০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতের ৫২৭টি খাবারে ক্যান্সারের ‘বিষ’ নিষিদ্ধ ইউরোপে

ভারত থেকে রপ্তানি হয় বা কোনো না কোনোভাবে উৎপাদনে দেশটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ৫২৭টি খাদ্যবস্তুতে মিলল ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকারক কেমিক্যাল। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এসব খাদ্যপণ্যে ক্যান্সারের উপাদান পেয়েছে বলে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

 

 

 

ইইউর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের অন্তত ৫২৭টি খাদ্যবস্তুতে বেশ কিছু ক্ষতিকারক পদার্থ পাওয়া গেছে; যা মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ডেকে আনতে পারে ক্যান্সারের মতো মারণরোগ। এছাড়া এভারেস্ট, এমডিএইচসহ আরো কয়েকটি ভারতীয় মশলা প্রস্তুতকারক সংস্থার পণ্যে নির্ধারিত মাত্রার বেশি পরিমাণে ইথিলিন অক্সাইড মিলেছে। যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কারণ ইইউ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে খাবারে ইথিলিন অক্সাইডের ব্যবহার নিষিদ্ধ। এরই মধ্যে নাকি ভারত থেকে আসা বেশ কিছু খাবারের চালান সীমান্তেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। বাজার থেকেও বেশ কিছু ভারতীয় খাবার তুলে নেওয়া হয়েছে।

 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডের এক প্রতিবেদন মতে, যেসব খাদ্যপণ্যে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান পাওয়া গেছে সেগুলোর বেশিরভাগই তথা ৩১৩টি বাদাম ও তেল বীজ জাতীয় পণ্য। ৬০টি ভেষজ ও মশলা, ৪৮টি ডায়েটিক খাবার এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্য ৩৪টি। এসব খাদ্যপণ্য এরই মধ্যে ইউরোপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরিয়ে নেয়া হয়েছে বাজার থেকেও।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক ধরনের রঙহীন গ্যাস ইথিলিন অক্সাইড; যা ভারতীয় পণ্যগুলোতে কীটনাশক ও জীবাণুমুক্ত করার রাসায়নিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সাধারণত এই রাসায়নিক চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করা এই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে তা ক্যান্সারের পাশাপাশি অন্যান্য লিম্ফোমা এবং লিউকেমিয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা র‌্যাপিড অ্যালার্ট সিস্টেম ফর ফুড অ্যান্ড ফিডের (আরএএসএফএফ) তথ্য অনুযায়ী, ৫২৫টি খাদ্যদ্রব্য ও দুটি ফিড পণ্যে রাসায়নিক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩৩২টি পণ্যের উৎস দেশ ভারত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর বাকি খাদ্যপণ্য অন্যান্য দেশ থেকে গেলেও সেগুলোতে ভারতের ট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে।

 

 

 

ইউরোপে খাদ্যপণ্য পরীক্ষাকারী রামাইয়াহ অ্যাডভান্সড টেস্টিং ল্যাবের সিওও জুবিন জর্জ জোসেফ বলেছেন, সরাসরি ইথিলিন অক্সাইডের সংস্পর্শে আসা ছাড়াও খাদ্যপণ্যে মেলা আরো দুটি রাসায়নিক ভোক্তাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ইথিলিন গ্লাইকল। কিছুদিন আগে আফ্রিকায় কাশির সিরাপের মধ্যে এই রাসায়নিক পাওয়া যায়। আফ্রিকায় এই সিরাপ খেয়ে অনেক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

 

 

 

জোসেফ বলেন, ইথিলিন অক্সাইড চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এর বিকল্প বের করা জরুরি বলে জোর দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ দ্য ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যানডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এফএসএসএআই) ভেবে দেখা উচিত বিকল্প জীবাণুনাশক হিসেবে গামা রশ্মির ব্যবহার করা যায় কি না। বিভিন্ন শিল্প-সংস্থাকে এ বিষয়ে ভাবতে উৎসাহ দেওয়া দরকার।’

 

 

প্রসঙ্গত, এথিলিন অক্সাইড সাধারণত কৃষিকাজে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বহু দেশেই খাদ্যে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিছুক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য পরিমাণের ব্যবহারে ছাড় রয়েছে।

 

 

সিঙ্গাপুরের খাদ্য দপ্তরের অভিযোগ ছিল, অনুমোদনের চেয়ে বেশি কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে ‘এভারেস্ট ফিস কারি’ মশলায়। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই ভারত থেকে মশলা আমদানি বন্ধ করার বিবৃতিতে সিঙ্গাপুর জানিয়েছিল, যারা ওই মশলা খেয়েছেন তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

ভারতের ৫২৭টি খাবারে ক্যান্সারের ‘বিষ’ নিষিদ্ধ ইউরোপে

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪

ভারত থেকে রপ্তানি হয় বা কোনো না কোনোভাবে উৎপাদনে দেশটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ৫২৭টি খাদ্যবস্তুতে মিলল ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকারক কেমিক্যাল। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এসব খাদ্যপণ্যে ক্যান্সারের উপাদান পেয়েছে বলে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

 

 

 

ইইউর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের অন্তত ৫২৭টি খাদ্যবস্তুতে বেশ কিছু ক্ষতিকারক পদার্থ পাওয়া গেছে; যা মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ডেকে আনতে পারে ক্যান্সারের মতো মারণরোগ। এছাড়া এভারেস্ট, এমডিএইচসহ আরো কয়েকটি ভারতীয় মশলা প্রস্তুতকারক সংস্থার পণ্যে নির্ধারিত মাত্রার বেশি পরিমাণে ইথিলিন অক্সাইড মিলেছে। যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কারণ ইইউ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে খাবারে ইথিলিন অক্সাইডের ব্যবহার নিষিদ্ধ। এরই মধ্যে নাকি ভারত থেকে আসা বেশ কিছু খাবারের চালান সীমান্তেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। বাজার থেকেও বেশ কিছু ভারতীয় খাবার তুলে নেওয়া হয়েছে।

 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডের এক প্রতিবেদন মতে, যেসব খাদ্যপণ্যে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান পাওয়া গেছে সেগুলোর বেশিরভাগই তথা ৩১৩টি বাদাম ও তেল বীজ জাতীয় পণ্য। ৬০টি ভেষজ ও মশলা, ৪৮টি ডায়েটিক খাবার এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্য ৩৪টি। এসব খাদ্যপণ্য এরই মধ্যে ইউরোপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরিয়ে নেয়া হয়েছে বাজার থেকেও।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক ধরনের রঙহীন গ্যাস ইথিলিন অক্সাইড; যা ভারতীয় পণ্যগুলোতে কীটনাশক ও জীবাণুমুক্ত করার রাসায়নিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সাধারণত এই রাসায়নিক চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করা এই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে তা ক্যান্সারের পাশাপাশি অন্যান্য লিম্ফোমা এবং লিউকেমিয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা র‌্যাপিড অ্যালার্ট সিস্টেম ফর ফুড অ্যান্ড ফিডের (আরএএসএফএফ) তথ্য অনুযায়ী, ৫২৫টি খাদ্যদ্রব্য ও দুটি ফিড পণ্যে রাসায়নিক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩৩২টি পণ্যের উৎস দেশ ভারত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর বাকি খাদ্যপণ্য অন্যান্য দেশ থেকে গেলেও সেগুলোতে ভারতের ট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে।

 

 

 

ইউরোপে খাদ্যপণ্য পরীক্ষাকারী রামাইয়াহ অ্যাডভান্সড টেস্টিং ল্যাবের সিওও জুবিন জর্জ জোসেফ বলেছেন, সরাসরি ইথিলিন অক্সাইডের সংস্পর্শে আসা ছাড়াও খাদ্যপণ্যে মেলা আরো দুটি রাসায়নিক ভোক্তাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ইথিলিন গ্লাইকল। কিছুদিন আগে আফ্রিকায় কাশির সিরাপের মধ্যে এই রাসায়নিক পাওয়া যায়। আফ্রিকায় এই সিরাপ খেয়ে অনেক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

 

 

 

জোসেফ বলেন, ইথিলিন অক্সাইড চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এর বিকল্প বের করা জরুরি বলে জোর দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ দ্য ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যানডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এফএসএসএআই) ভেবে দেখা উচিত বিকল্প জীবাণুনাশক হিসেবে গামা রশ্মির ব্যবহার করা যায় কি না। বিভিন্ন শিল্প-সংস্থাকে এ বিষয়ে ভাবতে উৎসাহ দেওয়া দরকার।’

 

 

প্রসঙ্গত, এথিলিন অক্সাইড সাধারণত কৃষিকাজে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বহু দেশেই খাদ্যে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিছুক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য পরিমাণের ব্যবহারে ছাড় রয়েছে।

 

 

সিঙ্গাপুরের খাদ্য দপ্তরের অভিযোগ ছিল, অনুমোদনের চেয়ে বেশি কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে ‘এভারেস্ট ফিস কারি’ মশলায়। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই ভারত থেকে মশলা আমদানি বন্ধ করার বিবৃতিতে সিঙ্গাপুর জানিয়েছিল, যারা ওই মশলা খেয়েছেন তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।