১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বার্মিজ পণ্যের নামে বিক্রি হয় দেশীয় পণ্য!

রাখাইনদের হাতে নেই কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ মার্কেট
কক্সবাজার রাখাইন সম্প্রদায়ের হাতে গড়ে উঠা ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ মার্কেট এখন রাখাইনদের হাতে নেই।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের বিভিন্নস্থানে বার্মিজ মার্কেট/ স্টোর চালু থাকলেও মূলত এসব বার্মিজ স্টোর বা মার্কেট রাখাইনদের হাতে নেই বললে চলে।
শহরের কয়েকটি বার্মিজ মার্কেট এলাকায় সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি বার্মিজ মার্কেটের বিভিন্ন শো-রুমে রাখাইন নারীদের দেখা গেলেও মুলত তাদের অধিকাংশ কর্মচারী হিসেবে চাকরি করছে।
বর্তমানে প্রাচীনতম বার্মিজ মার্কেট গুলোতে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা। বিষেষ করে সাতকানিয়া- লোহাগাড়া এলাকার ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাখাইন নেতৃবৃন্দরা জানান।
দেখা যায়, বার্মিজ মার্কেট নামক শব্দের নামটাই সাইনবোর্ডে ঝুলে আছে এখন।
সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আর শহরের বিভিন্ন পর্যটক স্পষ্টে বার্মিজ মার্কেট নাম ব্যবহার করে ভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা শো-রুম/ মার্কেট চালু করায় রাখাইন ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারাচ্ছে বলে জানান একাধিক রাখাইন ব্যবসায়ী।
তাদের অভিযোগ নামে বার্মিজ হলেও ঐসব দোকানে বার্মিজ পণ্য পাওয়া যায় না বাংলাদেশি পণ্যকে বার্মিজ পণ্য বলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এতে পর্যটকরা প্রতারিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এমনকি বার্মিজ মার্কেট নাম ব্যবহার করে অনেকে আচারের দোকান, আবার এখন ঝিনুকের দোকান খুলে বসে আছে। শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকায় দেখা যায় বেশিরভাগ দোকান শুটঁকি মাছের, অলিতে গলিতে এখন ব্যাঙের ছাতার মতো শুঁটকির দোকান গড়ে উঠেছে।
শুটকি মাছের গন্ধে, আগত পর্যটক ও স্হানীয় পথচারীরা নাক বন্ধ করে চলাফেরা করে।
  বার্মিজ মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাজার ঘাটার করিম বার্মিজ মার্কেট ও  বার্মিজ স্কুলের পাশে দুবাই বার্মিজ  মার্কেট ও সৌদিয়া বার্মিজ মার্কেটে এখনো পুরাতন কিছু রাখাইন ব্যবসায়ীরা বার্মিজ পণ্য নিয়ে তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আরো কয়েকটা মার্কেটে কিছু কিছু বার্মিজ দোকান চোখে পড়ে।
১৯৬৬ সালের দিকে উমে রাখাইন নামে কক্সবাজার শহরের এক জমিদার রাখাইন তরুণী  সর্ব প্রথম বার্মা থেকে কিছু পণ্য এনে একটা কাঠের দোকান ঘর তৈরি করে বার্মিজ পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন।
 পরবর্তীতে রাখাইন ষ্টোর ও ডায়মন্ড স্টোর নামে আরো দুটি বার্মিজ দোকান করেন আরো দুই রাখাইন।
  ১৯৮১ সালের শেষের দিকে এসে উমে রাখাইন টিন ও কাঠ দিয়ে  ৭/৮টি দোকান দিয়ে মার্কেট চালু করেন। পরবর্তী ১৯৮৫ সালে এসে পরিপূর্ণ একটি বার্মিজ মার্কেট ‘উমে বার্মিজ মার্কেট’ নামে বার্মিজ মার্কেট এর যাত্রা শুরু হয়।
কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী প্রথম উমে বার্মিজ মার্কেটের স্বতাধিকারী উমে রাখাইনের একমাত্র ছেলে বুবু রাখাইন বলেন, ” কক্সবাজারে তথা বাংলাদেশে সর্ব প্রথম আমার মা, বার্মিজ স্টোরের ব্যবসা শুরু করেন। আমার মা একজন নারী উদ্যোক্তা ও সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সরকারি, বেসরকারি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন”।
২০২২ সালের ২৬ মে, ৯২ বছর বয়সে উমে রাখাইন মারা যায়। তিনি আরো বলেন, এখন অহরহ বার্মিজ মার্কেট নামে হরেক রকম ব্যাবসা চলছে। রাখাইন ব্যবসায়ীরা পুঁজির অভাবে এখন দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। দেখেন আমাদের মার্কেটে মাত্র ১৩ টি দোকান চালু রয়েছে। বাকি ব্যাবসায়ীরা লোকসান দিতে দিতে এই ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে।
  উমে বার্মিজ মার্কেটের পুরাতন রাখাইন ব্যবসায়ী চেন চেন রাখাইন বলেন, “বার্মিজ মার্কেটে এখন আর তেমন পর্যটক আসেনা বেচা বিক্রিও আগের মত নেই। প্রতিযোগিতামূলক বাজার। নতুন নতুন মার্কেট গড়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে, বেশি বেশি টাকা সালামী দিয়ে সব দোকান তাদের দখলে নিয়ে গেছে। এতে করে আমরা তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা করতে পারছি না।
  দুবাই বুড়ি মার্কেটের পুরাতন ব্যবসায়ী মেমে রাখাইন বলেন,” রাখাইন সম্প্রদায়ের মেয়েরা এখন আর এই ব্যবসায় আসতে চাচ্ছে না। কম টাকায় উপজাতি মেয়েরা চাকরি করতে চাই না আবার আমাদের মূলধনও কম। সরকার বা এনজিও গুলো আমাদের ক্ষুদ্র ঋণ, সুদ মুক্ত ঋণ বা যে কোন প্রজেক্ট নিয়ে এগিয়ে আসলে আমরা আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারতাম বলে মনে করি।
  ঢাকার রামপুরা উলন রোড় থেকে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক নাসির আহমদ চৌধুরী   সাথে কথা বললে, ” তিনি জানান আমাদের দেখা আগের যে বার্মিজ মার্কেট এখন আর সেই বার্মিজ মার্কট নেই। শুধু শুটকি মার্কেট আর শুটকি মার্কেট। পরিবার নিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছি। পাঁচ, সাত বছর আগেও এসেছি, দেখেছি উপজাতি  মেয়েদের দোকান, মুখে চন্দন মেখে  তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পড়ে ভাঙ্গা ভাঙ্গা, অল্প অল্প বাংলা ভাষায় কথা বলা দেখে আগত পর্যটকরা কৌতুহলী হয়ে কেনাকাটা করতো।
  ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে বেড়াতে আসা রহমত উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কি আর বলবো যেদিকে যাই সেদিকেই বার্মিজ মার্কেট। নামে বেনামে বার্মিজ মার্কেট ঢাকা থেকে বিভিন্ন পণ্য কিনে এনে বার্মিজ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। তাও আবার কম দামি জিনিসপত্র, বেশি দাম হাঁকছেন।
  বার্মিজ মার্কেটে বার্মিজ দোকান ও বার্মিজ পণ্য না থাকায় পর্যটকরা ও এখন বার্মিজ মার্কেট বিমুখী হয়ে যাচ্ছে।
  কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ এম নজরুলের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন,” আমাদের কর্মপরিকল্পনা ও সদিচ্ছার অভাব। সরকার কিংবা চেম্বার অফ কমার্স চাইলে আমাদের সংস্কৃতি ধরে রাখা যায়। রাখাইনদের বার্মিজ মার্কেট আমাদের সংস্কৃতি। বার্মিজ মার্কেট এলাকায় রাখাইন হোক বা বাঙ্গালীর শুধু বার্মিজ পন্য নিয়ে বার্মিজ মার্কেট থাকবে। ঝিনুক আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের আলাদা ঝিনুক মার্কেট রয়েছে। শুটকি আমাদে ঐতিহ্য, যত্রতত্র শুটকির দোকান বা মার্কেট না করে আলাদা জোন করে দেওয়া হোক। এতে আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ধরে রেখে ব্যবসা করা যায়। পর্যটক বৃদ্ধি পাবে, আমাদের সুনাম অর্জন হবে।
  কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্স এন্ড  ইন্ড্রষ্টীর সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বলেন, ” সত্যি বলতে যুগের সাথে তালমিলিয়ে চলতে পারছেনা রাখাইনরা। নিত্য নতুন পণ্য ও প্রচারের যোগে তাদের আপডেট হওয়া দরকার। আমরাও চেষ্টা করছি তাদের ডেভেলাপ করার জন্য। রাখাইনদের হাতের তৈরি জিনিস পত্র নিয়ে আমরা তাদের সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্স একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেবো। তারা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে পরিচিতি করতে রাখাইন সম্প্রদায়ের ভুমিকা অপরিসীম। কক্সবাজারের ইতিহাস ঐতিহ্য রাখাইন সম্প্রদায় নিয়ে গোড়াপত্তন।
রাখাইনদের হাতে নেই কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ মার্কেট।
জনপ্রিয় সংবাদ

বার্মিজ পণ্যের নামে বিক্রি হয় দেশীয় পণ্য!

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪
কক্সবাজার রাখাইন সম্প্রদায়ের হাতে গড়ে উঠা ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ মার্কেট এখন রাখাইনদের হাতে নেই।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের বিভিন্নস্থানে বার্মিজ মার্কেট/ স্টোর চালু থাকলেও মূলত এসব বার্মিজ স্টোর বা মার্কেট রাখাইনদের হাতে নেই বললে চলে।
শহরের কয়েকটি বার্মিজ মার্কেট এলাকায় সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি বার্মিজ মার্কেটের বিভিন্ন শো-রুমে রাখাইন নারীদের দেখা গেলেও মুলত তাদের অধিকাংশ কর্মচারী হিসেবে চাকরি করছে।
বর্তমানে প্রাচীনতম বার্মিজ মার্কেট গুলোতে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা। বিষেষ করে সাতকানিয়া- লোহাগাড়া এলাকার ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাখাইন নেতৃবৃন্দরা জানান।
দেখা যায়, বার্মিজ মার্কেট নামক শব্দের নামটাই সাইনবোর্ডে ঝুলে আছে এখন।
সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আর শহরের বিভিন্ন পর্যটক স্পষ্টে বার্মিজ মার্কেট নাম ব্যবহার করে ভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা শো-রুম/ মার্কেট চালু করায় রাখাইন ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারাচ্ছে বলে জানান একাধিক রাখাইন ব্যবসায়ী।
তাদের অভিযোগ নামে বার্মিজ হলেও ঐসব দোকানে বার্মিজ পণ্য পাওয়া যায় না বাংলাদেশি পণ্যকে বার্মিজ পণ্য বলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এতে পর্যটকরা প্রতারিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এমনকি বার্মিজ মার্কেট নাম ব্যবহার করে অনেকে আচারের দোকান, আবার এখন ঝিনুকের দোকান খুলে বসে আছে। শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকায় দেখা যায় বেশিরভাগ দোকান শুটঁকি মাছের, অলিতে গলিতে এখন ব্যাঙের ছাতার মতো শুঁটকির দোকান গড়ে উঠেছে।
শুটকি মাছের গন্ধে, আগত পর্যটক ও স্হানীয় পথচারীরা নাক বন্ধ করে চলাফেরা করে।
  বার্মিজ মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাজার ঘাটার করিম বার্মিজ মার্কেট ও  বার্মিজ স্কুলের পাশে দুবাই বার্মিজ  মার্কেট ও সৌদিয়া বার্মিজ মার্কেটে এখনো পুরাতন কিছু রাখাইন ব্যবসায়ীরা বার্মিজ পণ্য নিয়ে তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আরো কয়েকটা মার্কেটে কিছু কিছু বার্মিজ দোকান চোখে পড়ে।
১৯৬৬ সালের দিকে উমে রাখাইন নামে কক্সবাজার শহরের এক জমিদার রাখাইন তরুণী  সর্ব প্রথম বার্মা থেকে কিছু পণ্য এনে একটা কাঠের দোকান ঘর তৈরি করে বার্মিজ পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন।
 পরবর্তীতে রাখাইন ষ্টোর ও ডায়মন্ড স্টোর নামে আরো দুটি বার্মিজ দোকান করেন আরো দুই রাখাইন।
  ১৯৮১ সালের শেষের দিকে এসে উমে রাখাইন টিন ও কাঠ দিয়ে  ৭/৮টি দোকান দিয়ে মার্কেট চালু করেন। পরবর্তী ১৯৮৫ সালে এসে পরিপূর্ণ একটি বার্মিজ মার্কেট ‘উমে বার্মিজ মার্কেট’ নামে বার্মিজ মার্কেট এর যাত্রা শুরু হয়।
কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী প্রথম উমে বার্মিজ মার্কেটের স্বতাধিকারী উমে রাখাইনের একমাত্র ছেলে বুবু রাখাইন বলেন, ” কক্সবাজারে তথা বাংলাদেশে সর্ব প্রথম আমার মা, বার্মিজ স্টোরের ব্যবসা শুরু করেন। আমার মা একজন নারী উদ্যোক্তা ও সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সরকারি, বেসরকারি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন”।
২০২২ সালের ২৬ মে, ৯২ বছর বয়সে উমে রাখাইন মারা যায়। তিনি আরো বলেন, এখন অহরহ বার্মিজ মার্কেট নামে হরেক রকম ব্যাবসা চলছে। রাখাইন ব্যবসায়ীরা পুঁজির অভাবে এখন দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। দেখেন আমাদের মার্কেটে মাত্র ১৩ টি দোকান চালু রয়েছে। বাকি ব্যাবসায়ীরা লোকসান দিতে দিতে এই ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে।
  উমে বার্মিজ মার্কেটের পুরাতন রাখাইন ব্যবসায়ী চেন চেন রাখাইন বলেন, “বার্মিজ মার্কেটে এখন আর তেমন পর্যটক আসেনা বেচা বিক্রিও আগের মত নেই। প্রতিযোগিতামূলক বাজার। নতুন নতুন মার্কেট গড়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে, বেশি বেশি টাকা সালামী দিয়ে সব দোকান তাদের দখলে নিয়ে গেছে। এতে করে আমরা তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা করতে পারছি না।
  দুবাই বুড়ি মার্কেটের পুরাতন ব্যবসায়ী মেমে রাখাইন বলেন,” রাখাইন সম্প্রদায়ের মেয়েরা এখন আর এই ব্যবসায় আসতে চাচ্ছে না। কম টাকায় উপজাতি মেয়েরা চাকরি করতে চাই না আবার আমাদের মূলধনও কম। সরকার বা এনজিও গুলো আমাদের ক্ষুদ্র ঋণ, সুদ মুক্ত ঋণ বা যে কোন প্রজেক্ট নিয়ে এগিয়ে আসলে আমরা আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারতাম বলে মনে করি।
  ঢাকার রামপুরা উলন রোড় থেকে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক নাসির আহমদ চৌধুরী   সাথে কথা বললে, ” তিনি জানান আমাদের দেখা আগের যে বার্মিজ মার্কেট এখন আর সেই বার্মিজ মার্কট নেই। শুধু শুটকি মার্কেট আর শুটকি মার্কেট। পরিবার নিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছি। পাঁচ, সাত বছর আগেও এসেছি, দেখেছি উপজাতি  মেয়েদের দোকান, মুখে চন্দন মেখে  তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পড়ে ভাঙ্গা ভাঙ্গা, অল্প অল্প বাংলা ভাষায় কথা বলা দেখে আগত পর্যটকরা কৌতুহলী হয়ে কেনাকাটা করতো।
  ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে বেড়াতে আসা রহমত উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কি আর বলবো যেদিকে যাই সেদিকেই বার্মিজ মার্কেট। নামে বেনামে বার্মিজ মার্কেট ঢাকা থেকে বিভিন্ন পণ্য কিনে এনে বার্মিজ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। তাও আবার কম দামি জিনিসপত্র, বেশি দাম হাঁকছেন।
  বার্মিজ মার্কেটে বার্মিজ দোকান ও বার্মিজ পণ্য না থাকায় পর্যটকরা ও এখন বার্মিজ মার্কেট বিমুখী হয়ে যাচ্ছে।
  কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ এম নজরুলের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন,” আমাদের কর্মপরিকল্পনা ও সদিচ্ছার অভাব। সরকার কিংবা চেম্বার অফ কমার্স চাইলে আমাদের সংস্কৃতি ধরে রাখা যায়। রাখাইনদের বার্মিজ মার্কেট আমাদের সংস্কৃতি। বার্মিজ মার্কেট এলাকায় রাখাইন হোক বা বাঙ্গালীর শুধু বার্মিজ পন্য নিয়ে বার্মিজ মার্কেট থাকবে। ঝিনুক আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের আলাদা ঝিনুক মার্কেট রয়েছে। শুটকি আমাদে ঐতিহ্য, যত্রতত্র শুটকির দোকান বা মার্কেট না করে আলাদা জোন করে দেওয়া হোক। এতে আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ধরে রেখে ব্যবসা করা যায়। পর্যটক বৃদ্ধি পাবে, আমাদের সুনাম অর্জন হবে।
  কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্স এন্ড  ইন্ড্রষ্টীর সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বলেন, ” সত্যি বলতে যুগের সাথে তালমিলিয়ে চলতে পারছেনা রাখাইনরা। নিত্য নতুন পণ্য ও প্রচারের যোগে তাদের আপডেট হওয়া দরকার। আমরাও চেষ্টা করছি তাদের ডেভেলাপ করার জন্য। রাখাইনদের হাতের তৈরি জিনিস পত্র নিয়ে আমরা তাদের সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্স একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেবো। তারা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে পরিচিতি করতে রাখাইন সম্প্রদায়ের ভুমিকা অপরিসীম। কক্সবাজারের ইতিহাস ঐতিহ্য রাখাইন সম্প্রদায় নিয়ে গোড়াপত্তন।
রাখাইনদের হাতে নেই কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ মার্কেট।