০৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

২০৪১ সালে সেমিকন্ডাক্টর খাতে ১০ বিলিয়ন ডলার অর্জনের সম্ভাবনা- প্রতিমন্ত্রী পলক

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুতি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০৪১ সালে আমাদের ৫০ বিলিয়ন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সেমিকন্ডাক্টর খাতের রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারের উন্নীত করা আবশ্যক এবং সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমানে বর্তমান সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, সেখানে পৌঁছাতে হলে আমাদের স্মার্ট গর্ভামেন্ট, স্মার্ট ইকোনোমির পাশাপাশি স্মার্ট প্রাইভেট সেক্টরের সমন্বয় আবশ্যক।

গতকাল বুধবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পখাতের সম্ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির আলোচনায় এসব কথা বলেন। এছাড়াও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এস এম জাফরউল্লাহ্, এনডিসি বিশেষ অতিথি হিসেবে উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামনের দিনগুলোতে প্রযুক্তিখাতের সকল স্তরে ন্যানো চিপের বহুমুখী ব্যবহার বাড়বে। তাই আমাদেরকে এ ব্যাপারে এখনই মনোযোগী হতে হবে। বিশেষ করে শিল্পখাতের প্রয়োজনের নিরিখে দক্ষ জনবল তৈরিতে শিক্ষাক্যারিকুলাম যুগোপযোগীকরণের করার উপর জোরারোপ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগী সারাদেশে বিদ্যুৎ প্রাপ্তি সহ তথ্য-প্রযুক্তিখাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নীতি সহায়তার কারণেই বর্তমানে এখাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ৪টি প্রতিষ্ঠান সেমিকান্ডাক্টিং খাতে বেশ ভালো করছে, তবে এখাতের যথাযথ বিকাশে আমাদেরকে চিপ ম্যানুুফেকচারিং, এ্যাসেম্বিলিং ও প্যাকেজিং-এর উপর আরো বেশি হারে গুরুত্বারোপ করতে হবে। তাছাড়া সেমিকন্ডাক্টর খাতের চাহিদা মেটাতে ৫০ হাজার দক্ষ জনবল তৈরি একান্ত আবশ্যক বলে তিনি অভিমত জ্ঞাপন করেন। সর্বোপরি এখাতের সার্বিক উন্নয়নে একটি সেমিকন্ডাক্টর পলিসি প্রণয়ন করা হবে বলে মন্ত্রী আশ^াস প্রদান করেন এবং উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তার জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। সেই সাথে এখাতের বিকাশে একটি কার্যকর ইকোসিস্টেম তৈরির পাশাপাশি ‘শিল্প ও শিক্ষা খাতের সাথে সরকার-এর মধ্যকার কার্যকর মিলবন্ধন একান্ত অপরিহার্য বলে তিনি অভিমত জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বার সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির তৈরি পোষাক খাতের নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে আমদানি বিকল্প শিল্পখাতের বিকাশ ও পণ্যের বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় সেমিকন্ডাক্টর খাতকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মোবাইল হ্যান্ডসেট, রিফ্রিজারেটর, এসি ও গাড়ীর ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৩ অর্থবছরে আমাদের ব্যয় ছিল ১১৮.১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, স্থানীয় শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি এখাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষনে আমাদেরকে দক্ষ জনবল তৈরির কোন বিকল্প নেই এবং এজন্য আমাদের শিক্ষাক্রমের আমূল পরিবর্তন ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানোর উপর মনোযোগী হতে হবে। এছাড়াও সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে ব্যবসা পরিচালনায় লাইসেন্স প্রাপ্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সহায়ক নীতি সহায়তা নিশ্চিতকরণ, ঋণ সহায়তা প্রদান বিশেষকরে এখাতের এসএমইদের স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা প্রাপ্তি, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি বন্ডেড ওয়্যারহাউজ, কর অব্যাহতি সুবিধা প্রদান সহ একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একান্ত জরুরী মত প্রকাশ করেন, ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ।

২০৪১ সালে সেমিকন্ডাক্টর খাতে ১০ বিলিয়ন ডলার অর্জনের সম্ভাবনা- প্রতিমন্ত্রী পলক

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুতি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০৪১ সালে আমাদের ৫০ বিলিয়ন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সেমিকন্ডাক্টর খাতের রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারের উন্নীত করা আবশ্যক এবং সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমানে বর্তমান সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, সেখানে পৌঁছাতে হলে আমাদের স্মার্ট গর্ভামেন্ট, স্মার্ট ইকোনোমির পাশাপাশি স্মার্ট প্রাইভেট সেক্টরের সমন্বয় আবশ্যক।

গতকাল বুধবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পখাতের সম্ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির আলোচনায় এসব কথা বলেন। এছাড়াও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এস এম জাফরউল্লাহ্, এনডিসি বিশেষ অতিথি হিসেবে উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামনের দিনগুলোতে প্রযুক্তিখাতের সকল স্তরে ন্যানো চিপের বহুমুখী ব্যবহার বাড়বে। তাই আমাদেরকে এ ব্যাপারে এখনই মনোযোগী হতে হবে। বিশেষ করে শিল্পখাতের প্রয়োজনের নিরিখে দক্ষ জনবল তৈরিতে শিক্ষাক্যারিকুলাম যুগোপযোগীকরণের করার উপর জোরারোপ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগী সারাদেশে বিদ্যুৎ প্রাপ্তি সহ তথ্য-প্রযুক্তিখাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নীতি সহায়তার কারণেই বর্তমানে এখাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ৪টি প্রতিষ্ঠান সেমিকান্ডাক্টিং খাতে বেশ ভালো করছে, তবে এখাতের যথাযথ বিকাশে আমাদেরকে চিপ ম্যানুুফেকচারিং, এ্যাসেম্বিলিং ও প্যাকেজিং-এর উপর আরো বেশি হারে গুরুত্বারোপ করতে হবে। তাছাড়া সেমিকন্ডাক্টর খাতের চাহিদা মেটাতে ৫০ হাজার দক্ষ জনবল তৈরি একান্ত আবশ্যক বলে তিনি অভিমত জ্ঞাপন করেন। সর্বোপরি এখাতের সার্বিক উন্নয়নে একটি সেমিকন্ডাক্টর পলিসি প্রণয়ন করা হবে বলে মন্ত্রী আশ^াস প্রদান করেন এবং উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তার জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। সেই সাথে এখাতের বিকাশে একটি কার্যকর ইকোসিস্টেম তৈরির পাশাপাশি ‘শিল্প ও শিক্ষা খাতের সাথে সরকার-এর মধ্যকার কার্যকর মিলবন্ধন একান্ত অপরিহার্য বলে তিনি অভিমত জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বার সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির তৈরি পোষাক খাতের নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে আমদানি বিকল্প শিল্পখাতের বিকাশ ও পণ্যের বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় সেমিকন্ডাক্টর খাতকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মোবাইল হ্যান্ডসেট, রিফ্রিজারেটর, এসি ও গাড়ীর ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৩ অর্থবছরে আমাদের ব্যয় ছিল ১১৮.১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, স্থানীয় শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি এখাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষনে আমাদেরকে দক্ষ জনবল তৈরির কোন বিকল্প নেই এবং এজন্য আমাদের শিক্ষাক্রমের আমূল পরিবর্তন ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানোর উপর মনোযোগী হতে হবে। এছাড়াও সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে ব্যবসা পরিচালনায় লাইসেন্স প্রাপ্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সহায়ক নীতি সহায়তা নিশ্চিতকরণ, ঋণ সহায়তা প্রদান বিশেষকরে এখাতের এসএমইদের স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা প্রাপ্তি, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি বন্ডেড ওয়্যারহাউজ, কর অব্যাহতি সুবিধা প্রদান সহ একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একান্ত জরুরী মত প্রকাশ করেন, ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ।