কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নতুন সেবা মাশুল চালুর পরিকল্পনা করছে ইরান। তবে চীনসহ তেহরানের ঘনিষ্ঠ বা ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলো এ ব্যবস্থায় বিশেষ সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদোলরেজা রহমানি ফাজলি।
শনিবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পিস ফোরাম-এ অংশ নিয়ে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি নতুন কাঠামো তৈরির কাজ করছে তেহরান।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে নতুন সেবা মাশুল নেওয়া হবে। যদিও এ প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ৬০ দিন বিনামূল্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী ব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আবদোলরেজা রহমানি ফাজলি বলেন, হরমুজ প্রণালির একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্যে থাকায় সেখানে প্রদত্ত সেবার জন্য মাশুল নেওয়া হবে। তবে এটিকে ‘টোল’ নয়, বরং সেবা ফি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌযাতায়াত নিশ্চিত করা, জাহাজ চলাচলের কার্যকর নজরদারি এবং বিপুলসংখ্যক জাহাজ চলাচলের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলা করা।
তিনি আরও বলেন, যেসব দেশ কঠিন সময়ে ইরানের পাশে ছিল, বিশেষ করে বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলো, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা বিবেচনা করা হবে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান এই প্রণালিতে চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার পর ইরান হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেয়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে আলোচনা চলছে।
সূত্র: এএফপি
শু/সবা
সবুজ বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























