০৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পথসভায় মীর নেওয়াজ আলী

পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য দিয়ে ঐক্যে ফাটল ধরাবেন না

জামায়াত নেতাদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুববিষয়ক সহ-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ। তিনি বলেছেন, পক্ষে-বিপক্ষে কঠিন বক্তব্য দিয়ে ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরাবেন না। এই মুহূর্তে ঐক্যে ফাটল ধরলে দেশের জন্য ও নির্বাচনের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। আর এই সুযোগ পাবে ফ্যাসিবাদেরা। তাদের এই সুযোগ দেওয়া হবে না, দেওয়া যাবে না। শনিবার (৮ নভেম্বর) পুরান ঢাকার লালবাগে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মসূচি পালন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা লিফলেট বিতরণের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত পথসভাটি লালবাগের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মীর নেওয়াজ আলী বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের সুযোগ জাতীয় রাজনীতিতে রয়েছে। সবাই মিলে সে সুযোগ নিয়ে কাজ করি। আগামী নির্বাচনকে ভণ্ডুল ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা ষড়যন্ত্র এখনও চলছে। যেন দেশে নির্বাচন না হয়, সে জন্য হাসিনা ও তার দল দেশে-বিদেশে বসে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। চক্রান্ত করছে। কিন্তু কোনও ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত কাজে আসবে না। সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় এ নেতা বলেন, হাসিনা রাজনীতি করেননি, করেছেন দুর্নীতি ও লুটপাট। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দুঃশাসনে জড়িত ছিলেন। দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন, গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হাসিনা দেশের মানুষকে জিম্মি করে নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। এ কারণে দলের শত্রু, জনশত্রু ও গণশত্রুতে পরিণত হতে হয়েছে তাদের। এত কিছুর পরও ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেননি তারা। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে মীর নেওয়াজ আলী বলেন, গত ১৭ বছরে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে শ্রমিকেরাও নির্যাতন, গুম ও খুন থেকে বাঁচতে পারেননি। তাদের ওপর কঠিন নির্যাতন করা হয়েছে। নতুন একটা বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ দেশে আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না। কারণ, তাদের রাজনীতি এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
আগামী নির্বাচনে সবাইকে মিলে ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইদানীং বিভিন্ন স্থানে দুই-চারজন মিলে হঠাৎ একটি মিছিল বের করে। আবার মিনিটের মধ্যে উধাও। এটা সাময়িক, এটা হবে না। এদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে। সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
উক্ত আলোচনা সভায় ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচীর সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সদস্য ও সাবেক কমিশনার চকবাজার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার পারভেজ বাদল, অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কমিশনার মীর আশরাফ আলী আজম, লালবাগ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোতাহার হোসেন বাবলু, ২৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি গোলাম সারোয়ার সামিম, ২৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইজুদ্দীন মাইজু, সাবেক কমিশনার আবদুল আজিজ, বৃহত্তর লালবাগ থানা সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মনির হোসেন লালবাগ থানা যুবদল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন স্বপন, ২৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি আদনান আহমেদ ইমন, লালবাগ থানা বিএনপির নেতা আরমান হোসেন বাদল, ইয়াকিন হোসেন হৃদয় ২৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলসহ লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কোতোয়ালি, কামরাঙ্গীরচর থানার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

যে কৌশলে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র

পথসভায় মীর নেওয়াজ আলী

পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য দিয়ে ঐক্যে ফাটল ধরাবেন না

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

জামায়াত নেতাদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুববিষয়ক সহ-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ। তিনি বলেছেন, পক্ষে-বিপক্ষে কঠিন বক্তব্য দিয়ে ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরাবেন না। এই মুহূর্তে ঐক্যে ফাটল ধরলে দেশের জন্য ও নির্বাচনের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। আর এই সুযোগ পাবে ফ্যাসিবাদেরা। তাদের এই সুযোগ দেওয়া হবে না, দেওয়া যাবে না। শনিবার (৮ নভেম্বর) পুরান ঢাকার লালবাগে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মসূচি পালন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা লিফলেট বিতরণের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত পথসভাটি লালবাগের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মীর নেওয়াজ আলী বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের সুযোগ জাতীয় রাজনীতিতে রয়েছে। সবাই মিলে সে সুযোগ নিয়ে কাজ করি। আগামী নির্বাচনকে ভণ্ডুল ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা ষড়যন্ত্র এখনও চলছে। যেন দেশে নির্বাচন না হয়, সে জন্য হাসিনা ও তার দল দেশে-বিদেশে বসে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। চক্রান্ত করছে। কিন্তু কোনও ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত কাজে আসবে না। সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় এ নেতা বলেন, হাসিনা রাজনীতি করেননি, করেছেন দুর্নীতি ও লুটপাট। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দুঃশাসনে জড়িত ছিলেন। দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন, গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হাসিনা দেশের মানুষকে জিম্মি করে নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। এ কারণে দলের শত্রু, জনশত্রু ও গণশত্রুতে পরিণত হতে হয়েছে তাদের। এত কিছুর পরও ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেননি তারা। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে মীর নেওয়াজ আলী বলেন, গত ১৭ বছরে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে শ্রমিকেরাও নির্যাতন, গুম ও খুন থেকে বাঁচতে পারেননি। তাদের ওপর কঠিন নির্যাতন করা হয়েছে। নতুন একটা বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ দেশে আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না। কারণ, তাদের রাজনীতি এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
আগামী নির্বাচনে সবাইকে মিলে ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইদানীং বিভিন্ন স্থানে দুই-চারজন মিলে হঠাৎ একটি মিছিল বের করে। আবার মিনিটের মধ্যে উধাও। এটা সাময়িক, এটা হবে না। এদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে। সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
উক্ত আলোচনা সভায় ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচীর সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সদস্য ও সাবেক কমিশনার চকবাজার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার পারভেজ বাদল, অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কমিশনার মীর আশরাফ আলী আজম, লালবাগ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোতাহার হোসেন বাবলু, ২৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি গোলাম সারোয়ার সামিম, ২৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইজুদ্দীন মাইজু, সাবেক কমিশনার আবদুল আজিজ, বৃহত্তর লালবাগ থানা সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মনির হোসেন লালবাগ থানা যুবদল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন স্বপন, ২৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি আদনান আহমেদ ইমন, লালবাগ থানা বিএনপির নেতা আরমান হোসেন বাদল, ইয়াকিন হোসেন হৃদয় ২৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলসহ লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কোতোয়ালি, কামরাঙ্গীরচর থানার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এমআর/সবা