০২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিলুপ্ত বন পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব

????????????????????????????????????????

➤ দেশ সবুজায়নে চলছে গাছ লাগানো কার্যক্রম
➤ ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ বৃক্ষাচ্ছাদনের লক্ষ্যমাত্রা
➤ এবার ৮ কোটি ২২ লাখ চারা রোপণের টার্গেট
➤বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলবে অক্টোবর পর্যন্ত

❖বনের মাটির উপযোগী দেশজ প্রজাতির গাছগুলো আমরা লাগিয়ে থাকি : মো. মঈনুদ্দীন খান, উপপ্রধান বন সংরক্ষক, বন অধিদপ্তর

সারাদেশ সবুজময় করে গড়ে তুলতে দেশজুড়ে গাছ লাগানো কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বন পুনরুদ্ধারে জোর দিচ্ছে বন অধিদপ্তর। একইসঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ২২ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে বৃক্ষাচ্ছাদন ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. মঈনুদ্দীন খান বলেন, গাছ লাগানোর বিষয়টা আমাদের প্রতিবছরের নিয়মিত কাজ। আমরা মূলত বর্ষা মৌসুমে গাছ লাগাই। এই সময় আমাদের বনায়নটা হয়। এই বছরও বর্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই এই জুন মাসে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বনায়ন শুরু হয়েছে। আমরা এখন ২০৩০ সাল নাগাদ সারাদেশে বৃক্ষাচ্ছাদনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি। বর্তমানে সারা দেশে বৃক্ষাচ্ছাদনের হার ২২ দশমিক তিন সাত শতাংশ। আমরা ২০৩০ সাল নাগাদ এই বৃক্ষাচ্ছাদন ৩০ শতাংশে উন্নীত করব। এই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, আমরা এবছর ৮ কোটি ২২ লাখ ২৭ হাজার চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। বর্ষাকালে বৃষ্টি শুরু হলে এই চারারোপণ করা হয়। যেহেতু বৃষ্টি শুরু হয়েছে তাই অধিকাংশ চারা রোপণ করা হয়ে গেছে। মূলত বর্ষাকালে অর্থাৎ জুন মাসে বৃষ্টি শুরু হলে গাছ লাগানোর কাজ শুরু হয়। গাছ লাগানোর পর বৃষ্টি না হলে অনেক গাছ মারাও যায়। তখন আমরা রিপ্ল্যান্টিং করি। জুন মাসে প্রথম পর্বে গাছ লাগানোর পর আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে মারা যাওয়া গাছের জায়গায় পুনরায় গাছ লাগানো হয়।

তিনি বলেন, মূলত বন অধিদপ্তর বনায়ন করে। আমরা দেশের বনজ সম্পদের সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টা দেখি। গত ২০০৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত অর্থবছরে ২ লাখ ১৭ হাজার ৪০২ হেক্টর ব্লক বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে আড়াই হাজার চারা ধরে সারা দেশে ৫৪ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। ৩০ হাজার ২৫২ কিলোমিটার সিবলিং বাগান স্ট্রিপ বাগান করা হয়েছে। এতে প্রতি সিবলিং কিলোমিটারে এক হাজার চারা ধরে মোট চারা লাগানো হয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ ৫২ হাজার। উপকূলীয় বনায়নে ৮৯,৮৫৩ হেক্টর সামাজিক বনায়নে ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সময়ে ১,৬০,৬৯৯ জন উপকারভোগীর মধ্যে লভ্যাংশ ৩২৬ কোটি ৯৫ লাখ ৪৬ হাজার ১১৪ টাকা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা জবরদখল হয়ে যাওয়া বনগুলোকে জবরদখলমুক্ত করতে নিয়মিত কাজ করে আসছি। ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ হাজার একর বনভূমি জবরদখলমুক্ত করে বনায়ন করেছি। আমরা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছি। বন সংরক্ষণ আইন ২০১২-এর আওতায় ৫৩টি রক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা বননির্ভর জনগোষ্ঠীকে ফরেস্ট ম্যানেজমেন্টের আওতায় নিয়ে এসেছি। তারা এখন বন ব্যবস্থাপনায় অংশ নিচ্ছে। আমরা তিনটি ধাপে কাজ করছি, এগুলো হচ্ছে সামাজিক বনায়ন, সহব্যবস্থাপনা ও সহযোগিতামূলক বন ব্যবস্থাপনা। সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে অরক্ষিত বনায়ন ও অব্যবহৃত প্রান্তিক ভূমিকে ব্যবহার করতে কাজ করছি। সারাদেশের রাস্তার পাশের যে জায়গাগুলো আছে এগুলো সামাজিক বনায়নের জায়গা। আমরা ৫৩টি রক্ষিত বনের মধ্যে ২২টিতে সহ বন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চালু করেছি। সহযোগিতামূলক বন ব্যবস্থাপনামূলক কার্যক্রম ২০১৯ সাল থেকে সুফল প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে। ৮৫ হাজার হেক্টরের বেশি অরক্ষিত বনে দেশীয় প্রজাতির দ্বারা বন পুন: প্রতিষ্ঠা করছি। বন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় বননির্ভর জনগোষ্ঠীকে ৬১৫টি বন সংরক্ষণ গ্রামের আওতায় আনা হয়েছে। এদের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (সিডিএফ) ও লিভলিহুড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (সিডিএফ) এর আওতায় বন ব্যবস্থাপনা ও স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। বনের উপর নির্ভরশীলতা আছে এমন পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা অন্য পেশায় যেতে উদ্বুদ্ধ করছি। আমাদের দুটো কার্যক্রম এখন চলমান আছে। ন্যাশনাল ফরেস্ট ইনভেন্টরি ও বাঘ গণনা কার্যক্রম। বাঘ গননা কার্যক্রমের আওতায় প্রথম পর্বে ১০৬টি বাঘ শনাক্ত হয়েছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্যায়ের গণনায় ১১৪টি বাঘ শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে এর তৃতীয় পর্যায়ের গণনা কার্যক্রম চলছে। বনে কাজ করা মৌয়ালী, বাওয়ালীদের কাছে থেকে শোনা কথায় এবং পর্যটকদের দেয়া ভিডিও ও ছবি দেখে আমরা ধারণা করছি যে, এবারের গণনায় বাঘের সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ছে। আমরা দেখেছি, মা বাঘের সঙ্গে ৩-৪ জন শিশু বাঘ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই দৃশ্য আমাদের বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির ইংগিত দিচ্ছে। আগে আমরা বাঘের পায়ের ছাপ দেখে বাঘ গণনা করতাম। এই ছাপের মাধ্যমে গণনায় সংখ্যাটা সব সময় ঠিক থাকত না। পরবর্তীতে ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের গণনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম শুধু পাহাড়ের তিন জেলা ছাড়া বাকি সবগুলো জেলাতে চালু রয়েছে। তবে, আমরা আশাবাদী, পাহাড়েও আমরা এই সুযোগ পাব। বন পুনঃপ্রতিষ্ঠা কার্যক্রমের আওতায় বনগুলোকে আমরা পর্যবেক্ষণ করি। যেসব এলাকায় বাগান আছে কিন্তু বিক্ষিপ্তভাবে আছে সেসব এলাকায় আমরা সেগুলোর ফাঁকা স্থানগুলোতে গাছ লাগিয়ে দিই। সাইট স্পেসিফিক প্ল্যানিংয়ের আওতায় যে এলাকায় যে গাছ ছিল তার কাছাকাছি অন্যান্য যে গাছগুলো যেমন শাল বন যেখানে ছিল সেখানে শালের পাশাপাশি, ঐ মাটির উপযোগী গজারি, বহেড়া, মহুয়া, জারুল গাছ, কড়ই গাছ এগুলো লাগাই। ঐ মাটির উপযোগী দেশজ প্রজাতির যে গাছগুলো হয়, সেগুলোই আমরা লাগিয়ে থাকি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিলুপ্ত বন পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

➤ দেশ সবুজায়নে চলছে গাছ লাগানো কার্যক্রম
➤ ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ বৃক্ষাচ্ছাদনের লক্ষ্যমাত্রা
➤ এবার ৮ কোটি ২২ লাখ চারা রোপণের টার্গেট
➤বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলবে অক্টোবর পর্যন্ত

❖বনের মাটির উপযোগী দেশজ প্রজাতির গাছগুলো আমরা লাগিয়ে থাকি : মো. মঈনুদ্দীন খান, উপপ্রধান বন সংরক্ষক, বন অধিদপ্তর

সারাদেশ সবুজময় করে গড়ে তুলতে দেশজুড়ে গাছ লাগানো কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বন পুনরুদ্ধারে জোর দিচ্ছে বন অধিদপ্তর। একইসঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ২২ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে বৃক্ষাচ্ছাদন ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. মঈনুদ্দীন খান বলেন, গাছ লাগানোর বিষয়টা আমাদের প্রতিবছরের নিয়মিত কাজ। আমরা মূলত বর্ষা মৌসুমে গাছ লাগাই। এই সময় আমাদের বনায়নটা হয়। এই বছরও বর্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই এই জুন মাসে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বনায়ন শুরু হয়েছে। আমরা এখন ২০৩০ সাল নাগাদ সারাদেশে বৃক্ষাচ্ছাদনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি। বর্তমানে সারা দেশে বৃক্ষাচ্ছাদনের হার ২২ দশমিক তিন সাত শতাংশ। আমরা ২০৩০ সাল নাগাদ এই বৃক্ষাচ্ছাদন ৩০ শতাংশে উন্নীত করব। এই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, আমরা এবছর ৮ কোটি ২২ লাখ ২৭ হাজার চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। বর্ষাকালে বৃষ্টি শুরু হলে এই চারারোপণ করা হয়। যেহেতু বৃষ্টি শুরু হয়েছে তাই অধিকাংশ চারা রোপণ করা হয়ে গেছে। মূলত বর্ষাকালে অর্থাৎ জুন মাসে বৃষ্টি শুরু হলে গাছ লাগানোর কাজ শুরু হয়। গাছ লাগানোর পর বৃষ্টি না হলে অনেক গাছ মারাও যায়। তখন আমরা রিপ্ল্যান্টিং করি। জুন মাসে প্রথম পর্বে গাছ লাগানোর পর আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে মারা যাওয়া গাছের জায়গায় পুনরায় গাছ লাগানো হয়।

তিনি বলেন, মূলত বন অধিদপ্তর বনায়ন করে। আমরা দেশের বনজ সম্পদের সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টা দেখি। গত ২০০৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত অর্থবছরে ২ লাখ ১৭ হাজার ৪০২ হেক্টর ব্লক বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে আড়াই হাজার চারা ধরে সারা দেশে ৫৪ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। ৩০ হাজার ২৫২ কিলোমিটার সিবলিং বাগান স্ট্রিপ বাগান করা হয়েছে। এতে প্রতি সিবলিং কিলোমিটারে এক হাজার চারা ধরে মোট চারা লাগানো হয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ ৫২ হাজার। উপকূলীয় বনায়নে ৮৯,৮৫৩ হেক্টর সামাজিক বনায়নে ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সময়ে ১,৬০,৬৯৯ জন উপকারভোগীর মধ্যে লভ্যাংশ ৩২৬ কোটি ৯৫ লাখ ৪৬ হাজার ১১৪ টাকা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা জবরদখল হয়ে যাওয়া বনগুলোকে জবরদখলমুক্ত করতে নিয়মিত কাজ করে আসছি। ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ হাজার একর বনভূমি জবরদখলমুক্ত করে বনায়ন করেছি। আমরা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছি। বন সংরক্ষণ আইন ২০১২-এর আওতায় ৫৩টি রক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা বননির্ভর জনগোষ্ঠীকে ফরেস্ট ম্যানেজমেন্টের আওতায় নিয়ে এসেছি। তারা এখন বন ব্যবস্থাপনায় অংশ নিচ্ছে। আমরা তিনটি ধাপে কাজ করছি, এগুলো হচ্ছে সামাজিক বনায়ন, সহব্যবস্থাপনা ও সহযোগিতামূলক বন ব্যবস্থাপনা। সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে অরক্ষিত বনায়ন ও অব্যবহৃত প্রান্তিক ভূমিকে ব্যবহার করতে কাজ করছি। সারাদেশের রাস্তার পাশের যে জায়গাগুলো আছে এগুলো সামাজিক বনায়নের জায়গা। আমরা ৫৩টি রক্ষিত বনের মধ্যে ২২টিতে সহ বন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চালু করেছি। সহযোগিতামূলক বন ব্যবস্থাপনামূলক কার্যক্রম ২০১৯ সাল থেকে সুফল প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে। ৮৫ হাজার হেক্টরের বেশি অরক্ষিত বনে দেশীয় প্রজাতির দ্বারা বন পুন: প্রতিষ্ঠা করছি। বন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় বননির্ভর জনগোষ্ঠীকে ৬১৫টি বন সংরক্ষণ গ্রামের আওতায় আনা হয়েছে। এদের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (সিডিএফ) ও লিভলিহুড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (সিডিএফ) এর আওতায় বন ব্যবস্থাপনা ও স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। বনের উপর নির্ভরশীলতা আছে এমন পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা অন্য পেশায় যেতে উদ্বুদ্ধ করছি। আমাদের দুটো কার্যক্রম এখন চলমান আছে। ন্যাশনাল ফরেস্ট ইনভেন্টরি ও বাঘ গণনা কার্যক্রম। বাঘ গননা কার্যক্রমের আওতায় প্রথম পর্বে ১০৬টি বাঘ শনাক্ত হয়েছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্যায়ের গণনায় ১১৪টি বাঘ শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে এর তৃতীয় পর্যায়ের গণনা কার্যক্রম চলছে। বনে কাজ করা মৌয়ালী, বাওয়ালীদের কাছে থেকে শোনা কথায় এবং পর্যটকদের দেয়া ভিডিও ও ছবি দেখে আমরা ধারণা করছি যে, এবারের গণনায় বাঘের সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ছে। আমরা দেখেছি, মা বাঘের সঙ্গে ৩-৪ জন শিশু বাঘ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই দৃশ্য আমাদের বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির ইংগিত দিচ্ছে। আগে আমরা বাঘের পায়ের ছাপ দেখে বাঘ গণনা করতাম। এই ছাপের মাধ্যমে গণনায় সংখ্যাটা সব সময় ঠিক থাকত না। পরবর্তীতে ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের গণনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম শুধু পাহাড়ের তিন জেলা ছাড়া বাকি সবগুলো জেলাতে চালু রয়েছে। তবে, আমরা আশাবাদী, পাহাড়েও আমরা এই সুযোগ পাব। বন পুনঃপ্রতিষ্ঠা কার্যক্রমের আওতায় বনগুলোকে আমরা পর্যবেক্ষণ করি। যেসব এলাকায় বাগান আছে কিন্তু বিক্ষিপ্তভাবে আছে সেসব এলাকায় আমরা সেগুলোর ফাঁকা স্থানগুলোতে গাছ লাগিয়ে দিই। সাইট স্পেসিফিক প্ল্যানিংয়ের আওতায় যে এলাকায় যে গাছ ছিল তার কাছাকাছি অন্যান্য যে গাছগুলো যেমন শাল বন যেখানে ছিল সেখানে শালের পাশাপাশি, ঐ মাটির উপযোগী গজারি, বহেড়া, মহুয়া, জারুল গাছ, কড়ই গাছ এগুলো লাগাই। ঐ মাটির উপযোগী দেশজ প্রজাতির যে গাছগুলো হয়, সেগুলোই আমরা লাগিয়ে থাকি।