০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জয়পুরহাটে কবর ভেঙে দিয়ে অন্যায়ভাবে জমি দখলের চেষ্টা!

জয়পুরহাট সদর উপজেলার আমদই ইউনিয়নের পূর্ব সুন্দর গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া রিয়া (১৮)। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২০২০ সালের ২৯ মার্চ। কবরস্হ হয়েছেন বাবা বাবুল মিয়ার কবলা সম্পত্তির উপরে। সেখানে শুয়ে আছেন বাবুলের বড়ভাই আবদুল ওয়াহাব ও ভাবী বেলী বেগম। মৃতদের যখন কবরস্হ করা হয় তখন কেউ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেনি।
বর্তমানে আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি জায়গা তার বলে দাবী করছে। কবর ভাঙচুর করে তার উপরে মাটি ফেলে জায়গা ভরাটের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাবুল মিয়া।
বাবুল মিয়া বলেন, এখানে ৬১ ও ৬২ দাগ মিলে আমার কবলা সম্পত্তি ২৪ শতক। একই দাগে আবুল হোসেনেরও কেনা সম্পত্তি রয়েছে। ভিন্ন মালীকের কাছ থেকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সে আমার পারিবারিক কবরস্হান দখল করতে চায়। অথচ এই আবুলই জায়গাটিকে আমার পারিবারিক কবরস্হান করার পরামর্শ দেন। আমার ক্যান্সারে আক্রান্ত মৃত মেয়েটির দাফনকাজে সেই উদ্যোগ গ্রহণ করে সেখানে দাফন করে। আজ আমার মেয়ের কবর কেড়ে নিতে চাচ্ছে? আমি বুঝতে পারছি না! আমি বিবাদে না জড়ানোর উদ্যেশ্যে তাকে টাকা অথবা একই দাগের অন্য পাশে জায়গা দিতে চাইলে সে কবরস্হানই দখল করবে বলে আমাকে হুমকি দেয়।
তিনি আরো বলেন, গত ২১ শে মে আবুল হোসেনের নির্দেশে আব্দুল মোমিনসহ কয়েকজন আমার পারিবারিক কবরস্হান দখল করতে আসে। কবরে ভাঙচুর চালায়। কবর সংরক্ষণের জন্য চতুর্দিকে প্রাচীর দেয়া ছিলো তারা সেগুলো ভেঙে পার্শ্ববর্তী পুকুরে ফেলে দেয়। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও তারা হত্যার হুমকি দেয়।
স্হায়ী বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, আমি ২১ তারিখ সদর উপজেলা নির্বাচনের দিনে এই রাস্তা ধরে যাচ্ছিলাম। এখানে এসে দেখি আব্দুল মোমিনসহ আরো কয়েকজন কবরস্হানের প্রাচীর ভাঙচুর করছে। কবর ভেঙে তার উপর মাটি চাপা দিয়ে ভরাটের চেষ্টা করছে।
আব্দুর রহমান জানান, এই জায়গাটা বাবুল দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। ২০২০ সালে তার মেয়েকে এখানে কবর দেয়। আবুল হোসেনই এই জায়গা নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু জায়গা দখলের নামে সেদিন যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে এটা অমানবিক এবং পাশবিক। কবরস্হানের উপরে যে হামলা হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার হওয়া প্রয়োজন।
আবুল হোসেন বলেন, আমাদের প্রতি যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। পূর্বের নকশা অনুযায়ী আমি জানতাম জায়গা ওনার। কিন্তু বর্তমান নকশা অনুযায়ী জায়গা আমার। আমি কবরস্হানের পরিবর্তে অন্য সাইটে জায়গা চেয়েছি। ওনি দিতে রাজি হননি। আমাকে নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আমদই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহানুর আলম সাবু বলেন, এই বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। আমি দুপক্ষকেই ডেকেছি। আবুল হোসেন আসেনি। সে নিজ উদ্যোগে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে জোর খাটিয়ে কবরস্হান দখল করার চেষ্টা করেছে। কবরস্হানে ভাঙচুর চালিয়েছে। একজন মুসলমান হিসেবে এটা কোনভাবেই ঠিক হয়নি। এটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে আমি মনে করি।
জনপ্রিয় সংবাদ

জয়পুরহাটে কবর ভেঙে দিয়ে অন্যায়ভাবে জমি দখলের চেষ্টা!

আপডেট সময় : ০২:১০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
জয়পুরহাট সদর উপজেলার আমদই ইউনিয়নের পূর্ব সুন্দর গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া রিয়া (১৮)। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২০২০ সালের ২৯ মার্চ। কবরস্হ হয়েছেন বাবা বাবুল মিয়ার কবলা সম্পত্তির উপরে। সেখানে শুয়ে আছেন বাবুলের বড়ভাই আবদুল ওয়াহাব ও ভাবী বেলী বেগম। মৃতদের যখন কবরস্হ করা হয় তখন কেউ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেনি।
বর্তমানে আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি জায়গা তার বলে দাবী করছে। কবর ভাঙচুর করে তার উপরে মাটি ফেলে জায়গা ভরাটের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাবুল মিয়া।
বাবুল মিয়া বলেন, এখানে ৬১ ও ৬২ দাগ মিলে আমার কবলা সম্পত্তি ২৪ শতক। একই দাগে আবুল হোসেনেরও কেনা সম্পত্তি রয়েছে। ভিন্ন মালীকের কাছ থেকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সে আমার পারিবারিক কবরস্হান দখল করতে চায়। অথচ এই আবুলই জায়গাটিকে আমার পারিবারিক কবরস্হান করার পরামর্শ দেন। আমার ক্যান্সারে আক্রান্ত মৃত মেয়েটির দাফনকাজে সেই উদ্যোগ গ্রহণ করে সেখানে দাফন করে। আজ আমার মেয়ের কবর কেড়ে নিতে চাচ্ছে? আমি বুঝতে পারছি না! আমি বিবাদে না জড়ানোর উদ্যেশ্যে তাকে টাকা অথবা একই দাগের অন্য পাশে জায়গা দিতে চাইলে সে কবরস্হানই দখল করবে বলে আমাকে হুমকি দেয়।
তিনি আরো বলেন, গত ২১ শে মে আবুল হোসেনের নির্দেশে আব্দুল মোমিনসহ কয়েকজন আমার পারিবারিক কবরস্হান দখল করতে আসে। কবরে ভাঙচুর চালায়। কবর সংরক্ষণের জন্য চতুর্দিকে প্রাচীর দেয়া ছিলো তারা সেগুলো ভেঙে পার্শ্ববর্তী পুকুরে ফেলে দেয়। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও তারা হত্যার হুমকি দেয়।
স্হায়ী বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, আমি ২১ তারিখ সদর উপজেলা নির্বাচনের দিনে এই রাস্তা ধরে যাচ্ছিলাম। এখানে এসে দেখি আব্দুল মোমিনসহ আরো কয়েকজন কবরস্হানের প্রাচীর ভাঙচুর করছে। কবর ভেঙে তার উপর মাটি চাপা দিয়ে ভরাটের চেষ্টা করছে।
আব্দুর রহমান জানান, এই জায়গাটা বাবুল দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। ২০২০ সালে তার মেয়েকে এখানে কবর দেয়। আবুল হোসেনই এই জায়গা নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু জায়গা দখলের নামে সেদিন যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে এটা অমানবিক এবং পাশবিক। কবরস্হানের উপরে যে হামলা হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার হওয়া প্রয়োজন।
আবুল হোসেন বলেন, আমাদের প্রতি যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। পূর্বের নকশা অনুযায়ী আমি জানতাম জায়গা ওনার। কিন্তু বর্তমান নকশা অনুযায়ী জায়গা আমার। আমি কবরস্হানের পরিবর্তে অন্য সাইটে জায়গা চেয়েছি। ওনি দিতে রাজি হননি। আমাকে নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আমদই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহানুর আলম সাবু বলেন, এই বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। আমি দুপক্ষকেই ডেকেছি। আবুল হোসেন আসেনি। সে নিজ উদ্যোগে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে জোর খাটিয়ে কবরস্হান দখল করার চেষ্টা করেছে। কবরস্হানে ভাঙচুর চালিয়েছে। একজন মুসলমান হিসেবে এটা কোনভাবেই ঠিক হয়নি। এটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে আমি মনে করি।