০৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এখনো সিসিইউতে খালেদা জিয়া

 

 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার এখনো উন্নতি হয়নি। গত দুই দিন ধরে তিনি রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। তার সুস্থতা নিয়ে বেশ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছেন দলীয় নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা।
বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, গতকাল খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সেখান থেকে বের হয়ে ফখরুল জানিয়েছেন- দলের চেয়ারপারসন খুবই অসুস্থ। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

 

পরে বিএনপি মহাসচিব গণমাধ্যমকে আরো বলেছেন- ম্যাডামের শরীর ভালো না। চিকিৎসকরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখনো তারা চেষ্টা করছেন। ম্যাডাম এখনো সিসিইউতে।

এর আগে গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় বিএনপির চেয়ারপারসনকে দেখতে বসুন্ধরার এভার কেয়ার হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল। এ সময় তার সঙ্গে মির্জা আব্বাস ছিলেন।

সাক্ষাতের পর মির্জা ফখরুল গণমাধ্যমকে জানান, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি, এ অবস্থায় এখনো তাকে দেশের বাইরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি দল বা পরিবার।

এ ক্ষেত্রে বিগত কয়েক বছর ধরে দফায় দফায় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নেওয়ার অনুমোদন মিলছে না, এ বিষয়টিও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা কথাবার্তা বলছি। আমাদের চেষ্টা চলছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বেগম জিয়াকে দেখার পর মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাস ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানকে দেখতে যান। এভার কেয়ারে চিকিৎসাধীন এই নেতার স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেন তারা।

বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানায়, সরকারের ওপর মহলের ক্রমাগত প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে পাঠানোর স্বাভাবিক কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রত্যাখ্যাত হয়ে দল ও পরিবারে ন্যূনতম প্রত্যাশার জায়গাটিও নেই।

গত রোববার শেষ রাতে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে এক মাসে দ্বিতীয়বারের মতো হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে।

গত রোববার সকালে তার মেডিক্যাল টিমের অন্যতম চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, ম্যাডামের শারীরিক কন্ডিশন দেখে চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে। এখন তিনি করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) আছেন।

 

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তার অসুস্থতা বাড়া-কমার মধ্যে রয়েছে। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। এরপর বেশ কয়েকবার হাসপাতালে যান। সবশেষ গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

সবশেষ গত ফেব্রুয়ারির শুরুতেও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এখনো সিসিইউতে খালেদা জিয়া

আপডেট সময় : ০৫:২১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪

 

 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার এখনো উন্নতি হয়নি। গত দুই দিন ধরে তিনি রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। তার সুস্থতা নিয়ে বেশ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছেন দলীয় নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা।
বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, গতকাল খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সেখান থেকে বের হয়ে ফখরুল জানিয়েছেন- দলের চেয়ারপারসন খুবই অসুস্থ। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

 

পরে বিএনপি মহাসচিব গণমাধ্যমকে আরো বলেছেন- ম্যাডামের শরীর ভালো না। চিকিৎসকরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখনো তারা চেষ্টা করছেন। ম্যাডাম এখনো সিসিইউতে।

এর আগে গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় বিএনপির চেয়ারপারসনকে দেখতে বসুন্ধরার এভার কেয়ার হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল। এ সময় তার সঙ্গে মির্জা আব্বাস ছিলেন।

সাক্ষাতের পর মির্জা ফখরুল গণমাধ্যমকে জানান, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি, এ অবস্থায় এখনো তাকে দেশের বাইরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি দল বা পরিবার।

এ ক্ষেত্রে বিগত কয়েক বছর ধরে দফায় দফায় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নেওয়ার অনুমোদন মিলছে না, এ বিষয়টিও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা কথাবার্তা বলছি। আমাদের চেষ্টা চলছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বেগম জিয়াকে দেখার পর মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাস ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানকে দেখতে যান। এভার কেয়ারে চিকিৎসাধীন এই নেতার স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেন তারা।

বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানায়, সরকারের ওপর মহলের ক্রমাগত প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে পাঠানোর স্বাভাবিক কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রত্যাখ্যাত হয়ে দল ও পরিবারে ন্যূনতম প্রত্যাশার জায়গাটিও নেই।

গত রোববার শেষ রাতে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে এক মাসে দ্বিতীয়বারের মতো হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে।

গত রোববার সকালে তার মেডিক্যাল টিমের অন্যতম চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, ম্যাডামের শারীরিক কন্ডিশন দেখে চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে। এখন তিনি করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) আছেন।

 

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তার অসুস্থতা বাড়া-কমার মধ্যে রয়েছে। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। এরপর বেশ কয়েকবার হাসপাতালে যান। সবশেষ গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

সবশেষ গত ফেব্রুয়ারির শুরুতেও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে।