০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় তিনি নিজে ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠেয় এই আলোচনাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি ওই আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকব এবং এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যাক, কী হয়।” ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে ওমানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের দূতাবাসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চায় এবং দেশটিকে ‘খুবই কঠিন’ আলোচক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “তারা আগে চাইলে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যেত। আমরা তখন তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে বি–২ বোমারু বিমান পাঠাতে বাধ্য হতাম না। আমি আশা করি এবার তারা আরও যুক্তিসংগত হবে।”

প্রায় আট মাস বিরতির পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করে। গত বছর ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষিতে ১২ দিনব্যাপী ত্রিদেশীয় সংঘাতের পর এই আলোচনা স্থগিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পারস্য উপসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হলেও উভয় পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক বলে মূল্যায়ন করেছে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু এখনো দুই দেশের মধ্যে প্রধান মতবিরোধের বিষয়। ইরান চায়, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে পশ্চিমা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বিদেশে পাঠাক।

এ ছাড়া ওয়াশিংটন আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা করবে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম কর্মদিবসের কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০৩:১৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় তিনি নিজে ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠেয় এই আলোচনাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি ওই আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকব এবং এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যাক, কী হয়।” ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে ওমানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের দূতাবাসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চায় এবং দেশটিকে ‘খুবই কঠিন’ আলোচক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “তারা আগে চাইলে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যেত। আমরা তখন তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে বি–২ বোমারু বিমান পাঠাতে বাধ্য হতাম না। আমি আশা করি এবার তারা আরও যুক্তিসংগত হবে।”

প্রায় আট মাস বিরতির পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করে। গত বছর ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষিতে ১২ দিনব্যাপী ত্রিদেশীয় সংঘাতের পর এই আলোচনা স্থগিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পারস্য উপসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হলেও উভয় পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক বলে মূল্যায়ন করেছে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু এখনো দুই দেশের মধ্যে প্রধান মতবিরোধের বিষয়। ইরান চায়, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে পশ্চিমা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বিদেশে পাঠাক।

এ ছাড়া ওয়াশিংটন আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা করবে।

শু/সবা