০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুই দফায় সাড়ে ৮ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে ঘন কুয়াশার কারণে দুই দফায় সাড়ে ৮ ঘণ্টা সাময়িক বন্ধ থাকার পর পুনরায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে রোববার ভোর ৬ টা এবং পরে সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত মোট সাড়ে ৮ ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এর জন্য দৌলতদিয়া প্রান্তে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া কফিলউদ্দিন ফিলিং স্টেশন এলাকা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের লম্বা লাইন তৈরী হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন আটকে থাকা শত শত যানবাহনের যাত্রী এবং চালকেরা।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১২ টার পর থেকে নদী অববাহিকায় কুয়াশা পড়তে থাকে। রাত ১ টার দিকে অতি মাত্রায় কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ায় নৌদূর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়। এরপর ভোর ৬ টার সময় কুয়াশার ঘনত্ব কমে এলে ফেরি চলাচল শুরু হয়। ৫ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর দেড় ঘন্টা ফেরি চলাচল করলেও সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে আবারো কুয়াশার কারনে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে পূনরায় সাড়ে ৩  ঘন্টা বন্ধ থাকার পর বেলা ১১ টায় পুনরায় এই নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়।

রোববার (২১ জানুয়ারী) সকালে দৌলতদিয়া প্রান্তে দেখা যায়, ফেরি ঘাট এলাকায় ২ শতাধিক ঢাকামুখী গাড়ি নদী পাড়ি দিতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া কফিলউদ্দিন ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার লম্বা লাইনে অপেক্ষা করছে। শীত ও কুয়াশায় আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রীরা গাড়িতেই বসে আছেন। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে বাইরে চায়ের ষ্টলে ভিড় করছেন। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে হেটে ফেরিঘাটের দিকে এগোচ্ছেন। ফেরি ঘাটের সংযোগ সড়কসহ পন্টুনে কিছু গাড়ির সাথে বেশকিছু যাত্রী কখন ফেরিতে উঠবে সে জন্য অপেক্ষা করছেন।

দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট থেকে দুপুর দেড়টার দিকে রো রো ফেরি ‘খান জাহান আলী’ থেকে নামছিলেন রোজিনা পরিবহনের একটি বাস। এসময় বাসের মধ্যে আলাপকালে সুপারভাইজার হেলাল মাহমুদ জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকা টেকনিক্যাল মাজার রোড থেকে কুমারখালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে এসে পৌছায় তারা। ঘাটে এসে সিরিয়াল ঠেলে সাড়ে ১২ টায় ফেরিতে উঠেন তারা। কুয়াশার কারনে ধীরগতিতে যাত্রা শুরু করে দুপুর দেড়টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে এসে ভেড়ে ফেরিটি। দুপুর দুইটার মধ্যে কুমারখালি থাকার কথা থাকলেও তাদের পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৩ টা বেজে যাবে বলে তিনি জানান।

এদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে সকাল ১০ টার দিকেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। রিকশা, অটোরিকশা  ও ভ্যানে করে জরুরি কাজে ছুটে চলা মানুষদেরকে যবুথবু অবস্থায় বসে চলাচল করতে দেখা যায়।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, কুয়াশার কারণে ঘাটে ফেরিগুলো নোঙর করে ছিল। কুয়াশার কারনে দুইদফায় ফেরি বন্ধের সাড়ে ৮ ঘন্টা পর বেলা ১১ টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরি ছেড়ে যায়। ফেরি বন্ধের কারনে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হওয়ায় দৌলতদিয়া প্রান্তে ২ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকে ছিলো। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সিরিয়াল থাকবে না বলে তিনি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীনের স্মরণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

দুই দফায় সাড়ে ৮ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক

আপডেট সময় : ০২:০৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে ঘন কুয়াশার কারণে দুই দফায় সাড়ে ৮ ঘণ্টা সাময়িক বন্ধ থাকার পর পুনরায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে রোববার ভোর ৬ টা এবং পরে সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত মোট সাড়ে ৮ ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এর জন্য দৌলতদিয়া প্রান্তে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া কফিলউদ্দিন ফিলিং স্টেশন এলাকা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের লম্বা লাইন তৈরী হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন আটকে থাকা শত শত যানবাহনের যাত্রী এবং চালকেরা।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১২ টার পর থেকে নদী অববাহিকায় কুয়াশা পড়তে থাকে। রাত ১ টার দিকে অতি মাত্রায় কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ায় নৌদূর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়। এরপর ভোর ৬ টার সময় কুয়াশার ঘনত্ব কমে এলে ফেরি চলাচল শুরু হয়। ৫ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর দেড় ঘন্টা ফেরি চলাচল করলেও সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে আবারো কুয়াশার কারনে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে পূনরায় সাড়ে ৩  ঘন্টা বন্ধ থাকার পর বেলা ১১ টায় পুনরায় এই নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়।

রোববার (২১ জানুয়ারী) সকালে দৌলতদিয়া প্রান্তে দেখা যায়, ফেরি ঘাট এলাকায় ২ শতাধিক ঢাকামুখী গাড়ি নদী পাড়ি দিতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া কফিলউদ্দিন ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার লম্বা লাইনে অপেক্ষা করছে। শীত ও কুয়াশায় আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রীরা গাড়িতেই বসে আছেন। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে বাইরে চায়ের ষ্টলে ভিড় করছেন। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে হেটে ফেরিঘাটের দিকে এগোচ্ছেন। ফেরি ঘাটের সংযোগ সড়কসহ পন্টুনে কিছু গাড়ির সাথে বেশকিছু যাত্রী কখন ফেরিতে উঠবে সে জন্য অপেক্ষা করছেন।

দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট থেকে দুপুর দেড়টার দিকে রো রো ফেরি ‘খান জাহান আলী’ থেকে নামছিলেন রোজিনা পরিবহনের একটি বাস। এসময় বাসের মধ্যে আলাপকালে সুপারভাইজার হেলাল মাহমুদ জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকা টেকনিক্যাল মাজার রোড থেকে কুমারখালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে এসে পৌছায় তারা। ঘাটে এসে সিরিয়াল ঠেলে সাড়ে ১২ টায় ফেরিতে উঠেন তারা। কুয়াশার কারনে ধীরগতিতে যাত্রা শুরু করে দুপুর দেড়টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে এসে ভেড়ে ফেরিটি। দুপুর দুইটার মধ্যে কুমারখালি থাকার কথা থাকলেও তাদের পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৩ টা বেজে যাবে বলে তিনি জানান।

এদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে সকাল ১০ টার দিকেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। রিকশা, অটোরিকশা  ও ভ্যানে করে জরুরি কাজে ছুটে চলা মানুষদেরকে যবুথবু অবস্থায় বসে চলাচল করতে দেখা যায়।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, কুয়াশার কারণে ঘাটে ফেরিগুলো নোঙর করে ছিল। কুয়াশার কারনে দুইদফায় ফেরি বন্ধের সাড়ে ৮ ঘন্টা পর বেলা ১১ টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরি ছেড়ে যায়। ফেরি বন্ধের কারনে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হওয়ায় দৌলতদিয়া প্রান্তে ২ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকে ছিলো। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সিরিয়াল থাকবে না বলে তিনি জানান।