০১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদির হত্যার বিচার যাতে না হয় সেই ষড়যন্ত্র চলমান: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পেছনে সরকারের ভেতরে ও বাইরে নানা মহল জড়িত বলে সন্দেহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যাতে না হয়, সেই ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে বলে মনে করছে তারা। এ কারণেই বিচার নিয়ে, অভিযোগপত্র নিয়ে, আসামি ধরা নিয়ে টালবাহানা চলছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ এসব কথা বলেন।

রিফাত রশিদ বলেন, বাংলাদেশের ইন্টেলিজেন্স একজন আসামিকে ধরতে পারে না, এটা আসলে সন্দেহের উদ্রেক ঘটায়। বরং আসামিকে যাতে না ধরা হয়, তাদের সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অবিলম্বে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি বলেন, হত্যাকারীদের পেছনে থাকা কুশীলবদের নাম জনগণের সামনে প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এই জায়গা থেকে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, এই হত্যার বিচার না করে যাঁরা নির্বাচনের মাঠে যাচ্ছেন, বাংলাদেশের জনগণ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করবে।

এ সময় রিফাত রশিদ আগের তিন দফা দাবি কিছুটা পরিবর্তন করে আবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো ১. মাহাদী ও সুরভিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং ওমর ফারুকসহ সব হেনস্তাকারী পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

৩. জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে। তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে তাঁদের যাতে হয়রানি না করা হয়, সে জন্য একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করতে হবে। এবং ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতিবঞ্চিত যেসব অফিসার রয়েছেন, দ্রুত তাদের পদোন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদে তাদের পদায়ন করতে হবে।

রিফাত রশিদ বলেন, ‘আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যেভাবে জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার ভ্যানগার্ড হয়ে উঠেছিলাম, আবারও আমরা নতুন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্মকে জুলাই বিপ্লবীদের ভ্যানগার্ড বলে ঘোষণা করছি এবং বাংলাদেশের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় দফা-বাংলাদেশের এক দফা, সেটি হলো, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাই।’

কর্মসূচিও ঘোষণা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। এগুলো হলো- ১. জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্রজনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) তালিকা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর পাশাপাশি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও তালিকা হচ্ছে। এই তালিকা করার পর তাঁদের নাম ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।

২. ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ (দায়মুক্তি অধ্যাদেশ) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি নিশ্চিত করতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। নির্বাচনকালীন বৃহত্তম দুটি জোটের প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাইয়ের বৈপ্লবিক চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাই বিপ্লবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের কর্মসূচি চলমান রাখবে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদির হত্যার বিচার যাতে না হয় সেই ষড়যন্ত্র চলমান: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পেছনে সরকারের ভেতরে ও বাইরে নানা মহল জড়িত বলে সন্দেহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যাতে না হয়, সেই ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে বলে মনে করছে তারা। এ কারণেই বিচার নিয়ে, অভিযোগপত্র নিয়ে, আসামি ধরা নিয়ে টালবাহানা চলছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ এসব কথা বলেন।

রিফাত রশিদ বলেন, বাংলাদেশের ইন্টেলিজেন্স একজন আসামিকে ধরতে পারে না, এটা আসলে সন্দেহের উদ্রেক ঘটায়। বরং আসামিকে যাতে না ধরা হয়, তাদের সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অবিলম্বে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি বলেন, হত্যাকারীদের পেছনে থাকা কুশীলবদের নাম জনগণের সামনে প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এই জায়গা থেকে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, এই হত্যার বিচার না করে যাঁরা নির্বাচনের মাঠে যাচ্ছেন, বাংলাদেশের জনগণ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করবে।

এ সময় রিফাত রশিদ আগের তিন দফা দাবি কিছুটা পরিবর্তন করে আবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো ১. মাহাদী ও সুরভিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং ওমর ফারুকসহ সব হেনস্তাকারী পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

৩. জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে। তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে তাঁদের যাতে হয়রানি না করা হয়, সে জন্য একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করতে হবে। এবং ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতিবঞ্চিত যেসব অফিসার রয়েছেন, দ্রুত তাদের পদোন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদে তাদের পদায়ন করতে হবে।

রিফাত রশিদ বলেন, ‘আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যেভাবে জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার ভ্যানগার্ড হয়ে উঠেছিলাম, আবারও আমরা নতুন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্মকে জুলাই বিপ্লবীদের ভ্যানগার্ড বলে ঘোষণা করছি এবং বাংলাদেশের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় দফা-বাংলাদেশের এক দফা, সেটি হলো, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাই।’

কর্মসূচিও ঘোষণা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। এগুলো হলো- ১. জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্রজনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) তালিকা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর পাশাপাশি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও তালিকা হচ্ছে। এই তালিকা করার পর তাঁদের নাম ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।

২. ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ (দায়মুক্তি অধ্যাদেশ) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি নিশ্চিত করতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। নির্বাচনকালীন বৃহত্তম দুটি জোটের প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাইয়ের বৈপ্লবিক চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাই বিপ্লবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের কর্মসূচি চলমান রাখবে।

এমআর/সবা