০৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাল্য বিয়ের সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ৪ সাংবাদিকের নামে মামলা!!!

বাল্যবিয়ে মুক্ত জেলা লালমনিরহাটে অপ্রাপ্ত এক ছেলের ৩বিয়ের ঘটনায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার আবেদন করেছেন নিকাহ রেজিস্ট্রার। রংপুর আদালতে সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার আবেদন করেছেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার কাজী ওমর আলী। তিনি আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ছাবেরা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মৌলভী শিক্ষক।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক রাজু মিয়া আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামের আউয়াল মিয়ার ছেলে। তার জন্ম সনদ (১৫/১২/২০০৩) অনুযায়ী বয়স কুড়ি বছর অতিক্রম হলেও সরকারী বিধিমতে ২১ বছরের আগে বিয়ের সুযোগ নেই। অথচ কুড়ি বছরেই ৩টি বিয়ে মধ্যে ও ২টি বিবাহ বিচ্ছেদ করেছেন তিনি।
সাইবার ট্রাইবুনালে দায়ের করা অভিযোগের অভিযুক্ত সংবাদকর্মীরা হলেন, আজকের বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকার লালমনিরহাট প্রতিনিধি আশরাফুল হক, এশিয়ান টিভি ও জবাবদিহি পত্রিকার নিয়ন দুলাল, দৈনিক নবচেতনা’র লিয়াকত আলী ও দৈনিক লাখকন্ঠের আব্দুর রাজ্জাক।
জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার গন্ধমরুয়া গ্রামের আউয়াল মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া দুই বছর আগে প্রায় ১৮ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করেন মোগলহাট ইউনিয়নের ভাটিবাড়ি গ্রামের ফজলু হকের কিশোরী মেয়ে ফারজানাকে। বর কণে দু’জনের বয়স কম থাকায় বিয়ে রেজিস্ট্রি হলেও নকল দেননি পাশ্ববর্তি মোগলহাট ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার কাজী ওমর আলী। বিয়ের এক মাসের মধ্যে তাদের সংসারে বিচ্ছেদের সুর বেজে উঠে। নকল না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেননি মেয়ের পরিবার। অবশেষে বিয়ের এক বছরের মাঝে একই নিকাহ রেজিস্টারের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে তাদের।
বিচ্ছেদের পরে একই ভাবে দুর্গাপুর গ্রামের আমিনুল হকের মেয়ে স্থানীয় ছাবেরা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রুপালী খাতুনকে(১৩) দ্বিতীয় বিয়ে করেন রাজু মিয়া। দ্বিতীয় বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন রুপালীর স্কুলের মৌলভী শিক্ষক মোগলহাট ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার কাজী ওমর আলী। বর কণে দু’জনে অপ্রাপ্ত হওয়ায় নকল দেননি কাজী ওমর আলী। সেই বিয়েতেও এক মাস পরে বিচ্ছেদের সুর বেজে উঠে। আবারও সমস্যায় পড়েন বর ও কণের পরিবার। নকল না দেয়ায় কোন পক্ষই নিতে পারছিল না আইনি পদক্ষেপ।
অবশেষে বর রাজু মিয়া রুপালীকে বিয়ে করেছেন মর্মে লিখিত দিয়ে গত বছরের ২৪ নভেম্বর তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটান। তবে এ বিচ্ছেদের নোটিশ ফেরত পাঠান রুপালীর পরিবার। রাজুর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিয়ের নকল চেয়ে দফায় দফায় নিকাহ রেজিস্টার ওমর আলীর সাথে যোগাযোগ করেন রুপালীর পরিবার। এ দিকে রাজু পুনরায় প্রথম স্ত্রীকে তৃতীয় বিয়ে করে ঢাকায় পাড়ি জমান।
বারবার নাবালক ছেলের বাল্যবিয়ে দিয়ে ফিস আদায় করলেও নকল না দেয়ায় আলোচনায় আসেন কাজী ওমর আলী। একই সাথে নিজে শিক্ষক হয়ে তার বিদ্যালয়ের নাবালিকা শিক্ষার্থীর বিয়ে দিয়ে বৈধ কাগজ না দেয়ার প্রতারনার বিষয়টি অনুসন্ধানে নামেন চার জন সংবাদকর্মী। তারা রুপালীর পরিবারের সকল সদস্য, বিয়ের স্বাক্ষী ঘটকসহ সংশ্লিষ্টদের ভিডিও স্বাক্ষাতকার নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে জেলা রেজিস্টার লিখিত কৌফিয়ত তলব করে মোগলহাট ইউনিয়নের নিকাহ রেজিটার কাজী ওমর আলীকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৫ জানুয়ারি চার সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে রংপুর সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার আবেদন করেন কাজী ওমর আলী। বিচারক অভিযোগটি তদন্ত করতে লালমনিরহাট সদর থানাকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন।
লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওমর ফারুক  ফারুক জানান,একজন সাব ইন্সপেক্টরকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।তদন্ত শেষ হলে সে মোতাবেক প্রতিবেদন সাইমুনালের সংশিলিষ্ঠ আদালতে দাখিল করা হবে।
এবিষয়ে লালমনিরহাট জেলা রেজিস্ট্রার খালিদ বিন আসাদ বলেন,বাল্য বিবাহ রোধের লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন সময়ে সমাবেশ করছি।নিকাহ রেজিস্ট্রার তার কর্ম এলাকার বাইরে বিবাহ রেজিষ্ট্রী ও সহকারী নিকাহ রেজিস্ট্রার রাখতে পারবেন এমন কোন বিধান নেই।মেয়ের ১৮ ও ছেলের ২১ বছরের আগে  বিয়ে রেজিষ্ট্রী করা বা বিয়ে দেয়া আইনত অপরাধ।তিনি বলেন নিয়মের কোন রকম ব্যাতয় তদন্তে পাওয়া গেলে নিকাহ রেজিস্ট্রার এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

দাঁড়িপাল্লা-মাহফিল নিয়ে দেওয়া আরেক জামায়াত নেতার বক্তব্য ভাইরাল

বাল্য বিয়ের সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ৪ সাংবাদিকের নামে মামলা!!!

আপডেট সময় : ০৩:৪২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪
বাল্যবিয়ে মুক্ত জেলা লালমনিরহাটে অপ্রাপ্ত এক ছেলের ৩বিয়ের ঘটনায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার আবেদন করেছেন নিকাহ রেজিস্ট্রার। রংপুর আদালতে সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার আবেদন করেছেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার কাজী ওমর আলী। তিনি আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ছাবেরা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মৌলভী শিক্ষক।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক রাজু মিয়া আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামের আউয়াল মিয়ার ছেলে। তার জন্ম সনদ (১৫/১২/২০০৩) অনুযায়ী বয়স কুড়ি বছর অতিক্রম হলেও সরকারী বিধিমতে ২১ বছরের আগে বিয়ের সুযোগ নেই। অথচ কুড়ি বছরেই ৩টি বিয়ে মধ্যে ও ২টি বিবাহ বিচ্ছেদ করেছেন তিনি।
সাইবার ট্রাইবুনালে দায়ের করা অভিযোগের অভিযুক্ত সংবাদকর্মীরা হলেন, আজকের বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকার লালমনিরহাট প্রতিনিধি আশরাফুল হক, এশিয়ান টিভি ও জবাবদিহি পত্রিকার নিয়ন দুলাল, দৈনিক নবচেতনা’র লিয়াকত আলী ও দৈনিক লাখকন্ঠের আব্দুর রাজ্জাক।
জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার গন্ধমরুয়া গ্রামের আউয়াল মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া দুই বছর আগে প্রায় ১৮ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করেন মোগলহাট ইউনিয়নের ভাটিবাড়ি গ্রামের ফজলু হকের কিশোরী মেয়ে ফারজানাকে। বর কণে দু’জনের বয়স কম থাকায় বিয়ে রেজিস্ট্রি হলেও নকল দেননি পাশ্ববর্তি মোগলহাট ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার কাজী ওমর আলী। বিয়ের এক মাসের মধ্যে তাদের সংসারে বিচ্ছেদের সুর বেজে উঠে। নকল না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেননি মেয়ের পরিবার। অবশেষে বিয়ের এক বছরের মাঝে একই নিকাহ রেজিস্টারের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে তাদের।
বিচ্ছেদের পরে একই ভাবে দুর্গাপুর গ্রামের আমিনুল হকের মেয়ে স্থানীয় ছাবেরা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রুপালী খাতুনকে(১৩) দ্বিতীয় বিয়ে করেন রাজু মিয়া। দ্বিতীয় বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন রুপালীর স্কুলের মৌলভী শিক্ষক মোগলহাট ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার কাজী ওমর আলী। বর কণে দু’জনে অপ্রাপ্ত হওয়ায় নকল দেননি কাজী ওমর আলী। সেই বিয়েতেও এক মাস পরে বিচ্ছেদের সুর বেজে উঠে। আবারও সমস্যায় পড়েন বর ও কণের পরিবার। নকল না দেয়ায় কোন পক্ষই নিতে পারছিল না আইনি পদক্ষেপ।
অবশেষে বর রাজু মিয়া রুপালীকে বিয়ে করেছেন মর্মে লিখিত দিয়ে গত বছরের ২৪ নভেম্বর তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটান। তবে এ বিচ্ছেদের নোটিশ ফেরত পাঠান রুপালীর পরিবার। রাজুর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিয়ের নকল চেয়ে দফায় দফায় নিকাহ রেজিস্টার ওমর আলীর সাথে যোগাযোগ করেন রুপালীর পরিবার। এ দিকে রাজু পুনরায় প্রথম স্ত্রীকে তৃতীয় বিয়ে করে ঢাকায় পাড়ি জমান।
বারবার নাবালক ছেলের বাল্যবিয়ে দিয়ে ফিস আদায় করলেও নকল না দেয়ায় আলোচনায় আসেন কাজী ওমর আলী। একই সাথে নিজে শিক্ষক হয়ে তার বিদ্যালয়ের নাবালিকা শিক্ষার্থীর বিয়ে দিয়ে বৈধ কাগজ না দেয়ার প্রতারনার বিষয়টি অনুসন্ধানে নামেন চার জন সংবাদকর্মী। তারা রুপালীর পরিবারের সকল সদস্য, বিয়ের স্বাক্ষী ঘটকসহ সংশ্লিষ্টদের ভিডিও স্বাক্ষাতকার নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে জেলা রেজিস্টার লিখিত কৌফিয়ত তলব করে মোগলহাট ইউনিয়নের নিকাহ রেজিটার কাজী ওমর আলীকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৫ জানুয়ারি চার সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে রংপুর সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার আবেদন করেন কাজী ওমর আলী। বিচারক অভিযোগটি তদন্ত করতে লালমনিরহাট সদর থানাকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন।
লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওমর ফারুক  ফারুক জানান,একজন সাব ইন্সপেক্টরকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।তদন্ত শেষ হলে সে মোতাবেক প্রতিবেদন সাইমুনালের সংশিলিষ্ঠ আদালতে দাখিল করা হবে।
এবিষয়ে লালমনিরহাট জেলা রেজিস্ট্রার খালিদ বিন আসাদ বলেন,বাল্য বিবাহ রোধের লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন সময়ে সমাবেশ করছি।নিকাহ রেজিস্ট্রার তার কর্ম এলাকার বাইরে বিবাহ রেজিষ্ট্রী ও সহকারী নিকাহ রেজিস্ট্রার রাখতে পারবেন এমন কোন বিধান নেই।মেয়ের ১৮ ও ছেলের ২১ বছরের আগে  বিয়ে রেজিষ্ট্রী করা বা বিয়ে দেয়া আইনত অপরাধ।তিনি বলেন নিয়মের কোন রকম ব্যাতয় তদন্তে পাওয়া গেলে নিকাহ রেজিস্ট্রার এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।