০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইফতারে জুটছে না মুড়িও

 

সীমিত আয় দিয়ে ঊর্ধ্বগতির বাজারে টেনেটুনে সংসার চালাচ্ছে সাধারণ মানুষ। পবিত্র রমজান মাসে নিয়মিত বাজার তালিকার সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে ইফতার। ইফতারের আয়োজনে পরিবারের সদস্যদের একটু ফলমূল খাওয়াতে চান সকলেই। তবে সাধ থাকলেও সাধ্য নেই নিম্নআয়ের মানুষের। বাজারে ফলের যে চড়া দাম এতে করে পুরো মাসে হয়তো দুই-এক দিন খাওয়ানো কঠিন হবে শ্রমজীবী মানুষের।

গতকাল বিকালে রংপুরের বঙ্গবন্ধু চত্বরের পাশে ফুটপাতের দোকান থেকে বরই ক্রয় করার সময় বেসরকারি চাকরিজীবী নুর আলম বলেন, চিড়া, মুড়ি আর কলা মাখিয়ে যে ইফতার করব- তাও হচ্ছে না। বাজারে কলারও যেভাবে দাম বেড়েছে, তাতে মনে হচ্ছে আমাদের মতো মানুষের জন্য এসব ফল না। এগুলো এখন বড়লোকের খাবার। তার এমন মন্তব্যে সত্যতা পাওয়া যায় রংপুরের ফলের বাজারগুলোতে। বাজারে প্রতিটি ফলের দামই নিয়ন্ত্রণহীন। বিদেশি ফলের দাম শুনলে তো চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, আমদানিতে চড়া শুল্ক এবং ডলার সংকটে এলসি জটিলতা থাকায় বিদেশি ফলের দাম চড়া। খেজুরসহ অন্যান্য ফলকে বিলাসী তালিকায় ফেলে উচ্চ শুল্ক আরোপ করায় ফলে দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এদিকে শুধু বিদেশি ফলই নয়, বাজারে যেসব দেশি ফল পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর দামও নাগালের বাইরে। এখন সেই ফলও অনেকটা বিলাসী পণ্যে রূপ নিয়েছে। মধ্যবিত্তদেরর নাগালের বাইরে চলে গেছে দেশি ফল।

জানা যায়, বাজারে যেসব দেশি ফল পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে বরই বিক্রয় করা হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। পেয়ারার কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। পাকা পেঁপের কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। আনারসের কেজি বিক্রয় হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। দেশীয় ফলের মধ্যে সফেদা পাওয়া যাচ্ছে রংপুরের বাজারে। এই ফলের কেজি বিক্রয় হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ শরবত। আর সেই শরবতে বেলের চাহিদা থাকে। চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দাম বেড়েছে বেলেরও। প্রতি পিস বিক্রয় হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বাজারে কলার দাম দেখলেও আঁতকে উঠতে হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষের। এক সপ্তাহ আগেও ১০০ টাকা ডজন ছিল সবরি কলার। রোজা উপলক্ষে ডজনপ্রতি এই কলার দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। ডজনপ্রতি ১৫ টাকা বেড়েছে সাগর কলার দামও।

ফল বিক্রেতা সাব্বির বলেন, মোকামে দাম বেশি। আমরা তো ক্রয় করে নিয়ে আসি। মোকামে দাম বাড়লে আমাদের কাছেও বাড়ে যায়। রংপুর সিটি বাজারের ফল ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, রমজান মাস হওয়ায় মানুষের ফল ক্রয় করা চাহিদা বেড়ে যায়। এ কারণে মোকামে দাম বাড়িয়ে দেয় পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আমরা তো সেখান থেকে ক্রয় করে এনে বিক্রয় করে থাকি। যে দামে ক্রয় করে আনি তার চেয়ে কিছু বেশি রেখে বিক্রয় করা হয়।

জানা যায়, এক সপ্তাহ আগেও ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হওয়া কমলা রোজার আগের দিন থেকেই বিক্রয় হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। মানভেদে কমলা বিক্রয় হচ্ছে ৩০০ টাকা দরেও। রোজার আগে আপেল বিক্রয় হতো ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায়। রোজার প্রথম দিন থেকে তা বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি। মৌসুমের আগে বাজারে এসেছে তরমুজ। রোজায় চাহিদার তুঙ্গে থাকা এই দেশীয় ফলের দামও আকাশছোঁয়া। তরমুজ পিস হিসেবে বিক্রয় হওয়ার নিয়ম থাকলেও তা বিক্রয় হচ্ছে কেজি হিসেবে। প্রতি কেজির দাম ৮০ টাকা। সে হিসাবে ছোট আকারের একেকটি তরমুজের দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। বেড়েছে ডাবের দামও। আকারভেদে প্রতিটি ডাব বিক্রয় হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পিস হিসেবে। এছাড়াও দেশীয় যেসব ফল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সেসব ফলের দাম বেশি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইফতারে জুটছে না মুড়িও

আপডেট সময় : ০৬:৪০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০২৪

 

সীমিত আয় দিয়ে ঊর্ধ্বগতির বাজারে টেনেটুনে সংসার চালাচ্ছে সাধারণ মানুষ। পবিত্র রমজান মাসে নিয়মিত বাজার তালিকার সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে ইফতার। ইফতারের আয়োজনে পরিবারের সদস্যদের একটু ফলমূল খাওয়াতে চান সকলেই। তবে সাধ থাকলেও সাধ্য নেই নিম্নআয়ের মানুষের। বাজারে ফলের যে চড়া দাম এতে করে পুরো মাসে হয়তো দুই-এক দিন খাওয়ানো কঠিন হবে শ্রমজীবী মানুষের।

গতকাল বিকালে রংপুরের বঙ্গবন্ধু চত্বরের পাশে ফুটপাতের দোকান থেকে বরই ক্রয় করার সময় বেসরকারি চাকরিজীবী নুর আলম বলেন, চিড়া, মুড়ি আর কলা মাখিয়ে যে ইফতার করব- তাও হচ্ছে না। বাজারে কলারও যেভাবে দাম বেড়েছে, তাতে মনে হচ্ছে আমাদের মতো মানুষের জন্য এসব ফল না। এগুলো এখন বড়লোকের খাবার। তার এমন মন্তব্যে সত্যতা পাওয়া যায় রংপুরের ফলের বাজারগুলোতে। বাজারে প্রতিটি ফলের দামই নিয়ন্ত্রণহীন। বিদেশি ফলের দাম শুনলে তো চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, আমদানিতে চড়া শুল্ক এবং ডলার সংকটে এলসি জটিলতা থাকায় বিদেশি ফলের দাম চড়া। খেজুরসহ অন্যান্য ফলকে বিলাসী তালিকায় ফেলে উচ্চ শুল্ক আরোপ করায় ফলে দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এদিকে শুধু বিদেশি ফলই নয়, বাজারে যেসব দেশি ফল পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর দামও নাগালের বাইরে। এখন সেই ফলও অনেকটা বিলাসী পণ্যে রূপ নিয়েছে। মধ্যবিত্তদেরর নাগালের বাইরে চলে গেছে দেশি ফল।

জানা যায়, বাজারে যেসব দেশি ফল পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে বরই বিক্রয় করা হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। পেয়ারার কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। পাকা পেঁপের কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। আনারসের কেজি বিক্রয় হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। দেশীয় ফলের মধ্যে সফেদা পাওয়া যাচ্ছে রংপুরের বাজারে। এই ফলের কেজি বিক্রয় হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ শরবত। আর সেই শরবতে বেলের চাহিদা থাকে। চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দাম বেড়েছে বেলেরও। প্রতি পিস বিক্রয় হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বাজারে কলার দাম দেখলেও আঁতকে উঠতে হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষের। এক সপ্তাহ আগেও ১০০ টাকা ডজন ছিল সবরি কলার। রোজা উপলক্ষে ডজনপ্রতি এই কলার দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। ডজনপ্রতি ১৫ টাকা বেড়েছে সাগর কলার দামও।

ফল বিক্রেতা সাব্বির বলেন, মোকামে দাম বেশি। আমরা তো ক্রয় করে নিয়ে আসি। মোকামে দাম বাড়লে আমাদের কাছেও বাড়ে যায়। রংপুর সিটি বাজারের ফল ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, রমজান মাস হওয়ায় মানুষের ফল ক্রয় করা চাহিদা বেড়ে যায়। এ কারণে মোকামে দাম বাড়িয়ে দেয় পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আমরা তো সেখান থেকে ক্রয় করে এনে বিক্রয় করে থাকি। যে দামে ক্রয় করে আনি তার চেয়ে কিছু বেশি রেখে বিক্রয় করা হয়।

জানা যায়, এক সপ্তাহ আগেও ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হওয়া কমলা রোজার আগের দিন থেকেই বিক্রয় হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। মানভেদে কমলা বিক্রয় হচ্ছে ৩০০ টাকা দরেও। রোজার আগে আপেল বিক্রয় হতো ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায়। রোজার প্রথম দিন থেকে তা বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি। মৌসুমের আগে বাজারে এসেছে তরমুজ। রোজায় চাহিদার তুঙ্গে থাকা এই দেশীয় ফলের দামও আকাশছোঁয়া। তরমুজ পিস হিসেবে বিক্রয় হওয়ার নিয়ম থাকলেও তা বিক্রয় হচ্ছে কেজি হিসেবে। প্রতি কেজির দাম ৮০ টাকা। সে হিসাবে ছোট আকারের একেকটি তরমুজের দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। বেড়েছে ডাবের দামও। আকারভেদে প্রতিটি ডাব বিক্রয় হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পিস হিসেবে। এছাড়াও দেশীয় যেসব ফল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সেসব ফলের দাম বেশি।