০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরের হাড়িভাঙা বাজারে আসবে ২০ জুন

জ্যৈষ্ঠ মাসকে মধু মাস বলা হয়। আর মধু মাস আসলেই মনে পড়ে আমসহ নানা রকম মৌসুমি ফলের কথা। আমের কথা আসলেই মনে পড়ে রংপুরের হাঁড়িভাঙা আমের স্বাদ। ফজলি, সাদা ল্যাংড়া, কালা ল্যাংড়া, মিশ্রিভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালিসহ আরও নানা প্রজাতির আম উৎপাদন হয়। এসব আমের ভিড়ে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা হাঁড়িভাঙার। রংপুরে হাঁড়িভাঙা আম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর পরেই এই আমের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। চলতি জুন মাসের ২০ তারিখে বাজারে মিলবে পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম। কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, জুনের ২০ তারিখে বাজারে মিলবে হাঁড়িভাঙা আম। এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব হবে। হাঁড়িভাঙার প্রকৃত স্বাদ পেতে জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। হাঁড়িভাঙা আম সংরক্ষণে গবেষণা জরুরি বলে মনে করে চাষিরা।

ব্যবসায়ীগণ বলেন, হাড়িভাঙ্গা আম পরিবহণের জন্য বিশেষ বাস ও ট্রেন সার্ভিস চালু দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আম চাষিরা বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের রাজধানীখ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ হাটের রাস্তাঘাটের সংস্কার এবং হাটে আম বিক্রয়ের শেড নির্মাণ, ব্যাংকিং সুবিধা বাড়ানো, পাবলিক টয়লেট স্থাপন ও বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে ব্যবসায়ীগণ সহজে ক্রয় করে পরিবহন করতে পারবেন। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোঁড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জ এলাকাকে বলা হয় হাঁড়িভাঙা আমের রাজধানী। এখন মিঠাপুকুরের রানীপুকুর, আখিরাহাট, রূপসী, সর্দারপাড়া, পাইকারেরহাট, রুকনীগঞ্জ, বড়বালা, বালুয়া মাসিমপুর, লতিবপুর, ময়েনপুরসহ বদরগঞ্জের নাগেরহাট, কুতুবপুর, গোপালপুর, শ্যামপুর ও সদরের পালিচড়া এলাকায় হাঁড়িভাঙা আমের ব্যাপক চাষ হয়েছে।

এছাড়াও রংপুরের পীরগঞ্জ, রংপুর সদর, পীরগাছা, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, কাউনিয়াসহ দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে এ হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বিস্তৃত হয়েছে। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম। জুনের ২০ জুন থেকে গাছ থেকে পাড়া শুরু হবে। হাঁড়িভাঙার আনুষ্ঠানিক বাজারজাত শুরু হবে। রংপুর অ লের মানুষ এখন অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভের আশায় উঁচু-নিচু ও পরিত্যক্ত জমিতে হাঁড়িভাঙা আম চাষের দিকে ঝুঁকছেন। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, চলতি বছর রংপুর জেলায় ৩ হাজার ৩৫৯ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙার চাষ করা হয়েছে ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে। এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৭১০ টন। শুরুর দিকে প্রতি কেজি আম ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রয় হয়ে থাকে। তবে আমের আকার ও পরিস্থিতিতে অনেক সময় দামের কমবেশি হতে পারে। হাঁড়িভাঙা আম সংরক্ষণে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা করছে। তবে কবে নাগাদ গবেষণার ফল পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। হাঁড়িভাঙা আমের লাইফলাইন নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গবেষণামূলক কাজ করা হচ্ছে।

মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ ইউনিনের তেকানি গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, প্রায় ৮০ বছর আগে তার বাবা নফল উদ্দিন এই গাছটি রোপণ করেছিলেন। তিনি বলেন, শতবছর আগে মিঠাপুকুরের বালুয়া মাসুমপুর এলাকার জমিদার ছিলেন তাজ বাহাদুর সিংহ। তিনি খুব সৌখিন মানুষ ছিলেন। তার একটি ফলের বাগান ছিল। এই বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফল ছিল। পেশাদার কিছু আম ব্যবসায়ী তার বাগান থেকে আম নিয়ে পদাগঞ্জ হাটে বিক্রয় করতো। সেখান থেকে তার বাবা এই হাঁড়িভাঙা আম ক্রয় করে চাষ শুরু করেন। আমটি খুবই সুস্বাদু হওয়ায় তৎকালীন আমলে ৫ টাকা দিয়ে একশ আম ক্রয় করেন এবং আম খাওয়ার পর আমের আঁটি থেকে চারা গজায়। ভাঙা হাড়ির টুকরোর মাঝখানে গাছটি জন্মেছিল বলে গাছটির নামকরণ করা হয় হাঁড়িভাঙা। তখন থেকেই এ অ লে হাঁড়িভাঙা আমের যাত্র শুরু হয়। সেই গাছটি এখন পর্যন্ত জীবিত রয়েছে এবং ফলও দিচ্ছে। আমজাদ হোসেন হাঁড়িভাঙা আমের জনক হিসেবে তার বাবার স্বীকৃতি দাবি করেন। ৭৫ বছর আগের হাঁড়িভাঙা আমের যাত্রা শুরু হলেও ১৯৯২ সাল থেকে রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের সম্প্রসারণ শুরু হয়। হাঁড়িভাঙা আমের সম্প্রসারক আব্দুস ছালাম। তিনি হাঁড়িভাঙাআমের ব্যাপক সম্প্রসারণ করেন। প্রতি হেক্টরে প্রায় ১০/১২ মেট্রিকটন আম উৎপাদন হয়। এ বছর দুইশত কোটি টাকার হাড়িভাঙা আম বিক্রয়ের আশা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ ‘জুলাই যোদ্ধা’ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন

রংপুরের হাড়িভাঙা বাজারে আসবে ২০ জুন

আপডেট সময় : ১১:১৯:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪

জ্যৈষ্ঠ মাসকে মধু মাস বলা হয়। আর মধু মাস আসলেই মনে পড়ে আমসহ নানা রকম মৌসুমি ফলের কথা। আমের কথা আসলেই মনে পড়ে রংপুরের হাঁড়িভাঙা আমের স্বাদ। ফজলি, সাদা ল্যাংড়া, কালা ল্যাংড়া, মিশ্রিভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালিসহ আরও নানা প্রজাতির আম উৎপাদন হয়। এসব আমের ভিড়ে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা হাঁড়িভাঙার। রংপুরে হাঁড়িভাঙা আম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর পরেই এই আমের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। চলতি জুন মাসের ২০ তারিখে বাজারে মিলবে পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম। কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, জুনের ২০ তারিখে বাজারে মিলবে হাঁড়িভাঙা আম। এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব হবে। হাঁড়িভাঙার প্রকৃত স্বাদ পেতে জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। হাঁড়িভাঙা আম সংরক্ষণে গবেষণা জরুরি বলে মনে করে চাষিরা।

ব্যবসায়ীগণ বলেন, হাড়িভাঙ্গা আম পরিবহণের জন্য বিশেষ বাস ও ট্রেন সার্ভিস চালু দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আম চাষিরা বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের রাজধানীখ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ হাটের রাস্তাঘাটের সংস্কার এবং হাটে আম বিক্রয়ের শেড নির্মাণ, ব্যাংকিং সুবিধা বাড়ানো, পাবলিক টয়লেট স্থাপন ও বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে ব্যবসায়ীগণ সহজে ক্রয় করে পরিবহন করতে পারবেন। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোঁড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জ এলাকাকে বলা হয় হাঁড়িভাঙা আমের রাজধানী। এখন মিঠাপুকুরের রানীপুকুর, আখিরাহাট, রূপসী, সর্দারপাড়া, পাইকারেরহাট, রুকনীগঞ্জ, বড়বালা, বালুয়া মাসিমপুর, লতিবপুর, ময়েনপুরসহ বদরগঞ্জের নাগেরহাট, কুতুবপুর, গোপালপুর, শ্যামপুর ও সদরের পালিচড়া এলাকায় হাঁড়িভাঙা আমের ব্যাপক চাষ হয়েছে।

এছাড়াও রংপুরের পীরগঞ্জ, রংপুর সদর, পীরগাছা, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, কাউনিয়াসহ দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে এ হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বিস্তৃত হয়েছে। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম। জুনের ২০ জুন থেকে গাছ থেকে পাড়া শুরু হবে। হাঁড়িভাঙার আনুষ্ঠানিক বাজারজাত শুরু হবে। রংপুর অ লের মানুষ এখন অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভের আশায় উঁচু-নিচু ও পরিত্যক্ত জমিতে হাঁড়িভাঙা আম চাষের দিকে ঝুঁকছেন। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, চলতি বছর রংপুর জেলায় ৩ হাজার ৩৫৯ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙার চাষ করা হয়েছে ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে। এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৭১০ টন। শুরুর দিকে প্রতি কেজি আম ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রয় হয়ে থাকে। তবে আমের আকার ও পরিস্থিতিতে অনেক সময় দামের কমবেশি হতে পারে। হাঁড়িভাঙা আম সংরক্ষণে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা করছে। তবে কবে নাগাদ গবেষণার ফল পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। হাঁড়িভাঙা আমের লাইফলাইন নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গবেষণামূলক কাজ করা হচ্ছে।

মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ ইউনিনের তেকানি গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, প্রায় ৮০ বছর আগে তার বাবা নফল উদ্দিন এই গাছটি রোপণ করেছিলেন। তিনি বলেন, শতবছর আগে মিঠাপুকুরের বালুয়া মাসুমপুর এলাকার জমিদার ছিলেন তাজ বাহাদুর সিংহ। তিনি খুব সৌখিন মানুষ ছিলেন। তার একটি ফলের বাগান ছিল। এই বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফল ছিল। পেশাদার কিছু আম ব্যবসায়ী তার বাগান থেকে আম নিয়ে পদাগঞ্জ হাটে বিক্রয় করতো। সেখান থেকে তার বাবা এই হাঁড়িভাঙা আম ক্রয় করে চাষ শুরু করেন। আমটি খুবই সুস্বাদু হওয়ায় তৎকালীন আমলে ৫ টাকা দিয়ে একশ আম ক্রয় করেন এবং আম খাওয়ার পর আমের আঁটি থেকে চারা গজায়। ভাঙা হাড়ির টুকরোর মাঝখানে গাছটি জন্মেছিল বলে গাছটির নামকরণ করা হয় হাঁড়িভাঙা। তখন থেকেই এ অ লে হাঁড়িভাঙা আমের যাত্র শুরু হয়। সেই গাছটি এখন পর্যন্ত জীবিত রয়েছে এবং ফলও দিচ্ছে। আমজাদ হোসেন হাঁড়িভাঙা আমের জনক হিসেবে তার বাবার স্বীকৃতি দাবি করেন। ৭৫ বছর আগের হাঁড়িভাঙা আমের যাত্রা শুরু হলেও ১৯৯২ সাল থেকে রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের সম্প্রসারণ শুরু হয়। হাঁড়িভাঙা আমের সম্প্রসারক আব্দুস ছালাম। তিনি হাঁড়িভাঙাআমের ব্যাপক সম্প্রসারণ করেন। প্রতি হেক্টরে প্রায় ১০/১২ মেট্রিকটন আম উৎপাদন হয়। এ বছর দুইশত কোটি টাকার হাড়িভাঙা আম বিক্রয়ের আশা করা হচ্ছে।