০৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়বে, এখনই প্রয়োজন সম্মিলিত সতর্কতা

* ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা
* মশার উৎপত্তিস্থল নষ্ট করুন
* জ্বর হলে পরীক্ষা করুন

বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ স্বাভাবিক ঘটনা হলেও চলতি বছর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছেন, অন্তত আরও দুই মাস ডেঙ্গুর উচ্চমাত্রার সংক্রমণ চলবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীতকালেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

এ বছর এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৭৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের। শুধু আগস্টের প্রথম ১৮ দিনেই আক্রান্ত ৫,৭৭৮ জন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে যথেষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার পরে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন বাড়ে, ফলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেও সংক্রমণ বাড়তে পারে।

ডেঙ্গুর লক্ষণ

উচ্চমাত্রার জ্বর

মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা

বমি ভাব

গায়ে র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি

হাড় ও গিরায় ব্যথা

গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষার জন্য আলাদা টেস্ট করানো উচিত।

জ্বর সেরে যাওয়ার পরবর্তী ৫-৭ দিন বেশি সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তখন জটিলতা দেখা দেয়।

মশা নিয়ন্ত্রণই প্রধান চাবিকাঠি

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলছেন, চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রধান উপায়। তিন দিনের বেশি সময় কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করা জরুরি। শিশুদের ফুলপ্যান্ট পরানো ও বাইরে অযথা ঘোরাঘুরি কমানো দরকার।

 

সরকারি উদ্যোগ

নতুন ডেঙ্গু চিকিৎসা গাইডলাইন অনুযায়ী সারা দেশে চিকিৎসা চলছে।

চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে—ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলাতেও চিকিৎসা সম্ভব।

আপনার করণীয়

ঘরের ভিতর ও আশেপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, নিয়মিত পরীক্ষা করুন।

জমা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলুন—টব, ডাবের খোসা, ফুলদানি, এসি ট্রে ইত্যাদি।

দিনে ও রাতে মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

নিজের ও পরিবারের জন্য সুরক্ষামূলক পোশাক ব্যবহার করুন।

ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। এখনই প্রয়োজন ঘরে-বাইরে পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজনন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার মানসিকতা। না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়বে, এখনই প্রয়োজন সম্মিলিত সতর্কতা

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

* ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা
* মশার উৎপত্তিস্থল নষ্ট করুন
* জ্বর হলে পরীক্ষা করুন

বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ স্বাভাবিক ঘটনা হলেও চলতি বছর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছেন, অন্তত আরও দুই মাস ডেঙ্গুর উচ্চমাত্রার সংক্রমণ চলবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীতকালেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

এ বছর এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৭৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের। শুধু আগস্টের প্রথম ১৮ দিনেই আক্রান্ত ৫,৭৭৮ জন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে যথেষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার পরে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন বাড়ে, ফলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেও সংক্রমণ বাড়তে পারে।

ডেঙ্গুর লক্ষণ

উচ্চমাত্রার জ্বর

মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা

বমি ভাব

গায়ে র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি

হাড় ও গিরায় ব্যথা

গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষার জন্য আলাদা টেস্ট করানো উচিত।

জ্বর সেরে যাওয়ার পরবর্তী ৫-৭ দিন বেশি সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তখন জটিলতা দেখা দেয়।

মশা নিয়ন্ত্রণই প্রধান চাবিকাঠি

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলছেন, চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রধান উপায়। তিন দিনের বেশি সময় কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করা জরুরি। শিশুদের ফুলপ্যান্ট পরানো ও বাইরে অযথা ঘোরাঘুরি কমানো দরকার।

 

সরকারি উদ্যোগ

নতুন ডেঙ্গু চিকিৎসা গাইডলাইন অনুযায়ী সারা দেশে চিকিৎসা চলছে।

চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে—ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলাতেও চিকিৎসা সম্ভব।

আপনার করণীয়

ঘরের ভিতর ও আশেপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, নিয়মিত পরীক্ষা করুন।

জমা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলুন—টব, ডাবের খোসা, ফুলদানি, এসি ট্রে ইত্যাদি।

দিনে ও রাতে মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

নিজের ও পরিবারের জন্য সুরক্ষামূলক পোশাক ব্যবহার করুন।

ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। এখনই প্রয়োজন ঘরে-বাইরে পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজনন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার মানসিকতা। না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।

এমআর/সবা