অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ ডিবেটিং সোসাইটি ‘অক্সফোর্ড ইউনিয়ন’-এর সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী আরওয়া হানিন এলরাইশ। রোববার (৩০ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম দ্য জেরুসালেম পোস্ট।
১৮২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ব্রিটেনের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার্থী সংগঠন। দ্বিতীয় বর্ষের পিপিই (দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি) শিক্ষার্থী আরওয়া ২০২৬ সালের ট্রিনিটি টার্মের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অক্সফোর্ডে বছরে তিনটি টার্ম— মাইকেলমাস, হিলারি ও ট্রিনিটি।
বিতর্কের মধ্যেই নতুন সভাপতি
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের নেতৃত্ব বদল এসেছে এক বিতর্কিত ঘটনার পর। আগের সভাপতি জর্জ আবারনইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি রাজনীতিক চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডে প্রকাশ্যে উল্লাস প্রকাশ করে সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট দিলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে অনাস্থা ভোটে তিনি সভাপতির পদ হারান।
এমন পরিস্থিতিতেই নেতৃত্বে আসেন আরওয়া। নির্বাচনের পর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নের লক্ষ্য পূরণে সবাই একসঙ্গে কাজ করার যে অঙ্গীকার দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ২০২৬ সালের ট্রিনিটি টার্মে সদস্যদের সেবা করতে উদগ্রীব আমি।’
আরওয়াকে ঘিরেও বিতর্ক
আরওয়া নিজেও সমালোচনার বাইরে নন। জর্জের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে তিনি সাবেক শিক্ষার্থীদের ‘বর্ণবাদী’ আখ্যা দেন। এমনকি তাঁদের ভোটাধিকার সীমিত করার দাবিও তোলেন।
নিজেকে ফিলিস্তিনি পরিচয় দিলেও আরওয়ার গাজায় ঠিক কোথায় বেড়ে ওঠা— তা জানা যায়নি। তিনি কাতারের দোহা কলেজ থেকে এ লেভেল সম্পন্ন করেন। তার বাবা মোহামেদ এলরাইশ ২০১২ সাল থেকে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক গবেষণা বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। ধারণা করা হয়, আরওয়ার জন্ম ২০০৫–২০০৭ সালের মধ্যে।
ফিলিস্তিনি পরিচয়, ব্যক্তিগত পটভূমি এবং বিতর্কিত বক্তব্য সত্ত্বেও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রথম ফিলিস্তিনি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া আরওয়ার জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে।
এমআর/সবা


























