০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেনেভায় আলোচনা, ওমান সাগরে ইরান–রাশিয়ার যৌথ নৌমহড়া

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনার লক্ষ্য ছিল ইরান সংকট ও রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান খোঁজা। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করছে তেহরান।

ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের ওমান সাগরে এ মহড়া শুরু হবে। এর আগে সোমবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) হরমুজ প্রণালিতে পৃথক মহড়া চালায়, যা এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রতি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়।

বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল হাসান মাকসৌদলু জানান, ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরের উত্তরাংশে যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এ মহড়ার লক্ষ্য সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার এবং দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি। তবে মহড়া কতদিন চলবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

নিরাপত্তাজনিত কারণে মহড়ার সময় কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।

মঙ্গলবার জেনেভায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার আলোচনায় মধ্যস্থতা করে ওমান। এর আগে প্রথম দফার আলোচনা হয়েছিল ওমানের রাজধানী মাসকাট-এ। ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনা চললেও গত বছরের জুনে ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের পর তা স্থগিত হয়ে যায়। ওই সংঘাতের সময় ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন মার্কিন রণতরিগুলোকে ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মঙ্গলবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও এমন চপেটাঘাত খেতে পারে, যেখান থেকে তারা আর সেরে উঠতে পারবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী’ বলে দাবি করার প্রেক্ষিতে খামেনি এ মন্তব্য করেন। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বাকৃবির সেরা ১০ গবেষকের সঙ্গে আইকিউএসি’র মতবিনিময় ও সংবর্ধনা

জেনেভায় আলোচনা, ওমান সাগরে ইরান–রাশিয়ার যৌথ নৌমহড়া

আপডেট সময় : ০৯:২৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনার লক্ষ্য ছিল ইরান সংকট ও রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান খোঁজা। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করছে তেহরান।

ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের ওমান সাগরে এ মহড়া শুরু হবে। এর আগে সোমবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) হরমুজ প্রণালিতে পৃথক মহড়া চালায়, যা এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রতি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়।

বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল হাসান মাকসৌদলু জানান, ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরের উত্তরাংশে যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এ মহড়ার লক্ষ্য সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার এবং দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি। তবে মহড়া কতদিন চলবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

নিরাপত্তাজনিত কারণে মহড়ার সময় কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।

মঙ্গলবার জেনেভায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার আলোচনায় মধ্যস্থতা করে ওমান। এর আগে প্রথম দফার আলোচনা হয়েছিল ওমানের রাজধানী মাসকাট-এ। ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনা চললেও গত বছরের জুনে ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের পর তা স্থগিত হয়ে যায়। ওই সংঘাতের সময় ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন মার্কিন রণতরিগুলোকে ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মঙ্গলবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও এমন চপেটাঘাত খেতে পারে, যেখান থেকে তারা আর সেরে উঠতে পারবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী’ বলে দাবি করার প্রেক্ষিতে খামেনি এ মন্তব্য করেন। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।

শু/সবা