০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরে অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক: উপসর্গে দুইজনের মৃত্যু, শতাধিক মানুষ আক্রান্ত

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ গরু জবাই ও রান্না করার সময় সংক্রমিত হয়ে তারা মারা যান বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত আগস্ট মাসে পীরগাছা সদরের মাইটাল এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক অসুস্থ গরু জবাইয়ের সময় হাতে কেটে যান এবং কয়েক দিনের মধ্যে হাতে ঘা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাকে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, পারুল ইউনিয়নের আনন্দী ধনিরাম গ্রামের গৃহিণী কমলা বেগম অসুস্থ গরুর মাংস রান্না করার পর একইভাবে সংক্রমিত হন। হাতে ঘা ছড়িয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গত ৬ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। তার স্বামী জয়নাল আবেদিন জানান, মাংস রান্নার পরপরই তার স্ত্রীর হাতে ঘা দেখা দেয়, দুই দিন পরই অবস্থার অবনতি ঘটে। বর্তমানে তাদের ছেলে দুলাল মিয়াসহ পরিবারের আরও তিনজন অসুস্থ রয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, গত দুই মাসে এলাকায় ২০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গেছে।

পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আঁখি সরকার জানান, প্রতিদিনই ৫ থেকে ৭ জন রোগী আসছেন। অনেক সময় একই পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হচ্ছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একরামুল হক মণ্ডল বলেন, “আমরা ৫০ হাজার ভ্যাকসিন বরাদ্দ পেয়েছি এবং ইউনিয়নভিত্তিক টিকা কার্যক্রম চলছে। শিগগির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন বলেন, অ্যানথ্রাক্সে মৃত্যু ঝুঁকি নেই। যেসব মৃত্যু হয়েছে, তা অন্য কোনো কারণে হতে পারে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

রংপুর জেলা সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা জানান, বিষয়টি আইইডিসিআর-কে জানানো হয়েছে। তারা নমুনা সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এটি জটিল কাজ হওয়ায় ঢাকা থেকে টিম এলে সঠিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

এমআর/সবা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত

রংপুরে অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক: উপসর্গে দুইজনের মৃত্যু, শতাধিক মানুষ আক্রান্ত

আপডেট সময় : ০৪:১৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ গরু জবাই ও রান্না করার সময় সংক্রমিত হয়ে তারা মারা যান বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত আগস্ট মাসে পীরগাছা সদরের মাইটাল এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক অসুস্থ গরু জবাইয়ের সময় হাতে কেটে যান এবং কয়েক দিনের মধ্যে হাতে ঘা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাকে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, পারুল ইউনিয়নের আনন্দী ধনিরাম গ্রামের গৃহিণী কমলা বেগম অসুস্থ গরুর মাংস রান্না করার পর একইভাবে সংক্রমিত হন। হাতে ঘা ছড়িয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গত ৬ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। তার স্বামী জয়নাল আবেদিন জানান, মাংস রান্নার পরপরই তার স্ত্রীর হাতে ঘা দেখা দেয়, দুই দিন পরই অবস্থার অবনতি ঘটে। বর্তমানে তাদের ছেলে দুলাল মিয়াসহ পরিবারের আরও তিনজন অসুস্থ রয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, গত দুই মাসে এলাকায় ২০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গেছে।

পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আঁখি সরকার জানান, প্রতিদিনই ৫ থেকে ৭ জন রোগী আসছেন। অনেক সময় একই পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হচ্ছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একরামুল হক মণ্ডল বলেন, “আমরা ৫০ হাজার ভ্যাকসিন বরাদ্দ পেয়েছি এবং ইউনিয়নভিত্তিক টিকা কার্যক্রম চলছে। শিগগির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন বলেন, অ্যানথ্রাক্সে মৃত্যু ঝুঁকি নেই। যেসব মৃত্যু হয়েছে, তা অন্য কোনো কারণে হতে পারে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

রংপুর জেলা সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা জানান, বিষয়টি আইইডিসিআর-কে জানানো হয়েছে। তারা নমুনা সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এটি জটিল কাজ হওয়ায় ঢাকা থেকে টিম এলে সঠিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

এমআর/সবা