১০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বৈদ্যুতিক গোলযোগে প্রায় দুই ঘণ্টা অচল মেট্রোরেল

ভোগান্তিতে যাত্রীরা, তদন্ত কমিটি গঠন

বৈদ্যুতিক গোলযোগে ঢাকার মেট্রোরেল চলাচল প্রায় দুই ঘণ্টা অচল ছিল। আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনের ভেতর এবং স্টেশনে স্টেশনে আটকেপড়া যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব শেষ হওয়ায় গতকাল রোববার সকাল থেকেই মেট্রোরেলে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ ছিল। এর মধ্যে বেলা পৌনে ৩টায় ট্রেনগুলো হঠাৎ যাত্রাপথেই থমকে দাঁড়ায়। পরে জানা যায়, বৈদ্যুতিক লাইনে সমস্যা থেকে এ জটিলতা হয়েছে। এ সময় উত্তরা সাউথ থেকে শেওড়পাড়া পর্যন্ত বৈদ্যুতিক লাইনে সমস্যা দেখা দেয় বলে জানান মেট্রোরেল পরিচালনাকারী ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (ইলেকট্রিক্যাল) মীর মনজুর রহিম। এতে কিছু সময় ভোগান্তির মধ্যে পড়েছিলেন মেট্রোর যাত্রীরা।

এমআরটি লাইন-৬ এর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, পল্লবী সেকশনে ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমে (ওসিএস) ভোল্টেজ জিরো হয়ে গিয়েছিল। আমাদের কর্মকর্তারা দীর্ঘসময় চেষ্টা করে বিষয়টি সমাধান করেছেন। অবশেষে ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট পর বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকাকালীন অনেক স্টেশন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে যাত্রীরা স্টেশনে প্রবেশ করতে পারেননি। তবে আগে যারা স্টেশনে ঢুকেছিলেন তারা ভেতরে অবস্থান করছিলেন। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলে তারা গন্তব্যে পৌঁছান।
তদন্ত কমিটি গঠন : ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম-ওসিএস (ট্রেন চলাচলের ওপরের বিদ্যুৎ লাইন) জিরো ভোল্টেজ হয়ে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

রোববার সংবাদ মাধ্যমকে এ কথা জানান ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক।
তিনি বলেন, আজ (রোববার) মেট্রোরেল চলাচল বন্ধের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে। এটা ইন্টারনাল নাকি এক্সটারনাল তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
এদিকে মেট্রোরেলের দ্বায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমে ১৫০০ ভোল্ট প্রয়োজন হয় ট্রেন চালানোর জন্য। এবং প্রত্যেকটি স্টেশনে ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম আলাদা। মাঝে মাঝে তা ভোল্টেজ আপ-ডাউন করে।
রোববার দুপুরে হঠাৎ পল্লবী সেকশনে দুটি লাইনেই বিদ্যুৎ সরবরাহ জিরো হয়ে যায়। যদিও ঘটনার সময় পল্লবীর আগের ও পরের সেকশনে বিদ্যুতের ভোল্টেজ স্বাভাবিক ছিল।

মতিঝিলগামী একজন যাত্রী জানান, শেওড়াপাড়া স্টেশনে এসে ট্রেন বন্ধের খবর জানতে পারেন। পরে স্টেশন কর্তৃপক্ষ অপেক্ষমাণ যাত্রীদের টাকা ব্যাক দিয়ে বের হওয়ার ব্যবস্থা করেন।
এর আগে আখেরি মোনাজাত ফেরত যাত্রীদের চাপ সামলাতে না পেরে মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশনের ফটক এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। দুপুর ১২টায় স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করার ফটক বন্ধ করে যাত্রীদের পরের স্টেশনে যাবার অনুরোধ জানানো হয় মাইকে। তবে খোলা রাখা হয় বের হওয়ার ফটক।
মেট্রোরেলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, অতিরিক্ত চাপ সামলাতে না পেরে উত্তরা সেন্টার এবং দক্ষিণ স্টেশন থেকে টিকিট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের। পরে বেলা ১টার দিকে স্টেশনের ফটক আবার খুলে দেওয়া হয় বলে জানান মহাব্যবস্থাপক (সিগন্যাল) নজরুল ইসলাম।

বৈদ্যুতিক গোলযোগে প্রায় দুই ঘণ্টা অচল মেট্রোরেল

আপডেট সময় : ০৫:০০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বৈদ্যুতিক গোলযোগে ঢাকার মেট্রোরেল চলাচল প্রায় দুই ঘণ্টা অচল ছিল। আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনের ভেতর এবং স্টেশনে স্টেশনে আটকেপড়া যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব শেষ হওয়ায় গতকাল রোববার সকাল থেকেই মেট্রোরেলে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ ছিল। এর মধ্যে বেলা পৌনে ৩টায় ট্রেনগুলো হঠাৎ যাত্রাপথেই থমকে দাঁড়ায়। পরে জানা যায়, বৈদ্যুতিক লাইনে সমস্যা থেকে এ জটিলতা হয়েছে। এ সময় উত্তরা সাউথ থেকে শেওড়পাড়া পর্যন্ত বৈদ্যুতিক লাইনে সমস্যা দেখা দেয় বলে জানান মেট্রোরেল পরিচালনাকারী ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (ইলেকট্রিক্যাল) মীর মনজুর রহিম। এতে কিছু সময় ভোগান্তির মধ্যে পড়েছিলেন মেট্রোর যাত্রীরা।

এমআরটি লাইন-৬ এর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, পল্লবী সেকশনে ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমে (ওসিএস) ভোল্টেজ জিরো হয়ে গিয়েছিল। আমাদের কর্মকর্তারা দীর্ঘসময় চেষ্টা করে বিষয়টি সমাধান করেছেন। অবশেষে ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট পর বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকাকালীন অনেক স্টেশন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে যাত্রীরা স্টেশনে প্রবেশ করতে পারেননি। তবে আগে যারা স্টেশনে ঢুকেছিলেন তারা ভেতরে অবস্থান করছিলেন। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলে তারা গন্তব্যে পৌঁছান।
তদন্ত কমিটি গঠন : ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম-ওসিএস (ট্রেন চলাচলের ওপরের বিদ্যুৎ লাইন) জিরো ভোল্টেজ হয়ে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

রোববার সংবাদ মাধ্যমকে এ কথা জানান ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক।
তিনি বলেন, আজ (রোববার) মেট্রোরেল চলাচল বন্ধের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে। এটা ইন্টারনাল নাকি এক্সটারনাল তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
এদিকে মেট্রোরেলের দ্বায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমে ১৫০০ ভোল্ট প্রয়োজন হয় ট্রেন চালানোর জন্য। এবং প্রত্যেকটি স্টেশনে ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম আলাদা। মাঝে মাঝে তা ভোল্টেজ আপ-ডাউন করে।
রোববার দুপুরে হঠাৎ পল্লবী সেকশনে দুটি লাইনেই বিদ্যুৎ সরবরাহ জিরো হয়ে যায়। যদিও ঘটনার সময় পল্লবীর আগের ও পরের সেকশনে বিদ্যুতের ভোল্টেজ স্বাভাবিক ছিল।

মতিঝিলগামী একজন যাত্রী জানান, শেওড়াপাড়া স্টেশনে এসে ট্রেন বন্ধের খবর জানতে পারেন। পরে স্টেশন কর্তৃপক্ষ অপেক্ষমাণ যাত্রীদের টাকা ব্যাক দিয়ে বের হওয়ার ব্যবস্থা করেন।
এর আগে আখেরি মোনাজাত ফেরত যাত্রীদের চাপ সামলাতে না পেরে মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশনের ফটক এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। দুপুর ১২টায় স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করার ফটক বন্ধ করে যাত্রীদের পরের স্টেশনে যাবার অনুরোধ জানানো হয় মাইকে। তবে খোলা রাখা হয় বের হওয়ার ফটক।
মেট্রোরেলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, অতিরিক্ত চাপ সামলাতে না পেরে উত্তরা সেন্টার এবং দক্ষিণ স্টেশন থেকে টিকিট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের। পরে বেলা ১টার দিকে স্টেশনের ফটক আবার খুলে দেওয়া হয় বলে জানান মহাব্যবস্থাপক (সিগন্যাল) নজরুল ইসলাম।