চট্টগ্রামে সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র গড়ে উঠছে ইটভাটা। গ্রাম, লোকালয়, বনাঞ্চল, পাহাড় ও টিলার আশেপাশে এসব অবৈধ ব্রিকফিল্ড গড়ে উঠায় হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। ব্রিকফিল্ডের ইটভাটার কালো ধোঁয়াসহ ধূলা বালিতে এলাকার পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। ব্রিকফিল্ডের ইট তৈরির জন্য প্রচুর পরিমাণ মাটির প্রয়োজন। এসব মাটি সংগ্রহ করছে পাহাড় ও টিলার মাটি কেটে। এছাড়া দরিদ্র পরিবারের চাষাবাদের জমির মাটি চড়া দামে কিনে নিয়ে ইট তৈরি করছেন ব্রিকফিল্ড মালিকরা। এতে জমির টপ সয়েল নষ্ট হচ্ছে এলাকার চাষাবাদের জমির। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ব্রিকর্ফিড মালিকরা পাহাড় ও টিলার কাছে ইটভাটা তৈরি করে আশেপাশের পাহাড় ও টিলা কেটে সাবাড় করছে পাহাড় – টিলা এমন অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকাবাসির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, সাতকানিয়া, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়িসহ অনেক এলাকায় পাহাড় ও টিলার আশেপাশে অসংখ্য ব্রিকফিল্ড গড়ে উঠেছে। ব্রিকফিল্ডের মাটির চাহিদা পূরণে বুদ্ধিমান ব্রিকফিল্ড মালিকরা সরকারী পাহাড় ও টিলার আশেপাশে ব্রিকফিল্ডের ইটভাটা তৈরির জন্য জমি নিয়ে অবাধে পাহাড় – টিলার মাটি কাটছেন। রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নে একের পর এক করে চার/ পাঁচটি ব্রিকফিল্ড গড়ে তোলা হয়েছে পাহাড় – টিলার পাদদেশে। এসব ব্রিকফিল্ডের মাটি রাতের বেলায় সংগ্রহ করা হচ্ছে পাশের পাহাড় ও টিলা কেটে। একই ভাবে পাহাড় ও টিলা কাটা হচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার রানীরহাট ও গাবতল, বগাবিলি এলাকার ব্রিকফিল্ড গুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটিতে। রানীরহাট এলাকায় বিগত দুই দশকে অসংখ্য পাহাড় টিলার মাটি কেটে সমতল করে টিলা ও পাহাড়ের চিহ্ন নষ্ট করা হয়েছে। এখন এসব এলাকার টিলা – পাহাড় ধানের জমির মত সমতল হয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
যততত্র গড়ে উঠা ব্রিকফিল্ড গুলোতে দিন – রাত সমানে জ্বালানী কাঠভর্তি ও ইট বোঝাই ট্রাক, চাঁদের গাড়ী যাতায়াত করায় ফিল্ড থেকে বের হওয়ার রাস্তাসহ আশেপাশের সরকারী রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ব্রিকফিল্ডের রাস্তার ধূলা বালি এলাকার পরিবেশকে দূষণ করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়া ইটভাটার সিমনির কালো ধূঁয়া পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি ডেকে আনছে বলে জানা গেছে। ধূলা বালি ও কালো ধূঁয়ায় এলাকায় সব সময় অন্ধকারচ্ছন্ন হয়ে থাকে। চট্টগ্রামের অসংখ্য ব্রিকফিল্ড গড়ে উঠেছে গ্রাম ও লোকালয়ের আশেপাশে। এতে গ্রামবাসিকে প্রতিদিন পোহাতে হচ্ছে নানা দুর্ভোগ। গ্রামবাসির সৃষ্টি হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ নানা ধরনের রোগবালাই।
উত্তর রাউজান, রাউজান পৌরসভা এলাকায়ও লোকালয়ে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ব্রিকফিল্ড। এসবঅবৈধ ব্রিকফিল্ড গুলোর কারণে এই এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। চট্টগ্রাম – রাঙ্গামাটি সড়কের রানীরহাট গাবতল এলাকায় সড়কের দক্ষিণ পাশে গড়ে উঠা বেশ কয়েকটি ব্রিকফিল্ড মালিক ও তাদের কর্মচারি মাটির অভাবে সড়কের পাশের রাস্তার পাশের মাটি কেটে সাবাড় করেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। অভিরাম বর্ষণে গাবতল এলাকার ব্রিকফিল্ড সংলগ্ন সড়কে ভয়াবহ ধস নামার আশংকা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অবৈধ ভাবে পাহাড় ও টিলার পাশে গড়ে উঠা ব্রিকফিল্ড গুলোর বিরুদ্ধে বিগত দিনে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। চলতি মওসুমেও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ব্রিকফিল্ডে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পরিবেশ নষ্ট করা হলে অভিযোগ পেলে অবশ্যই এ্যাকশন নেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, চট্টগ্রামের অধিকাংশ ব্রিকফিল্ড মালিক পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়েই ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে আসছেন। এসব ব্রিকফিল্ড গুলোর তালিকা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রস্তুতি চলছে। এলাকার পরিবেশ রক্ষা করেই ইটভাটায় ইট পোড়ানোসহ সকল প্রকার কাজ করার তাগাদা রয়েছে আইনে। সরকারী আইনের প্রতি শ্রদ্ধ রেখেই ব্রিকফিল্ড গুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্রিকফিল্ড মালিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন এই কর্মকর্তা।






















