১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরে অর্ধশতাধিক ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ

রংপুর নগরীর প্রায় অর্ধশতাধিক ভবনকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প বা দুর্যোগ হলে এসব ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বড় পরিসরের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি চালাচালি চললেও এখন পর্যন্ত কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গণপূর্ত বিভাগ রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাফিউল আলম জানান, সরকারি ১৭টি ভবন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ভবনের বেশিরভাগই প্রায় দেড়শ বছরেরও বেশি সময় আগে নির্মিত। বেসরকারি ভবনগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নগরবিদ নজরুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য সংগ্রহ চলছে। ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি পুরোনো ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু ভবনে নির্মাণ ত্রুটি ধরা পড়ায় মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকায় রয়েছে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতাল, যা নির্মিত হয়েছিল ১৮৬৪ সালে। এছাড়া ১৯১২ সালে নির্মিত পুলিশ সুপারের রান্নাঘর ও গৃহপরিচারিকার বাসভবন, ১৯৩১ সালে নির্মিত এডিএম কোর্ট ভবন, ১৯১৬ সালের রেকর্ড রুম ও জেলা জজের বাসভবন, ১৯৬১ সালের সিভিল সার্জন অফিস, ১৯১২ সালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বাসভবনসহ আরও কয়েকটি স্থাপনা সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষিত। কিন্তু এসব ভবনে এখনো বিচারিক কার্যক্রম, প্রশাসনিক কাজ, কয়েদিদের চিকিৎসা ও অফিস কার্যক্রম চলছে।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের পার্ক মার্কেটকেও প্রায় ১০ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরেও দোকান মালিকরা স্থান ছাড়তে রাজি না হওয়ায় পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। একইভাবে রংপুর কলেজ হোস্টেল বা মুসলিম ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবন প্রায় ১২ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এখনো সেখানে শিক্ষার্থীরা বসবাস করছে।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাফিউল আলম বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকা বারবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো কোনো নির্মাণাদেশ পাইনি। ফলে ভবনগুলো ভেঙে পুনর্নির্মাণ করতে পারছি না।”

রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আনোয়ারুল হক জানান, “ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

রংপুরে অর্ধশতাধিক ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

রংপুর নগরীর প্রায় অর্ধশতাধিক ভবনকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প বা দুর্যোগ হলে এসব ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বড় পরিসরের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি চালাচালি চললেও এখন পর্যন্ত কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গণপূর্ত বিভাগ রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাফিউল আলম জানান, সরকারি ১৭টি ভবন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ভবনের বেশিরভাগই প্রায় দেড়শ বছরেরও বেশি সময় আগে নির্মিত। বেসরকারি ভবনগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নগরবিদ নজরুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য সংগ্রহ চলছে। ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি পুরোনো ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু ভবনে নির্মাণ ত্রুটি ধরা পড়ায় মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকায় রয়েছে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতাল, যা নির্মিত হয়েছিল ১৮৬৪ সালে। এছাড়া ১৯১২ সালে নির্মিত পুলিশ সুপারের রান্নাঘর ও গৃহপরিচারিকার বাসভবন, ১৯৩১ সালে নির্মিত এডিএম কোর্ট ভবন, ১৯১৬ সালের রেকর্ড রুম ও জেলা জজের বাসভবন, ১৯৬১ সালের সিভিল সার্জন অফিস, ১৯১২ সালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বাসভবনসহ আরও কয়েকটি স্থাপনা সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষিত। কিন্তু এসব ভবনে এখনো বিচারিক কার্যক্রম, প্রশাসনিক কাজ, কয়েদিদের চিকিৎসা ও অফিস কার্যক্রম চলছে।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের পার্ক মার্কেটকেও প্রায় ১০ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরেও দোকান মালিকরা স্থান ছাড়তে রাজি না হওয়ায় পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। একইভাবে রংপুর কলেজ হোস্টেল বা মুসলিম ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবন প্রায় ১২ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এখনো সেখানে শিক্ষার্থীরা বসবাস করছে।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাফিউল আলম বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকা বারবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো কোনো নির্মাণাদেশ পাইনি। ফলে ভবনগুলো ভেঙে পুনর্নির্মাণ করতে পারছি না।”

রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আনোয়ারুল হক জানান, “ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

শু/সবা