০৩:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এক মেশিনেই ৮০ রোগের চিকিৎসা!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেশিন ডাক্তার নামে
এক প্রতারকের উদ্ভব ঘটেছে। তার নাম আবু তাহের সিদ্দিকি। মুলত তিনি
হাতুড়ে ডাক্তার। উপজেলার রায়পুরে চরআবাবিল ইউপির (বাসাবাড়ী-হায়দরগঞ্জ সড়ক)
দক্ষিণ উদমারা গ্রামের হাজী স্টেশান এলাকায় হাজী মেডিকেল হলে বসেন হাতুড়ে
ডাক্তার আবু তাহের সিদ্দিক। তিনি হাজী মেডিকেলের মালিক।
তার নিকট রয়েছে বিশেষ একটি মেশিন। ওই মেশিন দিয়ে মধ্যবয়সী নারী, বৃদ্ধ ও
যুবককে চিকিৎসা ও ওষুধ দিচ্ছেন তিনি। ওই মেশিনে শরীরের ৮০ প্রকার রোগ তথা
বাত, মেহপ্রমেহ, গ্যাস্টিক, আলসার, মাজায়-কোমরে ব্যথা, বুক ধরফর,
ডায়াবেটিস ও যৌন সমস্যা সহ নানা রোগের তাৎক্ষণিক সমাদানসহ গ্যারান্টি
দিয়েই কেবল এন্টিবায়োটিক ওষুধ লিখে দিচ্ছেন। এতে প্রেসক্রিপশন বাবদ ২’শ
টাকা দিতে হয় তাকে। আবার বাধ্যতামুলক ওষুধগুলো তার দোকান থেকে নিতে
হচেছ রোগীদের।
স্থানীয়রা জানায়, এতে এলাকাবাসী আবু তাহের সিদ্দিককে মেশিন ডাক্তার নামে
জানেন বেশী। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফলে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানুষের
অর্থ লুটে নিচ্ছে হাতুড়ে এই চিকিৎসক। কারো কারো অভিযোগ,তার
চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। আবার অনেকেই আতঙ্কে
এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ছেড়ে দিয়েছে। তবে এটিকে বৈজ্ঞানিক
চিকিৎসা বলে দাবি করেন সিদ্দিক। অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দাবি,
একটি ভাঁওতাবাজি, প্রতারণা ও অপচিকিৎসা ছাড়া আর কিছুই।
এদিকে আবু তাহের সিদ্দিকীর কাছে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার
চরকাছিয়া গ্রামের রুবী বেগম জানান, গত কদিন আগে হাজি মেডিকেলে তার
কোমরের ব্যথার জন্য যান। সিদ্দিক তাকে কোনো পরীক্ষা না দিয়েই মেশিন ধরে
প্রেসক্রিপশন শুরু করেন। এরপর কয়েক হাজার টাকার ওষুধ লিখে দেন এবং এই ওষুধগুলো
তার দোকান থেকে কিনতে বলেন। আমি অন্যের (দালালের) কথায় এখান এসে আবাক
কান্ড দেখলাম। এতে আমি বিস্মিত হয়ে পড়ি। মান্দারি বাজার থেকে আসা মনির

হোসেন (৪২) জানান, একমাস আগে আমার হাতের রগ মোটা হয়ে যন্ত্রণা করে।
কিন্তু এই ডাক্তার আমার হাতে- বুকে কয়েকটি মেশিন দিয়ে দেখে । এরপর আমার
আলছার হয়েছে বলে একমাস আগে এন্টিবায়োটিকসহ ১২ হাজার টাকার ওষুধ
লিখে দেয়। কিন্তু এর কোনো প্রতিকারই পাইনি। ওই ওষুধ সেবনে রোগ ভালো না
হয়ে উল্টো আমি ভারসাম্যহীন হয়ে হতাশায় আছি। তাই আবার আসার পর তিনি
আরও ১২ হাজার টাকার ওধুষ লাগবে বলে। ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারের অভিযোগ, মানুষের
কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতেই এসব করছে হাতুড়ে ডাক্তার প্রতারক
আবু তাহের সিদ্দিক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তাহের সিদ্দিকি বলেন, রোগী দেখা প্রেসক্রিপশন
দেওয়ার জন্য আমার কয়েকটি প্রশিক্ষণ রয়েছে। প্রেসক্রিপশন রোগীর কী রোগ তা
লেখার প্রয়োজন হয় না। একটি প্যাডে পদবি ডিএমএস লিখেন। আর ২’শ টাকা
নিয়ে এন্টিবায়োটিকসহ ১০-১২ হাজার টাকার ওষুধ কেন দিচ্ছেন এসব প্রশ্নের
কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে এটা বলেন, রোগীরা আসেন, তাই
চিকিৎসা দিয়ে থাকি। আমিও বর্তমানে অসুস্থ আছি, পরে কথা বলব তিনি
বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম
বলেন, এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বেও একই ধরনের অভিযোগ শুনেছি। রাস্তার পাশের
হাতুরে চিকিৎসা শরীরের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। অসাধু হাতুরে
ডাক্তারদের বিভিন্ন রোগের পরামর্শে চোখ, চর্ম রোগ বা ক্যান্সারসহ নানাজটিল
রোগ হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনসহ
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যকে জরুরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

এক মেশিনেই ৮০ রোগের চিকিৎসা!

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৪

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেশিন ডাক্তার নামে
এক প্রতারকের উদ্ভব ঘটেছে। তার নাম আবু তাহের সিদ্দিকি। মুলত তিনি
হাতুড়ে ডাক্তার। উপজেলার রায়পুরে চরআবাবিল ইউপির (বাসাবাড়ী-হায়দরগঞ্জ সড়ক)
দক্ষিণ উদমারা গ্রামের হাজী স্টেশান এলাকায় হাজী মেডিকেল হলে বসেন হাতুড়ে
ডাক্তার আবু তাহের সিদ্দিক। তিনি হাজী মেডিকেলের মালিক।
তার নিকট রয়েছে বিশেষ একটি মেশিন। ওই মেশিন দিয়ে মধ্যবয়সী নারী, বৃদ্ধ ও
যুবককে চিকিৎসা ও ওষুধ দিচ্ছেন তিনি। ওই মেশিনে শরীরের ৮০ প্রকার রোগ তথা
বাত, মেহপ্রমেহ, গ্যাস্টিক, আলসার, মাজায়-কোমরে ব্যথা, বুক ধরফর,
ডায়াবেটিস ও যৌন সমস্যা সহ নানা রোগের তাৎক্ষণিক সমাদানসহ গ্যারান্টি
দিয়েই কেবল এন্টিবায়োটিক ওষুধ লিখে দিচ্ছেন। এতে প্রেসক্রিপশন বাবদ ২’শ
টাকা দিতে হয় তাকে। আবার বাধ্যতামুলক ওষুধগুলো তার দোকান থেকে নিতে
হচেছ রোগীদের।
স্থানীয়রা জানায়, এতে এলাকাবাসী আবু তাহের সিদ্দিককে মেশিন ডাক্তার নামে
জানেন বেশী। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফলে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানুষের
অর্থ লুটে নিচ্ছে হাতুড়ে এই চিকিৎসক। কারো কারো অভিযোগ,তার
চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। আবার অনেকেই আতঙ্কে
এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ছেড়ে দিয়েছে। তবে এটিকে বৈজ্ঞানিক
চিকিৎসা বলে দাবি করেন সিদ্দিক। অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দাবি,
একটি ভাঁওতাবাজি, প্রতারণা ও অপচিকিৎসা ছাড়া আর কিছুই।
এদিকে আবু তাহের সিদ্দিকীর কাছে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার
চরকাছিয়া গ্রামের রুবী বেগম জানান, গত কদিন আগে হাজি মেডিকেলে তার
কোমরের ব্যথার জন্য যান। সিদ্দিক তাকে কোনো পরীক্ষা না দিয়েই মেশিন ধরে
প্রেসক্রিপশন শুরু করেন। এরপর কয়েক হাজার টাকার ওষুধ লিখে দেন এবং এই ওষুধগুলো
তার দোকান থেকে কিনতে বলেন। আমি অন্যের (দালালের) কথায় এখান এসে আবাক
কান্ড দেখলাম। এতে আমি বিস্মিত হয়ে পড়ি। মান্দারি বাজার থেকে আসা মনির

হোসেন (৪২) জানান, একমাস আগে আমার হাতের রগ মোটা হয়ে যন্ত্রণা করে।
কিন্তু এই ডাক্তার আমার হাতে- বুকে কয়েকটি মেশিন দিয়ে দেখে । এরপর আমার
আলছার হয়েছে বলে একমাস আগে এন্টিবায়োটিকসহ ১২ হাজার টাকার ওষুধ
লিখে দেয়। কিন্তু এর কোনো প্রতিকারই পাইনি। ওই ওষুধ সেবনে রোগ ভালো না
হয়ে উল্টো আমি ভারসাম্যহীন হয়ে হতাশায় আছি। তাই আবার আসার পর তিনি
আরও ১২ হাজার টাকার ওধুষ লাগবে বলে। ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারের অভিযোগ, মানুষের
কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতেই এসব করছে হাতুড়ে ডাক্তার প্রতারক
আবু তাহের সিদ্দিক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তাহের সিদ্দিকি বলেন, রোগী দেখা প্রেসক্রিপশন
দেওয়ার জন্য আমার কয়েকটি প্রশিক্ষণ রয়েছে। প্রেসক্রিপশন রোগীর কী রোগ তা
লেখার প্রয়োজন হয় না। একটি প্যাডে পদবি ডিএমএস লিখেন। আর ২’শ টাকা
নিয়ে এন্টিবায়োটিকসহ ১০-১২ হাজার টাকার ওষুধ কেন দিচ্ছেন এসব প্রশ্নের
কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে এটা বলেন, রোগীরা আসেন, তাই
চিকিৎসা দিয়ে থাকি। আমিও বর্তমানে অসুস্থ আছি, পরে কথা বলব তিনি
বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম
বলেন, এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বেও একই ধরনের অভিযোগ শুনেছি। রাস্তার পাশের
হাতুরে চিকিৎসা শরীরের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। অসাধু হাতুরে
ডাক্তারদের বিভিন্ন রোগের পরামর্শে চোখ, চর্ম রোগ বা ক্যান্সারসহ নানাজটিল
রোগ হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনসহ
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যকে জরুরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান তিনি।