের ১২টি এবং লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনের ৯ টি ইউনিয়ন সহ মোট ২১ টি ইউনিয়ন মিলে সদর উপজেলা
পরিষদের কার্যক্রম চলে আসছে। কাগজ-কলমানুযায়ী গত আগষ্ট/২২ এর উপজেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্তনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরের উন্নয়ন
তহবিলের জন্য ৫শ ১৫ টি প্রকল্প হাতে নেয় কর্তৃপক্ষ। বিপরীতে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে ৯ কোটি টাকার অনুমোদন করা হয়। এরই আলোকে রাজস্ব
উদ্বৃত্ত,হাটবাজার ইজারা ফান্ড ও এডিপির বরাদ্ধের ৩০% কোটা হিসাবে পিআইসির ১৪৮ প্রকল্পের বিপরীতে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়।
বাকী ৩৬৭ প্রকল্পের জন্য ৬ কোটি ৩০লাখ টাকা টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। নিয়মানুসারে জনসংখ্যা এবং এলাকার আয়তন

অনুসারে সমভাবে বরাদ্ধ দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের কর্ত্তৃত্ব ও ক্ষমতার অপব্যাবহার করে পিআইসি প্রকল্পগুলো বিশেষ সুবিধায় আদায়ে সরকারি সম্পূর্ন নীতিমালা ভঙ্গ এমনকি এসবের তোয়াক্কা না করেই
উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্যগুলোকে বঞ্চিত করে মাত্র ১০ টি ইউনিয়নের পিআইসির ১৪৮টি প্রকল্প অনুমোদন করে। এর মধ্যে ১নং
হামছাদী ইউনিয়নের ২৭টি প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪৫ লাখ, ২ নং হামছাদীর ১৩ প্রকল্পের ২৬ লাখ,দালাবাজার ইউনিয়নের ১০ প্রকল্পের প্রায় ১১ লাখ, চররুহিতা
ইউনিয়নের ৪৩টি প্রকল্পের ৭৮ লাখ, বশিকপুর ইউনিয়নের ৫ প্রকল্পের ৮লাখ, উত্তর জয়পুরের ৯টি প্রকল্পে ১৮ লাখ, চন্দ্রগঞ্জের ১ টি প্রকল্পের ২ লাখ,শাকচরের ৯ টি প্রকল্পের ১৪ লাখ, তেয়ারীগঞ্জের ২৯ প্রকল্পের ৪৫ লাখ,এবং চর রমনীমোহন ইউনিয়নের ১২টি প্রকল্পের জন্য ২৪ লাখ সহ মোট ২ কোটি ৭০ লাখ বরাদ্ধ দেয়া হয়। নিয়মানুযায়ী বরাদ্ধকৃত টাকা ও প্রকল্প সংশিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও উপজেলা পরিষদের ইউএনও এবং চেয়ারম্যান ২০-৩০% মোটা অংকের পিসি বানিজ্য করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মনগড়া গুটি কয়েকজনের মাঝে প্রকল্পগুলো ভাগাভাগি করে দেন। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সংশিষ্ট চেয়ারম্যানরা-মেম্বাররা। তারা অনেকেই এ বিষয়ে কেউই কিছু জানেন না বলে অভিযোগ করেন। ফলে এ সুযোগে প্রকল্প কমিটি প্রাক্কলন মোতাবেক কাজতো দুরের কথা তদারকি ও বিল পরিশোধের দায়িত্বে থাকা সংশিষ্টদের ম্যানেজ করে অধিকাংশ জায়গায় কোন কাজ না করে প্রকল্পের পুরে টাকাই আত্নসাৎ ও ভাগাভাগি, লুটপাট করে নেয়। অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, ১৯ নং তেয়ারগঞ্জের কিছু প্রকল্প
ছাড়া উপজেলা ৪ নং চররুহিতা, ১নং উত্তর ও ২ দক্ষিন হামছাদী, ৩ নং দালালবাজার, ২০ নং চররমনী মোহন, ৯ নং উত্তর জয়পুর, ১৬ নং শাকচর এবং ৭ নং বশিকপুরে সবচেয়ে বেশী পিআইসির বরাদ্ধ এবং প্রকল্প দেয়া হলেও তাতে কাজের বাস্তবায়নের পরিবর্তে যেন লুটপাটের এক মহোৎসব চালিয়েছে
তারা। এদিকে ৬ কোটি ৩০লাখ টাকা ব্যায়ে ৩৬৭ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সদর উপজেলা প্রকৌশলী দফতর থেকে প্রাক্কলন তৈরী এবং ৫২
গ্র“প করে ৩ দফা পৃথক টেন্ডার আহব্বান করা হয়। দেখা গেছে, কার্যাদেশ ও সিডিউলনুযায়ী ঠিকাদাররা ঠিকমতো কাজ করলেও বিল নিতে এসে
অনেকেই নানা বিড়ম্ভনা, হয়রানির শিকার হতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কর্তাব্যাক্তিদের ( সাভেয়ার, এসও, ইঞ্জিনিয়ার)
চেকিংয়ের নামে প্রকারভেদে গাড়িভাড়া ও পকেট খরচের দিতে হয়। এ ছাড়া বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে একাউন্টেট সহ অফিস খরচের জন্য পিসি হিসাবে
২% এসও ২%, ইঞ্জিনিয়ারের ২%, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের জন্য ২%, উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য ৫ % সহ ১৩-১৫% কমিশন গুনতে গিয়ে ঘাটে
ঘাটে হয়রানি এবং একধরনের দিঘম্ভরের শিকার হতে হয়। অন্যদিকে প্রকল্প গ্রহনের সময় শুরুতেই লাখে ১৫-২০% টাকা আদায় এবং উন্নয়ন তহবিলের
৩০% কোটায় পিআইসিকে প্রকল্প প্রদানের সময় আরো ২০% টাকা আদায় সহ ৩ দফাই প্রকল্প বিক্রী করে অন্তসার শুন্য করা হয় বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে

নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব প্রকল্প বিক্রি করে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী অফিসার প্রতিবছর তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও
ঠিকাদারদের কাছ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এমন কোন খাত নেই যা থেকে প্রশাসনিক হয়রানি থেকে কারো কোনো নিস্তার
রয়েছে। ফলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিমাহীন দুর্নীতি অনিয়মে অতিষ্ঠ প্রায়ই সকলে। এতে টেকসই উন্নয়নতো দুরের
কথা নানামুখী ভোগান্তিতে আতংকে রয়েছে সুফলভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে দীর্ঘ গত কয়েকবছর ( ৯ বৎসর) যাবত পিআইসি সহ
বিভিন্ন প্রকল্পের নামে নীরব লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও এমন অবস্থা যেন এসব দেখা কেউই নেই। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এসব নিয়ে ব্যাপক বলাবলি
এবং অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা বলে হলে ও দেখা গেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নীরব।
এ ব্যাপারে সদ্য যোগদান কৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান জানান, আমি নতুন। তবে পিআইসি প্রকল্পের কোন বিল আপাতত
পরিশোধের বাকি নেই। কাজ না করে টাকা উত্তোলন ও আত্নসাতের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। পিসি নিয়ে হয়রানি এবং এক প্রকল্পে তিন দফা বিক্রি এ বিষয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সালাউদ্দিন টিপুর কাছে জানতে ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।