স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রবি ও এয়ারটেল গ্রাহকরা প্রায়শই নেটওয়ার্ক সমস্যায় পড়েন। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ফোন ও অনলাইন লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে। কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমশের দেওয়ান জানান, রবি সিমে বিকাশ ও নগদ একাউন্ট থাকার কারণে ৯ দিন লেনদেন আটকে আছে, যা ব্যবসায়িক ক্ষতি সৃষ্টি করেছে। মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “পাহাড়ি অঞ্চলে ৯০ শতাংশ মানুষ রবি ও এয়ারটেল ব্যবহার করে। নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় লেনদেন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মানুষের জমিতে কাজ করতে হবে।”
জানা গেছে, গত দু-এক মাসে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে ১১টি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির টাওয়ারে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে আসা বিটিসিএল-এর অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে দীঘিনালা, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা, রামগর (খাগড়াছড়ি) ও নানিয়ারচর, লংগদু (রাঙামাটি) উপজেলায় নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা আক্ষেপ করে বলেন, পাহাড়ে নেটওয়ার্কের সমস্যা একটি নিয়মিত সমস্যা। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও নেটওয়ার্ক না থাকায় সুযোগ-সুবিধা হাতছাড়া হয়। পাহাড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় নেটওয়ার্ক ধীর গতির হলেও মানুষ মানিয়ে নিয়েছে। তবে সম্প্রতি নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেনে বড় ক্ষতি হচ্ছে।
বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানির একজন প্রতিনিধি জানান, পাহাড়ে বিচরণ করা সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ সম্প্রতি টাওয়ার অপারেটরদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছে। তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করলে হামলা চালানো হয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোবাইল কানেক্টিভিটি নেই, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ইউপিডিএফ নেতা অংগ্য মারমা অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।
খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানিয়েছেন, পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে টাওয়ারে হামলা ও নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নের ঘটনা ঘটলেও লিখিত কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পার্বত্য অঞ্চলের এই নেটওয়ার্ক সমস্যা শুধুমাত্র যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে না, বরং ডিজিটাল অবকাঠামোকে সহিংসতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে—এমনটাই মনে করছেন পাহাড় গবেষকরা।























