হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান-সম্পর্কিত সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের উত্তেজনার পর থেকেই প্রণালিটি বৈশ্বিক জ্বালানি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ওই সময় ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়।
এরই মধ্যে এবার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশটি জানায়, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের আগে সব নৌযানকে তাদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত টোল পরিশোধ করতে হবে।
নৌচলাচল বিষয়ক জার্নাল লয়েড’স লিস্ট জানায়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী নৌযানগুলোকে “ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন” নামে একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে। এতে জাহাজের মালিকানা, বীমা, ক্রু, পণ্য, যাত্রা শুরু ও গন্তব্যসহ ৪০টিরও বেশি তথ্য দিতে হবে।
ইরান জানায়, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে এর দায় সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
এ বিষয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটি হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে টোল কত হবে বা কীভাবে আদায় করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইরানের এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের জন্য প্রণালিটি অতিক্রম করা কঠিন হবে। প্রয়োজনে নৌযানগুলোকে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নতুন নিয়ম বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
শু/সবা
সবুজ বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























