০১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহেশখালীর ধলঘাটার প্রধান সড়ক সহ সব রাস্তাগুলোর বেহাল দশায় সীমাহীন দুর্ভোগে এলাকাবাসী

মহেশখালীর ধলঘাটার ইউনিয়নের এই সড়কটি শুধু একটি রাস্তা নয় প্রায় প্রত্যেকটি রাস্তায়
কাদা, গর্ত ও পানি জমে সড়কের দুই পাশের কাঁচা মাটি সরে গিয়ে স্থানে স্থানে সৃষ্টি
হয়েছে গর্ত আর খানা-খন্দের তৈরী হয়ে গেছে। রাস্তাগুলোর বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে
পড়েছেন পুরো ইউনিয়নবাসী। ধলঘাটায় বাস্তবায়িত হচ্ছে দেশের অন্যতম বড় সরকারি
প্রকল্পসমূহÑমাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলপিজি টার্মিনাল, ভাসমান তেল সংরক্ষণ
কেন্দ্রসহ হাজার হাজার কোটি টাকার কর্মযজ্ঞ অথচ এই ইউনিয়নের প্রধান সড়কগুলো যেন
নেই উন্নয়নের তালিকায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, দিনমজুর, কৃষকÑসবাই
নির্ভর করে এই একমাত্র সড়কের উপর। এ এলাকাই দেশের মেগা প্রজেক্টের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায়
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-সচিব থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরামর্শক ও প্রকৌশলীরা
প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন এই পথ দিয়ে কিন্তু রাস্তার চেহারা দেখলে বোঝার উপায় নেই।
এলাকাবাসী মনে করেন আসন্ন বর্ষা মৌসুমে যদি দ্রুত সংস্কার না হলে গোটা ধলঘাটা
কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
ধলঘাটার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সাপমারার ডেইল থেকে সুতুরিয়া পর্যন্ত সড়কের
প্রতিটি ইঞ্চিতে কাদা, গর্ত ও পানির জমে থাকা স্তর। কোথাও পায়ে হেঁটে যাওয়া যাচ্ছে না,
আবার কোথাও ছোট যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে
শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং রিকশা-ভ্যান চালকদের চলাফেরা হয়ে উঠেছে প্রায় অসম্ভব।
মোস্তাক নামে স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, ্#৩৯;এই রাস্তা দিয়ে এখন মাল আনতে গেলে, একবার না
একবার ভ্যান উল্টে যাবেই। বৃষ্টিতে তো আর কিছুই থাকে না, কেবল পানি আর কাদা।
ধলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরুন্নবী জানায়, ্#৩৯;প্রতিদিন স্কুলে যেতে
ভয় লাগে, কখন পা পিছলে পড়ে যাই। কাঁদা পানি ভেদ করে ক্লাসে পৌঁছাই, তখন শরীর-মনের
অর্ধেক শক্তি শেষ। দিনমজুর মকবুল আহমদ বলেন, ্#৩৯;আমার জীবন চলে মাল টানা দিয়ে। কিন্তু এই
রাস্তায় এখন মাল বহন করাটাই দুঃসাধ্য। কোনো গাড়ি এই পথে চলতে পারে না, হেঁটেও চলা
যায় না। তাহলে আমরা যাব কোথায়? স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারী আজিম উল্লাহ বলেন,
্#৩৯;প্রতিদিন সকালে কাজে বের হলে সবচেয়ে বড় চিন্তা হয় এই রাস্তাটা পার হবো কীভাবে।
হেঁটে গেলেই পা কাদায় আটকে যায়, বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেলে গেলে পড়ে যাওয়ার ভয়।
বর্ষা এলে তো এখান দিয়ে চলাফেরা বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু বড়রাই নন, দুর্ভোগে আছে
কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও। ধলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরুন্নবী জানায়,
্#৩৯;আমার বাসা থেকে স্কুলে যেতে ১৫ মিনিট লাগে, কিন্তু এই রাস্তায় কাদা আর পানি থাকায়
সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিট। জামাকাপড় ভিজে যায়, ব্যাগ ভিজে যায়। ক্লাসেও ঠিকমতো
বসতে পারি না। একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান বলে, ্#৩৯;বৃষ্টির দিনে
সবচেয়ে ভয় লাগে। অনেক সময় পড়ে গিয়ে ব্যথাও পাই। এই রাস্তাটা ঠিক না করলে আমরা স্কুলে
যেতে পারবো না।”
মহেশখালী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী বনি আমিন জনি বলেন, ্#৩৯;ধলঘাটা ও মাতারবাড়ি
এলাকার সড়কগুলো সংস্কারের বিষয়ে আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। আসন্ন বর্ষার
আগে রাস্তাগুলোর জরুরি সংস্কার কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। বরাদ্দ ও প্রকল্প প্রক্রিয়া অনুযায়ী
আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। তিনি আরও জানান, ্#৩৯;সড়কটির স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরসিসি
ঢালাই ও ব্লকিংয়ের প্রয়োজন আছে। প্রাথমিকভাবে কাঁচা ইট ও খোয়ার মাধ্যমে
রাস্তাটিকে চলাচলের উপযোগী করতে কিছু কাজ করা হবে।”

ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাহার ইকবাল দাদুল বলেন, ্#৩৯;এটা ঠিক, এই
রাস্তাটা সংস্কার করা খুবই জরুরি। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের কোনো বরাদ্দ নেই, যার
মাধ্যমে বড় কোনো সংস্কার কাজ করতে পারি। তবুও আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগে বারবার বলে
যাচ্ছি। যদি তারা সাড়া দেয়, তাহলে কিছু করা সম্ভব। তিনি বলেন, ্#৩৯;সরকার যেভাবে
মাতারবাড়িতে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, সেভাবে ধলঘাটা ইউনিয়নের অবকাঠামোগত
উন্নয়নেও নজর দেওয়া দরকার। নয়তো এখানকার মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিতই থেকে
যাবে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রধান সড়কটি রক্ষার জন্য বর্ষার আগেই উভয় পাশে ব্লক বসিয়ে আরসিসি
ঢালাই না করলে, পুরো সড়ক বিলীন হয়ে যাবে। তাতে গ্রামীণ অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা,
কৃষিÑসব কিছুই স্থবির হয়ে পড়বে। ধলঘাটার মানুষ চায়, জরুরি প্রকল্প গ্রহণ করে এই
দুর্ভোগ থেকে যেন তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

শীতের রাতে পায়ে মোজা পরে ঘুমানো ভালো নাকি খারাপ, জানুন

মহেশখালীর ধলঘাটার প্রধান সড়ক সহ সব রাস্তাগুলোর বেহাল দশায় সীমাহীন দুর্ভোগে এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মহেশখালীর ধলঘাটার ইউনিয়নের এই সড়কটি শুধু একটি রাস্তা নয় প্রায় প্রত্যেকটি রাস্তায়
কাদা, গর্ত ও পানি জমে সড়কের দুই পাশের কাঁচা মাটি সরে গিয়ে স্থানে স্থানে সৃষ্টি
হয়েছে গর্ত আর খানা-খন্দের তৈরী হয়ে গেছে। রাস্তাগুলোর বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে
পড়েছেন পুরো ইউনিয়নবাসী। ধলঘাটায় বাস্তবায়িত হচ্ছে দেশের অন্যতম বড় সরকারি
প্রকল্পসমূহÑমাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলপিজি টার্মিনাল, ভাসমান তেল সংরক্ষণ
কেন্দ্রসহ হাজার হাজার কোটি টাকার কর্মযজ্ঞ অথচ এই ইউনিয়নের প্রধান সড়কগুলো যেন
নেই উন্নয়নের তালিকায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, দিনমজুর, কৃষকÑসবাই
নির্ভর করে এই একমাত্র সড়কের উপর। এ এলাকাই দেশের মেগা প্রজেক্টের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায়
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-সচিব থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরামর্শক ও প্রকৌশলীরা
প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন এই পথ দিয়ে কিন্তু রাস্তার চেহারা দেখলে বোঝার উপায় নেই।
এলাকাবাসী মনে করেন আসন্ন বর্ষা মৌসুমে যদি দ্রুত সংস্কার না হলে গোটা ধলঘাটা
কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
ধলঘাটার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সাপমারার ডেইল থেকে সুতুরিয়া পর্যন্ত সড়কের
প্রতিটি ইঞ্চিতে কাদা, গর্ত ও পানির জমে থাকা স্তর। কোথাও পায়ে হেঁটে যাওয়া যাচ্ছে না,
আবার কোথাও ছোট যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে
শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং রিকশা-ভ্যান চালকদের চলাফেরা হয়ে উঠেছে প্রায় অসম্ভব।
মোস্তাক নামে স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, ্#৩৯;এই রাস্তা দিয়ে এখন মাল আনতে গেলে, একবার না
একবার ভ্যান উল্টে যাবেই। বৃষ্টিতে তো আর কিছুই থাকে না, কেবল পানি আর কাদা।
ধলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরুন্নবী জানায়, ্#৩৯;প্রতিদিন স্কুলে যেতে
ভয় লাগে, কখন পা পিছলে পড়ে যাই। কাঁদা পানি ভেদ করে ক্লাসে পৌঁছাই, তখন শরীর-মনের
অর্ধেক শক্তি শেষ। দিনমজুর মকবুল আহমদ বলেন, ্#৩৯;আমার জীবন চলে মাল টানা দিয়ে। কিন্তু এই
রাস্তায় এখন মাল বহন করাটাই দুঃসাধ্য। কোনো গাড়ি এই পথে চলতে পারে না, হেঁটেও চলা
যায় না। তাহলে আমরা যাব কোথায়? স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারী আজিম উল্লাহ বলেন,
্#৩৯;প্রতিদিন সকালে কাজে বের হলে সবচেয়ে বড় চিন্তা হয় এই রাস্তাটা পার হবো কীভাবে।
হেঁটে গেলেই পা কাদায় আটকে যায়, বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেলে গেলে পড়ে যাওয়ার ভয়।
বর্ষা এলে তো এখান দিয়ে চলাফেরা বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু বড়রাই নন, দুর্ভোগে আছে
কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও। ধলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরুন্নবী জানায়,
্#৩৯;আমার বাসা থেকে স্কুলে যেতে ১৫ মিনিট লাগে, কিন্তু এই রাস্তায় কাদা আর পানি থাকায়
সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিট। জামাকাপড় ভিজে যায়, ব্যাগ ভিজে যায়। ক্লাসেও ঠিকমতো
বসতে পারি না। একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান বলে, ্#৩৯;বৃষ্টির দিনে
সবচেয়ে ভয় লাগে। অনেক সময় পড়ে গিয়ে ব্যথাও পাই। এই রাস্তাটা ঠিক না করলে আমরা স্কুলে
যেতে পারবো না।”
মহেশখালী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী বনি আমিন জনি বলেন, ্#৩৯;ধলঘাটা ও মাতারবাড়ি
এলাকার সড়কগুলো সংস্কারের বিষয়ে আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। আসন্ন বর্ষার
আগে রাস্তাগুলোর জরুরি সংস্কার কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। বরাদ্দ ও প্রকল্প প্রক্রিয়া অনুযায়ী
আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। তিনি আরও জানান, ্#৩৯;সড়কটির স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরসিসি
ঢালাই ও ব্লকিংয়ের প্রয়োজন আছে। প্রাথমিকভাবে কাঁচা ইট ও খোয়ার মাধ্যমে
রাস্তাটিকে চলাচলের উপযোগী করতে কিছু কাজ করা হবে।”

ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাহার ইকবাল দাদুল বলেন, ্#৩৯;এটা ঠিক, এই
রাস্তাটা সংস্কার করা খুবই জরুরি। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের কোনো বরাদ্দ নেই, যার
মাধ্যমে বড় কোনো সংস্কার কাজ করতে পারি। তবুও আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগে বারবার বলে
যাচ্ছি। যদি তারা সাড়া দেয়, তাহলে কিছু করা সম্ভব। তিনি বলেন, ্#৩৯;সরকার যেভাবে
মাতারবাড়িতে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, সেভাবে ধলঘাটা ইউনিয়নের অবকাঠামোগত
উন্নয়নেও নজর দেওয়া দরকার। নয়তো এখানকার মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিতই থেকে
যাবে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রধান সড়কটি রক্ষার জন্য বর্ষার আগেই উভয় পাশে ব্লক বসিয়ে আরসিসি
ঢালাই না করলে, পুরো সড়ক বিলীন হয়ে যাবে। তাতে গ্রামীণ অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা,
কৃষিÑসব কিছুই স্থবির হয়ে পড়বে। ধলঘাটার মানুষ চায়, জরুরি প্রকল্প গ্রহণ করে এই
দুর্ভোগ থেকে যেন তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।