০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ২৫ সদস্য গ্রেপ্তার

🔴  এলাকায় কিশোর গ্যাং থাকলে সেই থানার ওসির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা:

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকা থেকে চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫টি কিশোর গ্যাংয়ের ২৫ সদস্যকে গ্র্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২। এসময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলো- কিশোর গ্যাং ‘আক্তার গ্রুপের’ অন্যতম মূলহোতা মো. আক্তার, ‘মাসুম গ্যাং’-এর প্রধান মো. মাসুম, ‘পিনিক গ্রুপের’ লিডার হাসান, ‘বাপ্পী গ্রুপের’ লিডার মো. বাপ্পি, ‘লিমন গ্রুপের’ হোতা মো. লিমনসহ ৫টি গ্রুপের অন্যান্য সহযোগী সদস্যরা। গতকাল রোববার দুপুরে দৈনিক সবুজ বাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব-২ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শিহাব করিম। এর আগে গত শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাং থাকবে, সেসব এলাকার ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

র‌্যাব-২ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শিহাব করিম বলেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় বেশ কয়েকটি ‘কিশোর গ্যাং’-এর চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। এসব সন্ত্রাসীদের হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি ও মামলা হয়। বিভিন্ন ‘কিশোর গ্যাং’-এর সন্ত্রাসীরা নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে এক গ্রুপ অপর গ্রুপের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে মারামারি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। সম্প্রতি মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পায় র‌্যাব। এরপর র‌্যাবের টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোর গ্যাং ‘আক্তার গ্রুপের’র অন্যতম মূলহোতা মো. আক্তার (২৪) ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ‘মাসুম গ্যাং’-এর প্রধান ও ২টি মামলার আসামি মো. মাসুম (২৫) গ্রেপ্তার হয়েছেন সহযোগীসহ। ‘পিনিক গ্রুপের’ লিডার হাসান (২৯) তিন সহযোগীসহ, ‘বাপ্পী গ্রুপের’ লিডার মো. বাপ্পি (২৭) দুই সহযোগীসহ, ‘লিমন গ্রুপে’ হোতা মো. লিমন (২২) গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ সহযোগীসহ। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চাপাতি, ছুরি, চাকু, চাইনিজ কুড়াল, অ্যান্টি কাটার ও বিভিন্ন দেশীয় ধারাল অস্ত্র।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শিহাব করিম বলেন, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, আদাবর, ঢাকা উদ্যান ও ধানমন্ডি এলাকায় চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করত তারা। বিভিন্ন সময় ওইসব এলাকায় মারামারিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করত। এছাড়া মাদক সেবনসহ ওই এলাকায় দিনে গাড়ির ড্রাইভার, হেলপারসহ বিভিন্ন পেশার আড়ালে রাতে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করত বলে জানান তিনি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন থানায়।

এর আগে, গত শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ তৎপরতা রোধে এবং পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, যেসব থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে, সেসব থানার ওসির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ২৫ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪

🔴  এলাকায় কিশোর গ্যাং থাকলে সেই থানার ওসির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা:

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকা থেকে চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫টি কিশোর গ্যাংয়ের ২৫ সদস্যকে গ্র্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২। এসময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলো- কিশোর গ্যাং ‘আক্তার গ্রুপের’ অন্যতম মূলহোতা মো. আক্তার, ‘মাসুম গ্যাং’-এর প্রধান মো. মাসুম, ‘পিনিক গ্রুপের’ লিডার হাসান, ‘বাপ্পী গ্রুপের’ লিডার মো. বাপ্পি, ‘লিমন গ্রুপের’ হোতা মো. লিমনসহ ৫টি গ্রুপের অন্যান্য সহযোগী সদস্যরা। গতকাল রোববার দুপুরে দৈনিক সবুজ বাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব-২ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শিহাব করিম। এর আগে গত শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাং থাকবে, সেসব এলাকার ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

র‌্যাব-২ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শিহাব করিম বলেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় বেশ কয়েকটি ‘কিশোর গ্যাং’-এর চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। এসব সন্ত্রাসীদের হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি ও মামলা হয়। বিভিন্ন ‘কিশোর গ্যাং’-এর সন্ত্রাসীরা নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে এক গ্রুপ অপর গ্রুপের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে মারামারি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। সম্প্রতি মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পায় র‌্যাব। এরপর র‌্যাবের টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোর গ্যাং ‘আক্তার গ্রুপের’র অন্যতম মূলহোতা মো. আক্তার (২৪) ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ‘মাসুম গ্যাং’-এর প্রধান ও ২টি মামলার আসামি মো. মাসুম (২৫) গ্রেপ্তার হয়েছেন সহযোগীসহ। ‘পিনিক গ্রুপের’ লিডার হাসান (২৯) তিন সহযোগীসহ, ‘বাপ্পী গ্রুপের’ লিডার মো. বাপ্পি (২৭) দুই সহযোগীসহ, ‘লিমন গ্রুপে’ হোতা মো. লিমন (২২) গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ সহযোগীসহ। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চাপাতি, ছুরি, চাকু, চাইনিজ কুড়াল, অ্যান্টি কাটার ও বিভিন্ন দেশীয় ধারাল অস্ত্র।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শিহাব করিম বলেন, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, আদাবর, ঢাকা উদ্যান ও ধানমন্ডি এলাকায় চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করত তারা। বিভিন্ন সময় ওইসব এলাকায় মারামারিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করত। এছাড়া মাদক সেবনসহ ওই এলাকায় দিনে গাড়ির ড্রাইভার, হেলপারসহ বিভিন্ন পেশার আড়ালে রাতে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করত বলে জানান তিনি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন থানায়।

এর আগে, গত শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ তৎপরতা রোধে এবং পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, যেসব থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে, সেসব থানার ওসির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।