ফেনীর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আল-কেমী হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই করা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সাত মাস ব্যথা ও অসহনীয় কষ্টের পর গত বুধবার রাতে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারে বের করা হয় গজটি। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। ভুক্তভোগী রোগীর নাম ফরিদা ইয়াসমিন (৪০)। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর এলাকার প্রবাসী মহিউদ্দিনের স্ত্রী।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ফেনী আল-কেমী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ফেনী আল-কেমী হাসপাতালে ভর্তি হন প্রসূতি ফরিদা ইয়াসমিন। সেদিন হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. তাসলিমা আকতার তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। এ সময় রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই দিয়ে তাকে বেডে পাঠিয়ে দেন। চারদিন পর ফরিদাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। তারপর থেকে বিভিন্ন সময় ব্যথাজনিত সমস্যায় ছাগলনাইয়ার সিটি ডায়াগনস্টিকে ডা. তাসলিমা আকতারকে দেখানো হয়। সবসময় তিনি এটি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের কথা বলে ব্যথানাশক ওষুধ দিতেন।
ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনেও সুস্থ না হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে ফেনীর আরেকটি হাসপাতালে ডাঃ কামরুজ্জামানের শরণাপন্ন হন ফরিদা ইয়াসমিন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার পেটে বস্তুসদৃশ কিছু রয়েছে বলে ধরা পড়লে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ বুধবার রাতে শহরের একটি হাসপাতালে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আজিজ উল্ল্যাহ ভুক্তভোগী ফরিদা ইয়াসমিনের অস্ত্রোপচার করেন। এ সময় পেট থেকে প্রায় এক কেজি ওজনের এক ফুটের একটি গজ বের করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাই মোহাম্মদ শাহ ফয়সাল বলেন, ‘এমন কাণ্ডে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে যাবে। আমাদের অর্থনৈতিক বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তারচেয়ে বড় কথা আমার বোনের সাত মাসের অসহনীয় যন্ত্রণা। বোন সুস্থ না হওয়ায় তার স্বামী প্রবাস থেকে ফিরে এসেছেন। আমরা ফেনীর সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। চিকিৎসকের প্রত্যয়ন নিয়ে ফেনী মডেল থানায় এজাহার দেব। এ ঘটনায় আমরা একটি ন্যায়বিচার চাই।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. তাসলিমা আকতারকে একাধিকবার কল করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ফেনী আল-কেমী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে আমরা অভ্যন্তরিকভাবে বসে আলোচনা করব। তারপরেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসএস/সবা
শিরোনাম
ফেনীতে সিজারিয়ান রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই, ৭ মাস পর অস্ত্রোপচারে : তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন
-
ফেনী প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ০৬:৩২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
- ।
- 113
জনপ্রিয় সংবাদ
























