০৭:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম গার্মেন্টস শ্রমিকরা

◉কয়েক দফায় বেড়ে এখন সর্বনিম্ন বেতন সাড়ে ১২ হাজার টাকা
◉নতুন বেতন কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার বাইরে এখনো অনেকে
◉রপ্তানি আয়ের ৮৪ ভাগই অর্জিত হয় গার্মেন্ট খাত থেকে
◉৪৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান, যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই নারী
◉পোশাক শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের শোষণ করা হচ্ছে -বাবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি

পোশাক কারখানার একজন অপারেটর হিসেবে কাজ করেন খাদিজা খাতুন। ওভারটাইমসহ তিনি বেতন পান ১১ হাজার টাকার কাছাকাছি। পোশাক শ্রমিকদের জন্য বানানো এক ছাউনির নিচে এক ঘরে স্বামী-সন্তানসহ থাকেন তিনি। ভাড়া দিতে হয় ৩ হাজার টাকা। বছরে দুই দফায় এ ভাড়া বাড়ে ৪০০ টাকা। রাবেয়ার স্বামী হেপাটাইটিস-সি আক্রান্ত, মাসে ওষুধ লাগে ৪ হাজার টাকার। বাকি মাসের হিসাব দিতে গিয়ে খাদিজা ক্ষোভের সঙ্গে সবুজ বাংলাকে বলেন, আপনার জন্য যে লাউ ৬০ টাকা, আমার জন্য ৩০ টাকা না আমারও ৬০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। শুনতে চান আর কীভাবে চলি? শুধু খাদিজা নন, খাদিজার মতো লাখ লাখ পোশাক শ্রমিক প্রতিমাসের সাংসারিক হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। খাদিজা বলেন, ‘বাসায় ফিরে এসে রান্না শেষ করে অবসর সময়ে কাপড় সেলাই করতে বসি। ভোররাত পর্যন্ত কাপড় সেলাই করি। আর ছেলের বয়স ৭ বছর হলেও স্কুলে দিতে পারিনি। তাকে স্কুলে আনা-নেওয়া করবে কে? আর টাকার জোগানই বা দেবে কে?’ বিনা বেতনে পড়া যায় যে সরকারি স্কুলে তা বাড়ির আশপাশে না থাকায় পোশাক শ্রমিকের সন্তান শ্রমিকই হবে বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। মুদি দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নেয়ার মৌখিক চুক্তিতে চলে বেশিরভাগ পোশাক শ্রমিকদের পরিবার। এ মাসের টাকা ও মাসে শোধ করে চলে সেই ধারাবাহিক ঋণ। হেলপার আজিম বলেন, আমার ঘরভাড়া আর বাচ্চার খরচেই সবটা চলে যায়। এরপর খাবো কী? পাড়ার মুদির দোকানে মাসিক লেনদেন চলে। ডিম হলো সর্বোচ্চ ভালো খাওয়া। মাংস বলতে ব্রয়লার মুরগি।

মাছ-মাংসে যা হাত দেওয়া যায়, সবজিতে হাত দেওয়া যায় না। দিনশেষে কম দামে সবজি বিক্রি হয়, সেগুলো কিনে বেছে খাওয়া হয়। আশির দশকের গোড়ার দিকে স্বল্প পরিসরে একটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাত হিসেবে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। মাত্র ১২ হাজার ডলার রপ্তানি আয় দিয়ে শুরু করা পোশাকশিল্প আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে রেখে চলেছে অনবদ্য অবদান। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ ভাগই অর্জিত হয় তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। এ খাত শুধু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকেই সমৃদ্ধ করেনি, একই সঙ্গে নিশ্চিত করেছে প্রায় ৪৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান, যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই নারী। এ ছাড়াও ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড শিল্প মিলিয়ে শিল্পটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫ কোটি লোক জীবন-জীবিকার জন্য এ শিল্পের ওপর কোনো না কোনোভাবে নির্ভরশীল। দারিদ্র্য বিমোচন,কর্মসংস্থান এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়েছে এ খাতটি। জিডিপিতে পোশাক শিল্পের অবদান প্রায় ১১ ভাগ। ২০২৪-২৫ অর্থবছর নাগাদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮.৫১ ভাগ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে শিল্পের শেয়ার বর্তমান ৩৫ ভাগ থেকে ৪২ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে পোশাক শিল্প। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ছাড়াও তৈরি পোশাকশিল্প নারীর ক্ষমতায়ন, মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জন এবং বর্তমানে এসডিজি অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে পেশাক শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য কিন্তু যাদের ওপর ভিত্তি করে দেশের অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে তারা বারবার অবহেলিত।

প্রতি বছর ঈদের সময় আসলে বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে রাস্তায় বিভোক্ষ করে শ্রমিকরা। তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে পাঁচ বছর পর পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন আরও সাড়ে ৪ হাজার টাকা বাড়ায় সরকার। এর ফলে তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য গত ডিসেম্বর থেকে ন্যূনতম বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। তবে বাস্তবে সেই বেতন কাঠামো এখনো সবার ভাগ্যে জোটেনি। কারণ অনেক গ্রামেন্ট ফ্যাক্টরি পুরানো বেতনেই চলছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন শ্রমিকরা। এর আগে ২০১৮ সালে ন্যূনতম মজুরি ২৭০০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় আট হাজার টাকা। তার আগে ২০১৩ সালে যা ছিল পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা। ২০০৮ সালে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি ছিল ৩ হাজার টাকা। গত শ্রম নভেম্বর মাসে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান আগামী ৫ বছরের জন্য তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দেন। ন্যূনতম মজুরি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়ে। আট হাজার টাকা থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা হয়। সঙ্গে বছরে পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট রাখা হয়। মজুরি বাড়লেও অনুমোদিত এই বেতন কাঠামো শ্রমিকদের একপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও অন্যপক্ষ আন্দোলন করেছিল।

অনুমোদিত বেতন কাঠামো কতটুকু কার্যকর হচ্ছে পাশাপাশি এতে শ্রমিকরা কতটুকু সুবিধাভোগ করছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন সবুজ বাংলাকে বলেন, সরকার নির্ধারিত বেতন কাঠামো এখনো অধিকাংশ কারখানায় বাস্তবায়ন হয় নাই। কিছু বড় বড় কারখানায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পোশাক শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে তাদের মাধ্যমে ওভার টাইমের নামে শ্রমিকদের শোষণ করা হচ্ছে। তবে বর্তমান বেতন কাঠামের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছেন বর্তমান যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এতে করে একজন পোশাক শ্রমিক কীভাবে সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতনে তাদের সংসার পরিচালনা করবে। সরকারে উচিত বর্তমান বেতন কাঠামো বিবেচনা করা পাশাপাশি বর্তমান যে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে তা যাতে সব জায়গায় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় তার তদারকি বাড়ানো। সর্বনিম্ন বেতন ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

 

সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম গার্মেন্টস শ্রমিকরা

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪

◉কয়েক দফায় বেড়ে এখন সর্বনিম্ন বেতন সাড়ে ১২ হাজার টাকা
◉নতুন বেতন কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার বাইরে এখনো অনেকে
◉রপ্তানি আয়ের ৮৪ ভাগই অর্জিত হয় গার্মেন্ট খাত থেকে
◉৪৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান, যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই নারী
◉পোশাক শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের শোষণ করা হচ্ছে -বাবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি

পোশাক কারখানার একজন অপারেটর হিসেবে কাজ করেন খাদিজা খাতুন। ওভারটাইমসহ তিনি বেতন পান ১১ হাজার টাকার কাছাকাছি। পোশাক শ্রমিকদের জন্য বানানো এক ছাউনির নিচে এক ঘরে স্বামী-সন্তানসহ থাকেন তিনি। ভাড়া দিতে হয় ৩ হাজার টাকা। বছরে দুই দফায় এ ভাড়া বাড়ে ৪০০ টাকা। রাবেয়ার স্বামী হেপাটাইটিস-সি আক্রান্ত, মাসে ওষুধ লাগে ৪ হাজার টাকার। বাকি মাসের হিসাব দিতে গিয়ে খাদিজা ক্ষোভের সঙ্গে সবুজ বাংলাকে বলেন, আপনার জন্য যে লাউ ৬০ টাকা, আমার জন্য ৩০ টাকা না আমারও ৬০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। শুনতে চান আর কীভাবে চলি? শুধু খাদিজা নন, খাদিজার মতো লাখ লাখ পোশাক শ্রমিক প্রতিমাসের সাংসারিক হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। খাদিজা বলেন, ‘বাসায় ফিরে এসে রান্না শেষ করে অবসর সময়ে কাপড় সেলাই করতে বসি। ভোররাত পর্যন্ত কাপড় সেলাই করি। আর ছেলের বয়স ৭ বছর হলেও স্কুলে দিতে পারিনি। তাকে স্কুলে আনা-নেওয়া করবে কে? আর টাকার জোগানই বা দেবে কে?’ বিনা বেতনে পড়া যায় যে সরকারি স্কুলে তা বাড়ির আশপাশে না থাকায় পোশাক শ্রমিকের সন্তান শ্রমিকই হবে বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। মুদি দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নেয়ার মৌখিক চুক্তিতে চলে বেশিরভাগ পোশাক শ্রমিকদের পরিবার। এ মাসের টাকা ও মাসে শোধ করে চলে সেই ধারাবাহিক ঋণ। হেলপার আজিম বলেন, আমার ঘরভাড়া আর বাচ্চার খরচেই সবটা চলে যায়। এরপর খাবো কী? পাড়ার মুদির দোকানে মাসিক লেনদেন চলে। ডিম হলো সর্বোচ্চ ভালো খাওয়া। মাংস বলতে ব্রয়লার মুরগি।

মাছ-মাংসে যা হাত দেওয়া যায়, সবজিতে হাত দেওয়া যায় না। দিনশেষে কম দামে সবজি বিক্রি হয়, সেগুলো কিনে বেছে খাওয়া হয়। আশির দশকের গোড়ার দিকে স্বল্প পরিসরে একটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাত হিসেবে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। মাত্র ১২ হাজার ডলার রপ্তানি আয় দিয়ে শুরু করা পোশাকশিল্প আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে রেখে চলেছে অনবদ্য অবদান। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ ভাগই অর্জিত হয় তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। এ খাত শুধু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকেই সমৃদ্ধ করেনি, একই সঙ্গে নিশ্চিত করেছে প্রায় ৪৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান, যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই নারী। এ ছাড়াও ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড শিল্প মিলিয়ে শিল্পটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫ কোটি লোক জীবন-জীবিকার জন্য এ শিল্পের ওপর কোনো না কোনোভাবে নির্ভরশীল। দারিদ্র্য বিমোচন,কর্মসংস্থান এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়েছে এ খাতটি। জিডিপিতে পোশাক শিল্পের অবদান প্রায় ১১ ভাগ। ২০২৪-২৫ অর্থবছর নাগাদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮.৫১ ভাগ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে শিল্পের শেয়ার বর্তমান ৩৫ ভাগ থেকে ৪২ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে পোশাক শিল্প। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ছাড়াও তৈরি পোশাকশিল্প নারীর ক্ষমতায়ন, মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জন এবং বর্তমানে এসডিজি অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে পেশাক শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য কিন্তু যাদের ওপর ভিত্তি করে দেশের অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে তারা বারবার অবহেলিত।

প্রতি বছর ঈদের সময় আসলে বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে রাস্তায় বিভোক্ষ করে শ্রমিকরা। তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে পাঁচ বছর পর পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন আরও সাড়ে ৪ হাজার টাকা বাড়ায় সরকার। এর ফলে তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য গত ডিসেম্বর থেকে ন্যূনতম বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। তবে বাস্তবে সেই বেতন কাঠামো এখনো সবার ভাগ্যে জোটেনি। কারণ অনেক গ্রামেন্ট ফ্যাক্টরি পুরানো বেতনেই চলছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন শ্রমিকরা। এর আগে ২০১৮ সালে ন্যূনতম মজুরি ২৭০০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় আট হাজার টাকা। তার আগে ২০১৩ সালে যা ছিল পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা। ২০০৮ সালে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি ছিল ৩ হাজার টাকা। গত শ্রম নভেম্বর মাসে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান আগামী ৫ বছরের জন্য তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দেন। ন্যূনতম মজুরি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়ে। আট হাজার টাকা থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা হয়। সঙ্গে বছরে পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট রাখা হয়। মজুরি বাড়লেও অনুমোদিত এই বেতন কাঠামো শ্রমিকদের একপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও অন্যপক্ষ আন্দোলন করেছিল।

অনুমোদিত বেতন কাঠামো কতটুকু কার্যকর হচ্ছে পাশাপাশি এতে শ্রমিকরা কতটুকু সুবিধাভোগ করছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন সবুজ বাংলাকে বলেন, সরকার নির্ধারিত বেতন কাঠামো এখনো অধিকাংশ কারখানায় বাস্তবায়ন হয় নাই। কিছু বড় বড় কারখানায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পোশাক শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে তাদের মাধ্যমে ওভার টাইমের নামে শ্রমিকদের শোষণ করা হচ্ছে। তবে বর্তমান বেতন কাঠামের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছেন বর্তমান যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এতে করে একজন পোশাক শ্রমিক কীভাবে সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতনে তাদের সংসার পরিচালনা করবে। সরকারে উচিত বর্তমান বেতন কাঠামো বিবেচনা করা পাশাপাশি বর্তমান যে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে তা যাতে সব জায়গায় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় তার তদারকি বাড়ানো। সর্বনিম্ন বেতন ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।