০৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোটালীপাড়ার জনসভায় শেখ হাসিনা

গোপালগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা এই বাংলাদেশকে শুধু স্বাধীনাতা এনে দেন নাই, মুক্তির পথও দেখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধপরাধীদের বিচার শৃরু করেছিলেন, সেই বিচার বন্ধ করে দেয় জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে তাদেরকে বিভিন্ন দুতাবাসসহ বড় বড় পদে চাকুরী
দিয়েছিল। আমরা দু’বোন বিদেশে ছিলাম রিফুজি হয়ে, আমাদের দেশে আসতে দেয়নি জিয়াউর রহমান, রেহানার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছিল, জিয়াউর রহমান সেটি রিনু পর্যন্ত করতে দেয়নি। আমি জিয়াউর রহমানের দেয়া ইন্ডেমনিটি বাতিল করে খুনিদের বিচার করেছি। ২০০৮ সালে বিচারের রায় কার্যকর করেছি। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন বলেই আমি পেরেছি।

প্রধানমন্ত্রী শনিবার বেলা ২ টায় কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান সরকারী কলেজ মাঠে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষনে নিজ আসনের ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে এসব কথা বলেন। তরুনদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, প্রথম বারের ভোট যেন ব্যর্থ না হয়, বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তারুন্যের শক্তি কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটি উন্নত জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।বিএনপি আগুন সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়েছে, বাসে, ট্রেনে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছে. নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে। এগুলি বন্ধ করতে হবে, যারা এগুলি করছে তাদেরকে ধরিয়ে দিতে হবে। আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশী তাকে দেব এটি আমাদের স্লোগান. ভোট ও ভাতের অধিকার সবার রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে যরা ষঢ়যন্ত্র করে আমরা তাদের দেখবো বলে হুশিয়ারী দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, রাখে আল্লাহ মারে কে ? এই কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের ও ৮৪ কেজি ওজনের ২ টি শক্তিশালী বোমা পুঁেতে রাখা হয়েছিল। সেদিন ওই বোমা বিষ্ফোরন হলে কোটালীপাড়াবাসী নিশ্চহ্ন হয়ে যেত। এত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দেখতে পেলনা, কিন্তৃ একজন চায়ের দোকানদার কেটলী ধুতে গিয়ে বোমার তার দেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সংবাদ দিলে বোমা উদ্ধার করা হয়। সেদিন আমাকে এবং কোটালীপাড়া বাসীকে আল্লাহই রক্ষা করেছেন। আমি সেই চায়ের দোকানদারের প্রতি কৃতজ্ঞ।

আওয়ামীলীগ সভানেত্রী বলেন, আমরা আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বানিয়েছি, বিনা পয়সায় স্কুলে স্কুলে ল্যাব স্থাপন করে কম্পিউটার দিয়েছি। আমরা ৩ কোটি ৯৪ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দিচ্ছি। নারীদের কর্ম-সংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষকদের মর্যাদা দিয়েছি. বেতন বৃদ্ধি করেছি, প্রশিক্ষন দিয়েছি। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে জনগনের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিচ্ছি। আমরা ভুমিহীনদের ২ শতক জমিসহ গৃহ নির্মান করে দিয়েছি, দেশের ৩৩ জেলা ইতিমধ্যে ভুমিহীনমুক্ত ঘোষনা করেছি। পর্যায়ক্রমে এই দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবেনা।

তিনি আরো বলেন, এই কোটালীপাড়ার মানুষের এক সময়ে কাজের ও যাতায়াতের কোন সুযোগ ছিলনা। সব করে দিয়েছি, বাকি যা আছে তাও করে দেব। এইভাবে আমরা পুরো দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাই। কোভিড-১৯ এর সময়ে আমরা বিনামূল্যে টিকা দিয়েছি. যা পৃথিবীর কোন ধনী দেশ দিতে পারেনি। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মান করে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি। এখন দিনে দিনে ঢাকা গিয়ে আবার েির আসা যায়। আমরা সুপেয় পানি পানের ব্যবস্থা করেছি, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা করে দিয়েছি। কোন জমি অনাবাদী রাখা যাবেনা। উৎপাদান বৃদ্ধি করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন. জিয়ার আমলে মুক্তিযোদ্ধারা পরিচয় দিতে ভয় পেত। এখন মুক্তিযোদ্দারা বুক ফুলিয়ে তাদের পরিচয় দিতে পারে। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করেছি, তাদেরকে বীর নিবাস করে দিয়েছি। কোটালীপাড়ার ভোটরদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দেবেনতো ? আপনারা আমার নির্বাচন করে দেন, আর আমাকে দেখতে হয় ৩০০ আসন। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দেবেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ভবেন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ছোটবোন শেখ রেহানা, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপি, বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মাহাবুব আলী খান, সাধারন সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ আয়নাল হোসেনসহ কোটালীপাড়া উপজেলার ভিবিন্ন অংগ-সংগঠনের নেতাকর্মী ও লক্ষাধিক ভোটার উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা ১১ টায় টুঙ্গিপাড়ায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অথিতির বক্তৃতা করেন এবং নিজ আসনের ভোটারদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চান।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্দরে আকিজ সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, দগ্ধ – ৮

কোটালীপাড়ার জনসভায় শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ০৮:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩

গোপালগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা এই বাংলাদেশকে শুধু স্বাধীনাতা এনে দেন নাই, মুক্তির পথও দেখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধপরাধীদের বিচার শৃরু করেছিলেন, সেই বিচার বন্ধ করে দেয় জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে তাদেরকে বিভিন্ন দুতাবাসসহ বড় বড় পদে চাকুরী
দিয়েছিল। আমরা দু’বোন বিদেশে ছিলাম রিফুজি হয়ে, আমাদের দেশে আসতে দেয়নি জিয়াউর রহমান, রেহানার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছিল, জিয়াউর রহমান সেটি রিনু পর্যন্ত করতে দেয়নি। আমি জিয়াউর রহমানের দেয়া ইন্ডেমনিটি বাতিল করে খুনিদের বিচার করেছি। ২০০৮ সালে বিচারের রায় কার্যকর করেছি। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন বলেই আমি পেরেছি।

প্রধানমন্ত্রী শনিবার বেলা ২ টায় কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান সরকারী কলেজ মাঠে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষনে নিজ আসনের ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে এসব কথা বলেন। তরুনদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, প্রথম বারের ভোট যেন ব্যর্থ না হয়, বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তারুন্যের শক্তি কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটি উন্নত জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।বিএনপি আগুন সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়েছে, বাসে, ট্রেনে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছে. নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে। এগুলি বন্ধ করতে হবে, যারা এগুলি করছে তাদেরকে ধরিয়ে দিতে হবে। আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশী তাকে দেব এটি আমাদের স্লোগান. ভোট ও ভাতের অধিকার সবার রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে যরা ষঢ়যন্ত্র করে আমরা তাদের দেখবো বলে হুশিয়ারী দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, রাখে আল্লাহ মারে কে ? এই কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের ও ৮৪ কেজি ওজনের ২ টি শক্তিশালী বোমা পুঁেতে রাখা হয়েছিল। সেদিন ওই বোমা বিষ্ফোরন হলে কোটালীপাড়াবাসী নিশ্চহ্ন হয়ে যেত। এত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দেখতে পেলনা, কিন্তৃ একজন চায়ের দোকানদার কেটলী ধুতে গিয়ে বোমার তার দেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সংবাদ দিলে বোমা উদ্ধার করা হয়। সেদিন আমাকে এবং কোটালীপাড়া বাসীকে আল্লাহই রক্ষা করেছেন। আমি সেই চায়ের দোকানদারের প্রতি কৃতজ্ঞ।

আওয়ামীলীগ সভানেত্রী বলেন, আমরা আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বানিয়েছি, বিনা পয়সায় স্কুলে স্কুলে ল্যাব স্থাপন করে কম্পিউটার দিয়েছি। আমরা ৩ কোটি ৯৪ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দিচ্ছি। নারীদের কর্ম-সংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষকদের মর্যাদা দিয়েছি. বেতন বৃদ্ধি করেছি, প্রশিক্ষন দিয়েছি। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে জনগনের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিচ্ছি। আমরা ভুমিহীনদের ২ শতক জমিসহ গৃহ নির্মান করে দিয়েছি, দেশের ৩৩ জেলা ইতিমধ্যে ভুমিহীনমুক্ত ঘোষনা করেছি। পর্যায়ক্রমে এই দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবেনা।

তিনি আরো বলেন, এই কোটালীপাড়ার মানুষের এক সময়ে কাজের ও যাতায়াতের কোন সুযোগ ছিলনা। সব করে দিয়েছি, বাকি যা আছে তাও করে দেব। এইভাবে আমরা পুরো দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাই। কোভিড-১৯ এর সময়ে আমরা বিনামূল্যে টিকা দিয়েছি. যা পৃথিবীর কোন ধনী দেশ দিতে পারেনি। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মান করে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি। এখন দিনে দিনে ঢাকা গিয়ে আবার েির আসা যায়। আমরা সুপেয় পানি পানের ব্যবস্থা করেছি, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা করে দিয়েছি। কোন জমি অনাবাদী রাখা যাবেনা। উৎপাদান বৃদ্ধি করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন. জিয়ার আমলে মুক্তিযোদ্ধারা পরিচয় দিতে ভয় পেত। এখন মুক্তিযোদ্দারা বুক ফুলিয়ে তাদের পরিচয় দিতে পারে। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করেছি, তাদেরকে বীর নিবাস করে দিয়েছি। কোটালীপাড়ার ভোটরদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দেবেনতো ? আপনারা আমার নির্বাচন করে দেন, আর আমাকে দেখতে হয় ৩০০ আসন। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দেবেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ভবেন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ছোটবোন শেখ রেহানা, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপি, বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মাহাবুব আলী খান, সাধারন সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ আয়নাল হোসেনসহ কোটালীপাড়া উপজেলার ভিবিন্ন অংগ-সংগঠনের নেতাকর্মী ও লক্ষাধিক ভোটার উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা ১১ টায় টুঙ্গিপাড়ায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অথিতির বক্তৃতা করেন এবং নিজ আসনের ভোটারদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চান।