পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে চলছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ৫নম্বর ঘাটের অদূরে যানবাহনসহ ডুবে যাওয়া ফেরি রজনীগন্ধা উদ্ধার কাজ। এ ছাড়াও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ ফেরির সহাকরী ইঞ্জিন মাস্টার হুমায়ন কবিরের।
বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত দুইদিনের উদ্ধারকারী তিনটি জাহাজ মিলে আরও একটি পণ্যবাহী ট্রাক উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে ডুবে যাওয়া ৯টি যানবাহনের মধ্যে ৪টি যানবাহন উদ্ধার করা হলো। তবে নিখোঁজ সহকারী ইঞ্জিন মাস্টার হুমায়ন কবিরের সন্ধানের বিষয়ে কোন উত্তর নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
গত মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে ছোট-বড় ৯টি পণ্যবাহী যানবাহন (ট্রাক) নিয়ে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে ফেরি রজনীগন্ধা। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারনে দুর্ঘটনা এড়াতে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ঘাটের অদূরে রাতে নোঙ্গর করে রাখা হয়। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নোঙ্গর অবস্থায় ফেরিতে পানি ওঠে কাত হয়ে এবং ৯টি যানবাহন ও ২১জন ব্যক্তি ধীরে ধীরে ফেরিটি উল্টে যায়। ফেরিতে থাকা ২০জন ব্যক্তি পাড়ে ওঠতে পারলেও ফেরির সহকারী ইঞ্জিন মাস্টার হুমায়ন কবির নিখোঁজ হন।
বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা যায়, যানবাহন নিয়ে ডুবে যাওয়া ফেরি রজনীগন্ধার স্বাভাবিক ওজন ছিল ২৫০টণ। কিন্তু ফেরিটি ডুবে যাওয়ার ফলে ওজন বেড়েছে এবং ফেরিতে প্রচুর বালি মাটি পরেছে। এতে করে ফেরির ওজন প্রায় সাড়ে ৩০০ টণের মতো হয়ে গেছে। ফেরি যত বেশি ডুবে থাকবে তত বেশি ওজন বাড়বে। কিন্তু উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার ওজন ৫০ টণ, রুস্তমের ওজন ৬০ টণ এবং উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়ের ওজন ২৫০ টণ সম্পন্ন।
বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম শাহ মোহাম্মদ খালেদ নেওয়াজ জানান, ডুবে যাওয়া ৯টি যানবাহনের মধ্যে গত পাঁচ দিনে ৪টি পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও আরো দুটি ট্রাকের সন্ধান পাওয়া গেছে। ফেরি উদ্ধারের জন্য সবার আগে ডুবে যাওয়া যানবাহন উদ্ধার করা হচ্ছে। যানবাহন উদ্ধার করা হলে ফেরিটি উদ্ধার করা সহজ হবে। ডুবে যাওয়া যানবাহনের সন্ধান পেতে উদ্ধার কাজে সহযোগীতা করতে ঝিনাই নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ এসে কাজ শুরু করেছে। কারন নদীর পানি বেশি হওয়ায় ডুবে যাওয়া যানবাহনের সঠিক লোকেশন ট্র্যাক করা সম্ভব ছিলনা। এ করনে উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য ঝিনাই যোগ দিয়েছে। উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েই একটি ট্রাক উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং আরো দুটি ট্রাকের সন্ধান পাওয়া গেছে। এরপর ফেরি উদ্ধার কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, আমরা আশাবাদী যানবাহন উদ্ধার শেষ হলে উদ্ধারকারী এসব জাহাজ ফেরিটিকে সোজা করবে। তারপর ফেরিটিকে পাড়ে নিয়ে আসা হবে। যদি ফেরিটির তলায় ফুটো বা তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাহলে নদীতে ফেরি উল্টো করে, নদীতেই ফেরিটি মেরামত করা হবে। ফেরিটি যেহেতু নদীর পাড়ে ওঠাতে হবেনা। এ কারনে আমাদের উদ্ধারকারী জাহাজগুলোই ফেরির জন্য যথেষ্ঠ।
বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-সংরক্ষণ পরিচালক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক এসএম আকবর আলী সবুজ বাংলাকে জানান, উদ্ধার কাজে ঝিনাই যোগ হওয়ার পর আমাদের উদ্ধার কাজ সহজ হয়েছে। কারন নদীতে পানি বেশি হওয়ায় ডুবুরি দল ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের যানবাহনের সন্ধান পেতে কষ্ট হয়েছে। যার কারনে ডুবে যাওয়া যানবাহন উদ্ধার করতে সময় বেশি লাগছে। তবে এখন উদ্ধার কাজে বেশি সময় লাগবেনা। আশা করা যাচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি যানবাহন উদ্ধার করতে পারবো এবং ডুবে যাওয়া ফেরিটি স্বাভাবিক চলাচল করবে।
এদিকে নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের প্রধান লেফটেন্যান্ট শাহ পরান ইমন সবুজ বাংলাকে জানান, উদ্ধার কাজে নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ও বিআইডব্লিউটিএর অর্ধশতাধিক ডুবুরি সদস্যরা কাজ করছে। ফেরি ও যানবাহন উদ্ধার করতে ফেরির একপাশে বড় বড় ওয়্যার রোপ দিয়ে উদ্ধারকারী প্রত্যয়ের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এখন ফেরিটি কাত করে আরেক পাশে ওয়্যার রোপ যুক্ত করতে পারলে ফেরিটি ভাসানো সম্ভব। কিন্তু প্রচন্ড শীতের কারনে ডুবুরিরা পানিতে বেশিক্ষণ থাকতে পারছেনা। ঝুকি নিয়ে এই প্রচন্ড শীতের ডুবুরি সদস্যদের কাজ করতে হচ্ছে। এ ছাড়াও নিখোঁজ ফেরির সহকারী ইঞ্জিন মাস্টার হুমায়ন কবিরের সন্ধানে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার সবুজ বাংলাকে জানান, ফেরি ডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি। তদন্ত কমিটির সাথে কথা বলে এবং তদন্ত প্রতিবেদন উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।






















