সাইবার যৌন হয়রানি ও নারীর প্রতি অনলাইন সহিংসতা–সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলা নির্বিচারে বাতিলের বিধান নিয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০(৫) ধারার বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল দেন।
রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, সাইবার যৌন হয়রানি ও নারীর প্রতি অনলাইন সহিংসতার অভিযোগসংক্রান্ত বিচারাধীন মামলা নির্বিচারে বাতিলের সুযোগ রেখে সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০(৫) ধারা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারা ও এর অপব্যবহার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ২০২৫ সালের ২১ মে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। একই বছরের ২২ অক্টোবর সংশোধনীর মাধ্যমে ৫০ ধারায় পরিবর্তন আনা হয় এবং পরে সেটিকে আইনে রূপ দেওয়া হয়।
আইনের ৫০(৫) ধারায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার অধীনে বিচারাধীন বা তদন্তাধীন সব মামলা ও কার্যক্রম বাতিল হবে এবং এ-সংক্রান্ত দণ্ড ও জরিমানাও বাতিল বলে গণ্য হবে।
রিট আবেদনকারী রুবাইয়া মনজুরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছদ্মবেশ ধারণ করে হয়রানির অভিযোগে ২০২০ সালের ৬ জুন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪(২), ২৫(২) ও ২৬(২) ধারায় মামলা করা হয়েছিল। পরে সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০(৫) ধারার আওতায় বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর মামলাটি খারিজ করে দেয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মনিরা হক মনি ও শাহলা শরাফত নিজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ।
পরে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবনায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকার সুরক্ষার কথা বলা হলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা বাতিল করতে গিয়ে সাইবার যৌন হয়রানি ও নারীর বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতার মতো অভিযোগের মামলাও বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এতে ভুক্তভোগীরা বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ ছাড়া সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০(৫) ধারার ভিত্তিতে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রিট আবেদনকারীর মামলা বাতিলের আদেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আইনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
শু/সবা
সবুজ বাংলা অনলাইন 























