গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে ইউরোপের দেশগুলোতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডেনমার্কসহ ইউরোপের একাধিক দেশ এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে। তারা বলছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো হুমকি বা চাপ গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রিনল্যান্ড ন্যাটো ও ডেনমার্কের অংশ।
ডেনমার্কের অবস্থানকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জার্মানি। লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে এক সফরে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল সোমবার (৫ জানুয়ারি) বলেন, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ। ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় গ্রিনল্যান্ডও ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।
এ সময় স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশসমূহ সুইডেন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানরাও একই ধরনের অবস্থানের কথা জানান।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টুব বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কেরই আছে।
সম্প্রতি মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিকের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা হয়তো শেষ দেশ নয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। এরপর থেকেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় আসে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন। তার মতে, অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে রাশিয়া ও চীনের জাহাজ চলাচল করছে। তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে ভূমিকা প্রয়োজন।
ডেনমার্ক এই দায়িত্ব যথাযথভাবে সামলাতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাড়াতে ডেনমার্ক কেবল একটি কুকুর-স্লেজ টহল মোতায়েন করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে গ্রিনল্যান্ডের সরকার। গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দ্বীপটির প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের নাম জড়ানো সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড ন্যাটোর অংশ এবং নিজেদের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে তারা সচেতন। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আলোচনার পথ খোলা আছে, তবে সে আলোচনা হতে হবে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া মেনে। একইসঙ্গে তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে ট্রাম্পের উপপ্রধান চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র শেয়ার করেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘তাড়াতাড়িই হবে’। এ ঘটনায় ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডেনমার্ক রাষ্ট্রের কোনো অংশ দখলের অধিকার নেই।
এমআর/সবা

























