১২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে ধর্ষণ মামলা আপস করায় দুই ব্যক্তির ৫ ঘণ্টা হাজতবাস

শেরপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর এক মামলার বাদীকে চাপ দিয়ে আপস করায় ৫ ঘণ্টা হাজত খেটেছেন এক সাবেক ইউপি সদস্যসহ দুই ব্যক্তি। আজ বৃহস্পতিবার নালিতাবাড়ী জিআর আমলী আদালতে ওই ঘটনা ঘটে। তারা হচ্ছেন নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরাণ ইউনিয়নের কোন্নগর গ্রামের হাজী হেকমত আলীর ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান (৪৫) ও একই গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে বাবুল আক্তার (৪৮)।
এরপর তাদের আদালতের গারদখানায় নিয়ে আটক রাখা হয়। পরে তারা আইনজীবীর মাধ্যমে কৃতকর্মের দায় স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা করে এফিডেভিট দাখিল করলে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূর-ই-জাহিদ মুচলেকা গ্রহণ সাপেক্ষে তাদের মুক্তির আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট সাব ইন্সপেক্টর আলাউদ্দিন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দক্ষিণ কোন্নগর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের মাতৃহীন কিশোরী মেয়ে ও স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে (১২) বসতবাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করে স্থানীয় নওশেদ আলীর ছেলে তারা মিয়া (৩৫) ।
ওই ঘটনায় পরদিন কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করলে গ্রেপ্তার হয় ধর্ষক তারা মিয়া। সেইসঙ্গে আদালতে ধর্ষণের লোমহর্ষক বর্ণনায় জবানবন্দি দেয় ভিকটিম। অন্যদিকে গত ৪ এপ্রিল হাজতি আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয় জেলা দায়রা জজ আদালতে। ওই অবস্থায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান ও সমাজপতি বাবুল আক্তার আসামির পক্ষ নিয়ে বাদীপক্ষকে চাপ দিয়ে মামলায় আপস-মীমাংসা করে বাদীর এফিডেভিট আদায় করে নেয়।
এক পর্যায়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দুই ব্যক্তি নিম্ন আদালতে বাদীকে দাঁড় করিয়ে হাজতি আসামির জামিনের আবেদন করলে আদালতের বিচারক জামিন নাকচ করে বাদীর কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শুনে জিজ্ঞেস করলে ওই দুই ব্যক্তি কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে। ঘটনাটি নিয়ে আদালত অঙ্গনে ব্যাপক তোলপার সৃষ্টি হয়।
জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে ধর্ষণ মামলা আপস করায় দুই ব্যক্তির ৫ ঘণ্টা হাজতবাস

আপডেট সময় : ০৭:৩১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
শেরপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর এক মামলার বাদীকে চাপ দিয়ে আপস করায় ৫ ঘণ্টা হাজত খেটেছেন এক সাবেক ইউপি সদস্যসহ দুই ব্যক্তি। আজ বৃহস্পতিবার নালিতাবাড়ী জিআর আমলী আদালতে ওই ঘটনা ঘটে। তারা হচ্ছেন নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরাণ ইউনিয়নের কোন্নগর গ্রামের হাজী হেকমত আলীর ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান (৪৫) ও একই গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে বাবুল আক্তার (৪৮)।
এরপর তাদের আদালতের গারদখানায় নিয়ে আটক রাখা হয়। পরে তারা আইনজীবীর মাধ্যমে কৃতকর্মের দায় স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা করে এফিডেভিট দাখিল করলে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূর-ই-জাহিদ মুচলেকা গ্রহণ সাপেক্ষে তাদের মুক্তির আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট সাব ইন্সপেক্টর আলাউদ্দিন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দক্ষিণ কোন্নগর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের মাতৃহীন কিশোরী মেয়ে ও স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে (১২) বসতবাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করে স্থানীয় নওশেদ আলীর ছেলে তারা মিয়া (৩৫) ।
ওই ঘটনায় পরদিন কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করলে গ্রেপ্তার হয় ধর্ষক তারা মিয়া। সেইসঙ্গে আদালতে ধর্ষণের লোমহর্ষক বর্ণনায় জবানবন্দি দেয় ভিকটিম। অন্যদিকে গত ৪ এপ্রিল হাজতি আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয় জেলা দায়রা জজ আদালতে। ওই অবস্থায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান ও সমাজপতি বাবুল আক্তার আসামির পক্ষ নিয়ে বাদীপক্ষকে চাপ দিয়ে মামলায় আপস-মীমাংসা করে বাদীর এফিডেভিট আদায় করে নেয়।
এক পর্যায়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দুই ব্যক্তি নিম্ন আদালতে বাদীকে দাঁড় করিয়ে হাজতি আসামির জামিনের আবেদন করলে আদালতের বিচারক জামিন নাকচ করে বাদীর কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শুনে জিজ্ঞেস করলে ওই দুই ব্যক্তি কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে। ঘটনাটি নিয়ে আদালত অঙ্গনে ব্যাপক তোলপার সৃষ্টি হয়।