2:44 am, Sunday, 24 May 2026

ইরান যুদ্ধের কারণে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি সাময়িক স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আপাতত স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের গোলাবারুদের মজুত ধরে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হাং কাও।

বৃহস্পতিবার সিনেটের এক শুনানিতে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা সাময়িক বিরতি দিচ্ছি, যেন এপিক ফিউরি অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ আমাদের হাতে থাকে।’ তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনো পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

হাং কাও জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বিদেশে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি আবারও শুরু হতে পারে। তবে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস তাইওয়ানের জন্য নতুন অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করে। তবে তা কার্যকর করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন পেলে এটি হবে তাইওয়ানের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হস্তান্তর।

এর আগে গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল। নতুন প্যাকেজটি সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

এদিকে তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, তাইওয়ান নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে অস্ত্র কেনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থগিতাদেশ তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেছেন, এতে তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে আস্থাহীনতা বাড়তে পারে এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর রাজনৈতিক সমর্থন কমে যেতে পারে।

চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তার বিরোধিতা করছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয় না, তবে ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী দ্বীপটির নিরাপত্তায় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে ওয়াশিংটনের।

সম্প্রতি ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি অস্ত্র চুক্তিকে চীনের সঙ্গে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং তের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ নিলে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

20 + eight =

About Author Information

Popular Post

গাজা যুদ্ধকালীন ইসরায়েলকে যেভাবে অস্ত্র জুগিয়েছে ৫১টি দেশ

ইরান যুদ্ধের কারণে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি সাময়িক স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ০৫:৫২:৪৯ pm, Friday, ২২ মে ২০২৬

তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আপাতত স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের গোলাবারুদের মজুত ধরে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হাং কাও।

বৃহস্পতিবার সিনেটের এক শুনানিতে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা সাময়িক বিরতি দিচ্ছি, যেন এপিক ফিউরি অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ আমাদের হাতে থাকে।’ তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনো পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

হাং কাও জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বিদেশে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি আবারও শুরু হতে পারে। তবে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস তাইওয়ানের জন্য নতুন অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করে। তবে তা কার্যকর করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন পেলে এটি হবে তাইওয়ানের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হস্তান্তর।

এর আগে গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল। নতুন প্যাকেজটি সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

এদিকে তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, তাইওয়ান নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে অস্ত্র কেনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থগিতাদেশ তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেছেন, এতে তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে আস্থাহীনতা বাড়তে পারে এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর রাজনৈতিক সমর্থন কমে যেতে পারে।

চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তার বিরোধিতা করছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয় না, তবে ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী দ্বীপটির নিরাপত্তায় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে ওয়াশিংটনের।

সম্প্রতি ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি অস্ত্র চুক্তিকে চীনের সঙ্গে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং তের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ নিলে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

শু/সবা