দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে পরাজয়ের পর থেকে ঈগল মার্কার স্বতন্ত্র পরাজিত প্রার্থী ইদ্রিস আলী ইজারাদারের লোকজন আওয়ামী লীগের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। তাদের হামলার ভয়ে এখনো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করলেও উল্টো ইদ্রিস আলী ইজারাদারের সমর্থক জনৈক কেশবলাল মণ্ডল ঢাকা প্রেসক্লাবে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে প্রকৃত ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (১৬জানুয়ারি) খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের সমর্থক ও মোংলার হিন্দু-খ্রিস্টান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষে এ অভিযোগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যান্থনি রমেশ হালদার।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যান্থনি রমেশ হালদার বলেন, বিগত বিভিন্ন নির্বাচনের সময়ে কখনো কোনো সংখ্যালঘু পরিববার কোনোভাবেই কারো দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কিন্তু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ আসনের চিত্র ছিল ভিন্ন। এ নির্বাচনকে ঘিরে নৌকার বিপক্ষের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইদ্রিস আলী ইজারাদারের কর্মী বাহিনী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হিন্দু-খ্রিস্টান ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রকাশ্যে ঈগল প্রতীকে ভোট প্রদানের জন্য হুমকি-ধামকি প্রদান করেন।
তিনি বলেন, গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীরা হামলা চালিয়ে মোংলা উপজেলার সোনাইতলা ইউনিয়নের নৌকার ৬জন ও সুন্দরবন ইউনিয়নের নৌকার ২জন কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এছাড়া নির্বাচনের পর দিন মোংলা পৌন শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হামলা চালিয়ে নৌকার প্রতীকের বেশ কয়েকজন আহত করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন। ঈগল প্রতীকের কর্মীদের হামলার ঘটনায় আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মোংলা থানায় ৭/৮টি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন নৌকার সমর্থক ও নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। এর ওপর উল্টো গত ১৩ জানুয়ারি স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের কর্মী জনৈক কেশবলাল মণ্ডল ঢাকা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী বেগম হাবিবুন্নাহারের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাই নৌকা প্রতীক নিয়ে সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত ইকরাম ইজারাদার নারী নেতৃত্ব হারাম বলে বক্তব্য দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অবনতির চেষ্টাকারী কেশবলাল মণ্ডল ও সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মোংলার হিন্দু-খ্রিস্টান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা যুগল হালদার, প্রমাংসু রায়, সুনীল কুমার বিশ্বাস, মিহির ভান্ডারি, রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল, বিধান মজুমদার, প্রীতিশ হালদার, অসিত চক্রবর্তী, শ্যামল দেওয়ান, অনাধী রায় প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন্নাহার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। হাবিবুন্নাহার খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সহধর্মিনী। ঈগল প্রতীক নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মোংলা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী ইজারাদার।























