০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে কলকাতার কুকুর ‘অলোকা’ বিশ্বজুড়ে শান্তির পদযাত্রায়

বিশ্বজুড়ে এখন অশান্তির আবহ খুব স্পষ্ট। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও থামে নি, ইজরায়েল–হামাস সংঘর্ষ এবং ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় উত্তেজনা তুঙ্গে—এই সব ঘটনার মাঝে স্বাগত মতো আবির্ভাব হয়েছে একটি শান্তিকামী উদ্যোগের। এমন সময় ১৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু (Buddhist monks) টেক্সাস থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত প্রায় ২,৩০০ মাইল (প্রায় ৩,৭০০ কিমি) দীর্ঘ পথচলায় “Walk for Peace” (শান্তি কুকুর) নামে শান্তির বার্তা নিয়ে পদযাত্রা শুরু করেছেন।

ভিক্ষুরা বলছেন, এটা কোনও রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়—এটি একটি চেতনামূলক ও শান্তিস্বরূপ যাত্রা, যেখানে তারা প্রতিদিন পায়ে হেঁটে নিজেদের জীবনযাত্রা ও মনোবৃত্তি দিয়ে সহমর্মিতা, করুণা ও একাত্মতার বার্তা ছড়াচ্ছেন।

এই যাত্রার সবচেয়ে অদ্ভুত ও হৃদয়স্পর্শী অংশটি হ’ল এক চুম্বকীয় কুকুরের উপস্থিতি, যার নাম অলোকা (Aloka)। কলকাতা বা এর আশপাশের রাস্তায় এক সময়ের পথের কুকুর অলকা হঠাৎই এই ভিক্ষুদের পদযাত্রায় যোগ দেয় এবং সেদিন থেকেই সে প্রতিদিন সবার সঙ্গে পা মিলিয়ে চলছে। আলোক—এর নামটি সংস্কৃত থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ “আলো” বা “উজ্জ্বলতা”, যা মনের অগাধ শান্তি ও দয়ার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য হয়ে হাঁটতে হাঁটতে অলোকা ভিক্ষুদের পায়ে পায়ে মানুষের মন জয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার নিজস্ব অনুসরণকারী তৈরি হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ তাকে “peace dog” হিসেবে অভিহিত করছে।

 

 

ভিক্ষুরা এই প্রচেষ্টাকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ধ্যানভিত্তিক তীর্থযাত্রা হিসেবে বিবেচনা করছেন, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই শান্তি ও সাম্যের বার্তা বহন করে। ইতোমধ্যে তারা আমেরিকার ১০টি রাজ্য অতিক্রম করেছে এবং ডেকাটুর (জর্জিয়া) মতো শহরে হাজারো মানুষের শুভেচ্ছা পেয়েছে।

এই পথে বাধা এসেছে নানা—কিছু সময় শীতল পরিবেশ, কিছু সময় পথের ক্লান্তি, এমনকি একটি গাড়ি দুর্ঘটনা হয়েছে যেখানে ভিক্ষুদের এসকোর্ট গাড়ি ও দলের কিছু সদস্য আহত হয়েছেন। তবুও তাঁরা থেমে থাকছেন না, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও দৃঢ় হবেন বলে দল জানাচ্ছে।

এই পদযাত্রা শুধু দৈহিক হাঁটা নয়; এটি মানুষের মনের মধ্যেও হাঁটা, যাতে সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও একতা তৈরি হয়। ভিক্ষুরা বারবার বলেছেন, শান্তি বাহ্যিক যুদ্ধবিরোধী প্রচেষ্টা নয়—এটা অন্তর্দর্শন, ধৈর্য, ও প্রতিদিনের আচরণের মাধ্যমে অর্জিত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিবিতে শুরু হলো প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রদর্শনী

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে কলকাতার কুকুর ‘অলোকা’ বিশ্বজুড়ে শান্তির পদযাত্রায়

আপডেট সময় : ০৭:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বজুড়ে এখন অশান্তির আবহ খুব স্পষ্ট। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও থামে নি, ইজরায়েল–হামাস সংঘর্ষ এবং ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় উত্তেজনা তুঙ্গে—এই সব ঘটনার মাঝে স্বাগত মতো আবির্ভাব হয়েছে একটি শান্তিকামী উদ্যোগের। এমন সময় ১৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু (Buddhist monks) টেক্সাস থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত প্রায় ২,৩০০ মাইল (প্রায় ৩,৭০০ কিমি) দীর্ঘ পথচলায় “Walk for Peace” (শান্তি কুকুর) নামে শান্তির বার্তা নিয়ে পদযাত্রা শুরু করেছেন।

ভিক্ষুরা বলছেন, এটা কোনও রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়—এটি একটি চেতনামূলক ও শান্তিস্বরূপ যাত্রা, যেখানে তারা প্রতিদিন পায়ে হেঁটে নিজেদের জীবনযাত্রা ও মনোবৃত্তি দিয়ে সহমর্মিতা, করুণা ও একাত্মতার বার্তা ছড়াচ্ছেন।

এই যাত্রার সবচেয়ে অদ্ভুত ও হৃদয়স্পর্শী অংশটি হ’ল এক চুম্বকীয় কুকুরের উপস্থিতি, যার নাম অলোকা (Aloka)। কলকাতা বা এর আশপাশের রাস্তায় এক সময়ের পথের কুকুর অলকা হঠাৎই এই ভিক্ষুদের পদযাত্রায় যোগ দেয় এবং সেদিন থেকেই সে প্রতিদিন সবার সঙ্গে পা মিলিয়ে চলছে। আলোক—এর নামটি সংস্কৃত থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ “আলো” বা “উজ্জ্বলতা”, যা মনের অগাধ শান্তি ও দয়ার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য হয়ে হাঁটতে হাঁটতে অলোকা ভিক্ষুদের পায়ে পায়ে মানুষের মন জয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার নিজস্ব অনুসরণকারী তৈরি হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ তাকে “peace dog” হিসেবে অভিহিত করছে।

 

 

ভিক্ষুরা এই প্রচেষ্টাকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ধ্যানভিত্তিক তীর্থযাত্রা হিসেবে বিবেচনা করছেন, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই শান্তি ও সাম্যের বার্তা বহন করে। ইতোমধ্যে তারা আমেরিকার ১০টি রাজ্য অতিক্রম করেছে এবং ডেকাটুর (জর্জিয়া) মতো শহরে হাজারো মানুষের শুভেচ্ছা পেয়েছে।

এই পথে বাধা এসেছে নানা—কিছু সময় শীতল পরিবেশ, কিছু সময় পথের ক্লান্তি, এমনকি একটি গাড়ি দুর্ঘটনা হয়েছে যেখানে ভিক্ষুদের এসকোর্ট গাড়ি ও দলের কিছু সদস্য আহত হয়েছেন। তবুও তাঁরা থেমে থাকছেন না, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও দৃঢ় হবেন বলে দল জানাচ্ছে।

এই পদযাত্রা শুধু দৈহিক হাঁটা নয়; এটি মানুষের মনের মধ্যেও হাঁটা, যাতে সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও একতা তৈরি হয়। ভিক্ষুরা বারবার বলেছেন, শান্তি বাহ্যিক যুদ্ধবিরোধী প্রচেষ্টা নয়—এটা অন্তর্দর্শন, ধৈর্য, ও প্রতিদিনের আচরণের মাধ্যমে অর্জিত হয়।